Saturday, 18 November 2017

 

মৌলভীবাজারের বিভিন্ন কমলা বাগান পরিদর্শন করলেন কৃষিবিদ চৈতন্য কুমার দাস

কৃষিবিদ মোহাইমিনুর রশিদ, আঞ্চলিক বেতার কৃষি অফিসার, কৃষি তথ্য সার্ভিস, সিলেট:মৌলভীবাজার জেলার বিভিন্ন উপজেলার কমলা বাগান পরিদর্শন করলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরিচালক, সরেজমিন উইং, কৃষিবিদ চৈতন্য কুমার দাস,। তিনি গত ১১ এবং ১২ নভেম্বর দুইদিনের মাঠ কার্যক্রম পরিদর্শনে আসেন। মাঠ কার্যক্রম পরিদর্শনের উল্লেখযোগ্য বিষয় ছিল কমলা বাগান। পরিদর্শনকালে প্রথমে তিনি ১১ নভেম্বর ২০১৬ খ্রি. রোজ শুক্রবার দুপুরে বড়লেখা উপজেলার বাঘাডহর গ্রামে কমলা চাষীদের সাথে মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহন করেন। এ সময় নিজ বাহাদুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জনাব মইনুল হক, ইউপি সদস্যবৃন্দসহ প্রায় ২৫ থেকে ৩০ জন স্থানীয় কমলা চাষী উপস্থিত ছিলেন।

মতবিনিময় সভায় পরিচালক কৃষিবিদ চৈতন্য কুমার দাস জানান কমলা ভিটামিন সি সমৃদ্ধ উচ্চ মূল্যের ফল। এই অঞ্চলের মাটি, পরিবেশ কমলা চাষের জন্য খুবই উপযোগী। তাছাড়া কমলা চাষ করার মত যথেষ্ট সুযোগও এই এলাকায় রয়েছে। তাই তিনি সকল চাষীদের কমলা চাষের উদ্যোগ গ্রহণ করার জন্য আহবান করেন। আলোচনায় কমলা চাষী সুশীল চন্দ্র দেবনাথ বলেন, গুণগতমানের কমলা উৎপাদনের জন্য কমলা চাষে অধিক যত্ন ও পরিচর্যার প্রয়োজন। এ জন্য কমলা চাষীদের অনেক টাকা খরচ করতে হয়। ফলে গুণগতমানের কমলা উৎপাদন ও কমলা চাষে লাভবান হওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। এক্ষেত্রে সরকারিভাবে বিভিন্ন উপকরণ যেমন কলম, কাটিং, চারা, সার, কৃষিঋণ সুবিধার ব্যবস্থা নিলে কমলা চাষের আরোও ব্যাপক সম্প্রসারণ সহজ হবে। অত:পর পরিচালক মহোদয় কমলা চাষীদের কমলা চাষ বৃদ্ধিকরণে বিভিন্ন কারিগরী পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

পরবর্তীতে সন্ধ্যায় জুড়ি উপজেলার রুপাছড়া ও লালছড়া এলাকায় ইউনিয়ম পরিষদ মেম্বার জনাব বাবুল মিয়ার বাড়িতে উপস্থিত কমলা চাষীদের সাথে মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহন করেন। মতবিনিময় সভায় উপস্থিত কৃষকরা দাবি করেন, গত ১০ বছর আগে এই এলাকায় বৃহত্তর সিলেট জেলায় কমলা ও আনারস উন্নয়নসহ সমন্বিত কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প চালু ছিল। কৃষকরা পুনরায় প্রকল্পটি চালুর জোর দাবি জানান। তাছাড়া কমলা চাষীদের অধিকাংশ জমি বন বিভাগের আওতাধীন। জমির মালিকানা বিহীন বিধায় তারা সরকারি বা বেসরকারি আর্থিক সহযোগিতা বা ব্যাংক ঋণ পায় না। ফলে কমলা উৎপাদনে আর্থিক সংকটের কারণে প্রচুর দুর্ভোগ পোহাতে হয়। ফলে আশানুরুপ কমলা উৎপাদনে তারা ব্যর্থ হচ্ছেন। এ ব্যাপারে কৃষকরা সরকারিভাবে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ ও সহযোগিতা করার জন্য আহবান করেন।    

তিনি গত ১২ নভেম্বর ২০১৬ খ্রি. রোজ শনিবার সকাল ৮.০০ ঘটিকায় মৌলভীবাজার সদর উপজেলাধীন মোস্তফাপুর গ্রাম পরিদর্শন করেন। সিলেট অঞ্চলে শস্যের নিবিড়তা বৃদ্ধিকরণ প্রকল্পের আওতায় জনাব সাইফুল হক চৌধুরীর একক ফল বাগান (আম্রপালি) পরিদর্শন করেন। ফল বাগান পরিদর্শন শেষে সকাল ১০.৩০ টার দিকে কুলাউরা উপজেলার কর্মোদা ইউনিয়ন পরিষদের রঙ্গিছড়া গ্রামের কমলা চাষী জনাব নর সামাল রাজভর সাহেবের কমলা বাগান পরিদর্শন করেন। কমলা বাগানটি একটি সুউচ্চ টিলার (প্রায় ২০০ ফুট) উপরে স্থাপন করা হয়েছে। কৃষি, কৃষকের প্রতি গভীর মমত্ববোধ ও তীব্রটানে গাড়ি ছেড়ে নিজে মোটর সাইকেল ড্রাইব্রিং করে টিলার উপরে উঠেন। টিলার উপরে কমলা বাগানের অবস্থা খুবই ভালো ছিল। পরিচালক মহোদয় উপস্থিত কমলা চাষীদের সাথে মতবিনিময় করেন।

পরিদর্শনকালীন সঙ্গী হিসেবে তাঁর সাথে উপস্থিত ছিলেন কৃষিবিদ কৃষ্ণ চন্দ্র হোড়, অতিরিক্ত পরিচালক, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, সিলেট অঞ্চল, সিলেট; কৃষিবিদ ড. মো. জসীম উদ্দিন, মূখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, বারি, মৌলভীবাজার; কৃষিবিদ মো. শাহজাহান, উপপরিচালক, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, মৌলভীবাজার; কৃষিবিদ মো. ওহিদ্জ্জুামান, প্রকল্প পরিচালক, সিলেট অঞ্চলে শস্যের নিবিড়তা বৃদ্ধিকরণ প্রকল্প এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, মৌলভীবাজার জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সকল কর্মকর্তাবৃন্দ ।