Wednesday, 22 November 2017

 

রাজধানীতে প্রাণিসম্পদের উন্নয়নে মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক, এগ্রিলাইফ২৪ ডটকম:বিপুল জনসংখ্যার এদেশে প্রাণিজ প্রোটিন তথা ডিম, পোলট্রি মাংস, ডেইরী পণ্য ইত্যাদি উৎপাদনের মাধ্যমে প্রাণিসম্পদ সেক্টর রাখছে কার্যকর অবদান। তবে এসব উৎপাদন ও বিপনণ করতে যেয়ে সংশ্লিষ্ট সকলকেই অনেক বাঁধা-বিপত্তির সস্মুখীন হতে হয়। এসব বাঁধাসমূহ সকলে মিলে দূর করা গেলে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অন্যতম খাত হতে পারে প্রাণিসম্পদ সেক্টর।

রবিবার ২৭ নভেম্বর সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি অভিজাত রেষ্টুরেন্টে আয়োজিত এক মুক্ত আলোচনায় উপস্থিত আলোচকদের কথায় উঠে এলো এমন চিত্র। Vet Pacific, G-5, SMG, Panacia এবং Zas Animal Health এর আয়োজনে অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াৎ করেন ডা. রাফিউল করিম (রাফি)। অনুষ্ঠানটির সঞ্চালনা করেন ডা. মোজাম্মেল হক এবং তাকে সহযোগীতা করেন জনাব মো: মাহবুবুর রহমান।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই প্রাণী সম্পদ সেক্টরে পূর্বে এবং বর্তমানে যারা অবদান রেখে চলেছেন তাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও সম্মান জানানো হয়। এরপর আলোচকরা প্রাণিসম্পদের উন্নয়নে মুক্ত আলোচনাকালে একে একে তাদের মতামত তুলে ধরেন। মুক্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে ডা. রাফি বলেন, প্রাণিসম্পদের উন্নয়নে সকলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে এর লক্ষ পূরণ সম্ভব। এ সেক্টরটিতে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ব্যক্তিত্ব ডা.এম.আলী ইমাম বলেন-প্রাণী সম্পদের জন্য প্রয়োজনীয় এনিমেল হেলথ্ পণ্য আমদানীর জটিলতা কাটাতে সবাইকে জোর পদক্ষেপে কাজ করতে হবে।

বিশিষ্ট পোল্ট্রি কনসালট্যান্ট ডা. রেজাউল করিম মিয়া বলেন পোল্ট্রি বিপ্লবের শুরুটা যেভাবে হয়েছিল বর্তমানে সে অবস্থা নেই। এসময় তিনি বিশেষ করে প্রান্তিক পর্যায়ের খামারীদের দু:খ-দুর্দশার কথাগুলি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, প্রান্তিক পর্যায়ের বানিজ্যিক খামারী না টিকলে এ সেক্টরে জড়িত কেউ টিকবে। এখন সময় হয়েছে এগুলি নিয়ে ভাবার এবং কাজ করার। কোন বিষয় দ্রুত সমাধান সম্ভব নয় তবে ধীরে ধীরে হলেও শুরু করা প্রয়োজন। তিনি মনে করেন অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকলেরই তৃনমূল পর্যায়ে নিবিড় যোগাযোগ রয়েছে কাজেই তারাই পারবে এসব সমস্যা সমাধান করতে।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা.লুৎফর রহমান বলেন, দেশে লাইভষ্টকের উন্নয়ন করতে হলে DLS, এনিম্যাল হেলথ্ কোম্পানী, ফিডমিল, হ্যাচারিসহ সংশ্লিষ্ট সকলেরই ঐক্য প্রয়োজন। এ সেক্টরের উন্নয়ন কেবল DLS এর একার পক্ষে সম্ভব নয় জানিয়ে ডা. লুৎফর বলেন সরকার ও ব্যবসায়ী সকলকে এক সাথে কাজ করলে দেশ জাতি সকলেই উপকৃত হবে।

আলোচনায় অংশ নিয়ে জনাব শাহীন শাহ্ বলেন, অফুরন্ত সুযোগ রয়েছে দেশে Safe পোল্ট্রি পণ্য উৎপাদনের এবং সে সুযোগটাকে কাজে লাগিয়ে দেশের প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর। ডা. রফিকুল ইসলাম বলেন দুধ-মাছ-ডিমে দেশ আরো এগিয়ে যাবে। তবে এজন্য প্রয়োজন ডাটা সহকারে সঠিক তথ্য। খামারীদের নিকট সঠিক সময়ে ভ্যাকসিন ও মানসম্পন্নল পন্য সুলভে সরবরাহও জরুরি বলে আলোচনায় জানান ডা. রফিকুল ইসলাম।

মুক্ত আলোচনায় গাজিপুর সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. জহিরুল ইসলাম বলেন প্রাণিসম্পদের প্রাণিকে লালন-পালন করে বড় করা অত্যন্ত কষ্টের একটি কাজ। আর কষ্টকর এ কাজটি সঠিক নিয়মে করে প্রাণিকে নিরাপদ করে সরবরাহ করতে হবে। ডা. সরোয়ার জাহান বলেন, দেশে মানব সম্পদের উন্নয়ন করতে হলে সবার আগে প্রয়োজন প্রাণিসম্পদের উন্নয়ন এবং তা অবশ্যই নিরাপদ প্রক্রিয়ায় হতে হবে।

আলোচনায় ডা. রাশিদুল জাকির বলেন, সেক্টরের উন্নয়নের জন্য তাদের চেষ্টা সবসময় অব্যহত থাকবে। ডা. এনাম আহমেদ বলেন, দিনে কি রাতে বাড়ির দোরগোড়ায় যখন ডিম হাতের নাগালে পাওয়া যায় তখন মনে হয় এ প্রাপ্তি সত্যিই প্রাণিসম্পদের উন্নয়নের কারনেই হয়েছে। জনাব মাহবুব হোসেন এবং ডা. মো: জসিম উদ্দিন পণ্য আমদানী পর্যায়ের জটিলতার তিক্ততার কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন।

তৃনমুল পর্যায়ে খামারীদের কারিগরী সেবা নিশ্চিত করলে প্রাণিসম্পদের উন্নয়নে আরো গতিশীলতা আনা সম্ভব জানিয়ে বক্তব্য দেন ডা. গদাধর চন্দ্রশীল। অখিল চন্দ্র ভৌমিক আলোচনায় দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার আলোকে কিছু তথ্য তুলে ধরেন। নাজমুল হাসনাইন খান বলেন, কোয়ালিটি পণ্যের ব্যাপারে কোন সময় আপোষ করা যাবেনা এবং ফুড সেফটি বিষয়গুলি সব সময় মাথায় রাখতে হবে।

আলোচনায় জনাব এ কে এম আলমগীর বলেন ১৯৯২ সাল থেকে তিনি এনিম্যাল হেলথ্ ব্যবসার সাথে জড়িত। এ সেক্টরে অবদান রাখতে পেরে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত। আগামীতে প্রাণিসম্পদের আরো উন্নয়নের আশা প্রকাশ করেন জনাব আলমগীর। সেক্টরের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে DLS এর অবদানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান ডা. সবুর। প্রাণীজ প্রোটিনের সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় নিরাপদ পণ্য সরবরাহে এখন তারা যথেষ্ট অগ্রগামী বলে জানান এবং বিজ্ঞানের অগ্রগতিতে এখন নিরাপদ পোল্ট্রি পণ্য উৎপাদন হচ্ছে। এসময় ডা. সবুর দেশে “Livestock School of Further Education” চালু এবং “Feed Additives Assay Lab” স্থাপন করার জন্য সরকারের কাছে বিশেষ অনুরোধ জানান।

আলোচনার শেষভাগে অংশ নিয়ে ডা. মো: কামরুজ্জামান সবাই মিলে মিশে যাতে প্রাণিসম্পদের উন্নয়নে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন গাজিপুর জেলা ভেটেরিনারি হসপিটালের ভেটেরিনারি সার্জন ড. মো:মুখলেছুর রহমান, জনাব শফিকুল গনি, ডা. খন্দকার মাহমুদ হোসেন, জনাব আমিরুজ্জামান (সুমন), জনাব খায়রুল হাসান (মামুন) প্রমুখ।

প্রাণিসম্পদের উন্নয়নে মুক্ত আলোচনায় ৯০ জনের মতো আলোচক ও আমন্ত্রিত অতিথি যোগ দেন। পরে সকলে মিলে এক নৈশভোজে অংশ নেন।