Monday, 20 August 2018

 

লায়লাতুল কদরের ফজীলত এবং মুমিনদের করণীয়

এগ্রিলাইফ২৪ ডটকম: পবিত্র মাহে রমজানের শেষ প্রান্তে আমরা।আর রমজানের শেষ দশকেই রয়েছে এক মহিমান্বিত রজনী, যাকে কুরআনের ভাষায় লায়লাতুল কদর এবং লায়লাতুন মুবারকাহ বলে অবহিত করা হয়েছে এবং তাকে এক হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম বলা হয়েছে।

লায়লাতুন অর্থ, রাত্রি, রজনী। এর মাহাত্ম ও সম্মানের কারণে একে লায়লাতুল কদর তথা মহিমান্বিত রাত বলা হয়। হজরত আবু বকর ওয়াররাক রহ বলেন, এ রাত্রিকে লায়লাতুল কদর বলার কারণ এই যে, আমল না করার কারণে এর পূর্বে যার কোন সম্মান ও মূল্য ছিলো না, সে এ রাত্রিতে তওবা-ইস্তেগফার ও ইবাদতের মাধ্যমে সম্মানীত হয়ে যায়।

লায়লাতুল কদরের ফজীলত

১.  এ রাতের মর্যাদা ও মাহাত্মের জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, আল্লাহ তাআলা এ রাত সম্পর্কে একটি পূর্ণ সূরা (সূরা আল-কদর)অবতীর্ণ করেছেন, যা কিয়ামত পর্যন্ত পঠিত থাকবে।

২. লায়লাতুল কদরের ফজীলতের অন্যতম কারণ হচ্ছে, আল্লাহ তাআলা এ রাতে মানবজাতির পথপ্রদর্শনের জন্য পবিত্র কুরআনের মতো বিরাট নেয়ামত নাযিল করেছেন। এর চেয়ে বৃহত্তর কোনো নেয়ামত না মানুষ ধারণা করতে পারে, না কামনা করতে পারে। এ মঙ্গল ও বরকত এবং মহত্ব ও ফজীলতের ভিত্তিতেই পবিত্র কুরআন তাকে এক হাজার মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠতর বলে ঘোষণা করেছে। মহান আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেন, লায়লাতুল কদর হাজার মাস অপো শ্রেষ্ঠ। (অর্থাৎ, তিরাশি বছরের চেয়েও এর মূল্য বেশী) (সূরা আল-কদর)

৩. হযরত আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূল করীম সা. ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি কদরের রাতে ঈমানের সাথে এবং আল্লাহর কাছে প্রতিদানের আশায় ইবাদতের জন্য দাঁড়াবে, তার পেছনের সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে। (সহীহ বুখারী ও মুসলিম শরীফ)

৪. মুসনাদে আহমদ ইবনে হাম্বলে বর্ণিত হাদীস শরীফে পেছনের গুনাহের সাথে-সাথে আগের গুনাহসমূহ মাফ করে দেওয়ার কথাও উল্লেখ রয়েছে।
একটি হাদীসে আছে, নবী করীম সা. ইরশাদ করেন, যখন লায়লাতুল কদর আসে, তখন জিবরাঈল আ. অন্যান্য ফেরেশতাগণের সাথে যমীনে নেমে আসেন এবং প্রত্যেক ঐ বান্দাহর জন্যে রহমত ও মাগফেরাতের দোআ করেন, যারা দাঁড়িয়ে, বসে আল্লাহর ইবাদত-বন্দেগীতে রত রয়েছেন। (বায়হাকীশরীফ)

৫. অন্য একটি হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, নবী করীম সা. ইরশাদ করেন, হে লোকসকল! তোমাদের মধ্যে এমন এক রাত এসেছে, যা হাজার মাস থেকেও উত্তম। যে ব্যক্তি এ রাতের কল্যাণ থেকে বঞ্চিত রইলো, সে সকল প্রকার কল্যাণ থেকেই বঞ্চিত রয়ে গেলো। (সুনানে ইবনে মাজাহ শরীফ)

শবে কদরে আমাদের করণীয়:-
১. এ রাতে বেশী-বেশী দোআ করা। হাদীস শরীফে আছে, হযরত আয়েশা রা. নবী করীম সা. কে জিজ্ঞেস করলেন. শবে কদরে আমি কী দোআ করতে পারি? রাসূল সা. বললেন, তুমি এই দোআ পড়বে. আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুয়ুন, তুহিব্বুল আফওয়া, ফা’অফু আন্নি,

অর্থ, হে আল্লাহ! আপনি ক্ষমাশীল, ক্ষমাকে ভালবাসেন, অবএব, আমাকে ক্ষমা করুন (তিরমিজী শরীফ)

২. বেশী-বেশী কুরআন তেলাওয়াত করা।

৩. তাহলীল (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মদুর রাসূলূল্লাহ ) বেশী-বেশী করে পড়া

৪. তাসবীহ (সুবহানাল্লাহি ওয়াবিহামদিহি সুবহানাল্লাহিল আজীম ) বেশী বেশী পড়া

৫. দরুদ শরীফ পড়া। ৬. নফল নামাজ বেশী-বেশী আদায় করা। যথা তাহাজ্জুদের নামাজ, সলাতুত তাসবীহ, সলাতুল হাজত।

এ রজনীতে আল্লাহপ্রেমিক বান্দাগণ নিজেদের অতীত অপরাধসমূহের জন্য অনুতাপ ও আত্মসমালোচনার  মাধ্যমে আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি অর্জনের প্রচেষ্টা করে থাকেন।
মহান রাব্বুল আলামীন আমাদেরকে এই অতুলনীয়, মর্যাদাময় রজনীর ফায়দা লাভের মাধ্যমে নিজেদের অতীত জীবনের ভুল-ক্রুটি মা ও নেকীর ভান্ডারকে সমৃদ্ধ করার তাওফীক দান করুন। -আমীন