Friday, 15 December 2017

 

তওবা মানুষকে খাঁটিতে পরিণত করে

এগ্রিলাইফ২৪ ডটকম:তওবা (আরবি: توبة‎) একটি আরবি শব্দ যার অর্থ প্রত্যাবর্তন করা, ফিরে আসা। কোরআন এবং হাদীসে শব্দটি আল্লাহর নিষেধকৃত বিষয়সমূহ ত্যাগ করা ও তার আদেশকৃত বিষয়সমূহর দিকে ফিরে আসা বোঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে।

 

ইসলামী শরীয়তে এর অর্থ অতীত পাপকাজ থেকে ফিরে আসা এবং ভবিষ্যতে তা না করার দৃঢ় সংকল্প করাই হচ্ছে তওবা। কোরআনের সূরা ৬৬ আয়াত ০৮-তে তওবা শব্দটি ′নাসূহ (نصوح) শব্দ সহকারে ব্যবহৃত হয়েছে যার অর্থ খাটি। সুতরাং, তওবার তাৎপর্য হল আন্তরিক অনুশোচনা।

কুরআনের একটি পূর্ণাঙ্গ সূরার নামকরণ করা হয়েছে সূরা তওবা। এছাড়া সূরা নুর, সূরা সূরা তাহরিম, সূরা বাকারা, সূরা ফুসিসলাত, সূরা হুদ, সূরা ফুরকানসহ কুরআনের আরও অনেক স্থানে তওবা এবং এর গুরুত্ব উল্লেখ করা হয়েছে।

তওবা মানুষকে খারাপ কাজ থেকে বের করে ভালো কর্মের দিকে নিয়ে আসে। অপূর্ণাঙ্গ থেকে পূর্ণাঙ্গ কর্মের দিকে নিয়ে আসে এবং মানুষকে সমুন্নত ও পূর্ণাঙ্গ মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করে। তওবার দ্বারা প্রভূত কল্যাণ সাধিত হয় ও অকল্যাণ দূরীভূত হয়। তওবার মাধ্যমেই আল্লাহর কাছে আত্মিক ও দৈহিক শক্তি সামর্থ্য প্রার্থনা করা হয়।

পবিত্র কোরআনে বহুবার তওবার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। কখনো আল্লাহ তার বান্দাদের তওবার নির্দেশ প্রদান করেছেন ও এর প্রতি উৎসাহিত করেছেন। যেমন ‘আর আল্লাহর কাছেই মাগফেরাত কামনা কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাকারী, করুণাময়।’ (সূরা আল-বাকারা ২:১৯৯)।

আল্লাহ আরও বলেন, ‘আর তোমরা নিজেদের পালনকর্তা সমীপে ক্ষমা প্রার্থনা কর। অনন্তর তারই দিকে প্রত্যাবর্তন কর।’ (সূরা হুদ ১১:৩)।

‘অতএব তার দিকেই সোজা হয়ে থাক এবং তার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর।’ (সূরা ফুসিসলাত ৪১:৬)।

কখনো আল্লাহ তওবাকারীদের ক্ষমার ঘোষণা দিয়ে বলেন, ‘যে গুনাহ করে কিংবা নিজের অনিষ্ট করে, অতঃপর আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে, সে আল্লাহকে ক্ষমাশীল, করুণাময় পায়।’ (সূরা নিসা ৪:১১০)।

আসুন আমরা সকলেই পাপ কাজের জন্য তওবা করি।নিশ্চয়ই মহান রাব্বুল আলামিন অত্যন্ত ক্ষমাশীল এবং আমাদের সকলের গুনাহ ক্ষমা করে দিবেন।-আমিন