Friday, 24 November 2017

 

রিপারের পরিচিতি ও কার্যকারিতা তুলে ধরলেন কৃষি কর্মকর্তারা

এগ্রিলাইফ২৪ ডটকম:সমকালীন কৃষি ডেস্ক:রাজশাহী জেলার পবা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে ‘‘খামার যান্ত্রিকীকরণের মাধ্যমে ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্প (২য় পর্যায়)’’-এর আওতায় সম্প্রতি রোপা আমন ধান কর্তণ প্রদর্শণীর মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়।

ঐদিন বিকাল ৩টায় দর্শণপাড়া ইউনিয়নের বিল নেপাল পাড়া কৃষক রহিম উদ্দিন স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত মাঠ দিবস অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর,রাজশাহীর উপ-পরিচালক কৃষিবিদ জনাব দেব দুলাল ঢালী।

পবা উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ এ কে এম মনজুরে মাওলা-এর সভাপত্বিতে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, চাঁপাই নবাবগঞ্জ-এর কৃষি প্রকৌশলী শাহ মো. সাইদুর রহমান ।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই ধান কাটা যন্ত্র রিপারের পরিচিতি ও কার্যকারিতা তুলে ধরে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, চাঁপাই নবাবগঞ্জ-এর কৃষি প্রকৌশলী শাহ মো. সাইদুর রহমান । তিনি বলেন বর্তমানে কৃষি শ্রমিকের সংকট রয়েছে। শ্রমিক দ্বারা ধান কাটতে ১ বিঘা জমিতে ৪/৫ ঘন্টা সময় লাগে। পক্ষান্তরে রিপার দ্বারা ১ বিঘা জমির ধান কাটতে ৪৫ মিনিটে ধান রোপণ করা যায়, যাতে মাত্র ১লিঃ পেট্রোল খরচ হয়। রিপার যন্ত্রের দাম ১,৮০,০০০/-টাকা। ৩০% সরকারী ভর্তুকী বাদে ১,২৬,০০০/-টাকা ।

এ যন্ত্রটি ব্যক্তিগত ভাবে অথবা সমিতির মাধ্যমে ক্রয় করে ভাড়ার ভিত্তিতে পরিচালনা করা যায় এবং সঠিক সময়ে ধান কর্তণ করা যায়। তাতে অর্থ ও সময় সাশ্রয় হয়। তিনি ধান রোপণ-এর আরেকটি যন্ত্র রাইস ট্রান্সপ্লান্টারের পরিচিতি তুলে ধরেন। এ যন্ত্রের সাহায্যে১ ঘন্টায় ১ বিঘা জমির ধান রোপণ করা যায়। আরেকটি যন্ত্র কম্বাইন্ড হারভেস্টারের মাধ্যমে ১ ঘন্টায় ১.৫ বিঘা জমির ধান কাটা,মাড়াই,ঝাড়াই করা যায়। যন্ত্রটির মূল্য ৬,৫০,০০০/-টাকা এবং৩০% সরকারী ভর্তুকী বাদে  ৪,৫৫,০০০/-টাকা মাত্র। তিনি সরকারী ভর্তূকী কাজে লাগিয়ে কৃষি যন্ত্রপাতি ব্যক্তিগত ভাবে অথবা সমিতির মাধ্যমে ক্রয় করে করার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান।

প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে বলেন, দেশের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে খাদ্য চাহিদা দিন দিন বেড়ে চলেছে। পক্ষান্তরে আবাদী জমির পরিমাণ কমছে। দেশের এমবর্ধমান বিপুল জনগোষ্ঠির খাদ্য চাহিদা মিটাতে অল্প জমি থেকে ফসলের উন্নত জাত, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ও কলাকৌশল, সুষম মাত্রায় সার প্রয়োগ, সঠিক যত্ন-পরিচর্যা,আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতির ব্যবহার-এর মাধ্যমে উৎপাদন বৃদ্ধি করে নিজেদের আর্থ সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন করার জন্য তিনি উপস্থিত কৃষকদের অনুরোধ জানান।

সভাপতি তাঁর বক্তব্যে বর্তমান কৃষি বান্ধব সরকার কৃষকদের উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে এবং কৃষিতে ভর্তূকী প্রদান করছে। কৃষি যন্তপাতি ক্রয়ের নিমিত্তে ৩০% ভর্তুকী প্রদান করছে। সরকারের এ সহায়তা সূযোগ গ্রহণ করে কৃষিক যান্ত্রিকীকরন করার মাধ্যমে উৎপাদন বৃদ্ধি করার জন্য উপস্থিত সকলের প্রতি আহ্বান জানান ।

অনুষ্ঠানে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, সাংবাদিক, এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ,কৃষক/কৃষাণী সহ  ৩০০ জন উপস্থিত ছিলেন।
--কৃষিতথ্য সার্ভিসের সৌজন্যে