Sunday, 19 November 2017

 

বাংলাদেশ মিট এন্ড মিল্ক প্রডিউসার্স এসোসিয়েশনের আয়োজনে "ডেইরী ফ্যাটেনিং ওয়ার্কশপ"

নিজস্ব প্রতিবেদক:দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাচ্ছে প্রাণীসম্পদ সেক্টর তবে এ সেক্টরের ডেইরী খাতটি এখনও সে তুলনায় অবহেলিত। মূলত সঠিক কারিগরী জ্ঞানের অভাব, খাদ্য, বাসস্থান, চিকিৎসা সংক্রান্ত ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি বিষয়ক প্রশিক্ষনের সুযোগ না থাকায় ইচ্ছা স্বত্তেও অনেক উদ্যোক্তা এগিয়ে আসতে পারছেন না।

তবে এসব সমস্য সমাধানে এগিয়ে এসেছে বাংলাদেশ মিট এন্ড মিল্ক প্রডিউসার্স এসোসিয়েশন। সংগঠনটির উদ্যোগে এবং আমরা ডেইরী ফার্মারস্ ও অপসোনিন এগ্রোভেট এর সহযোগীতায় রাজধানীর একটি অভিজাত রেস্তোরায় ডেইরী খামারীদের নিয়ে অনুষ্ঠিত হলো "ডেইরী ফ্যাটেনিং ওয়ার্কশপ"।

ওয়ার্কশপে সরকারের প্রজনণ নীতিমালা বজায় রেখে জাত উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার কথা বলেন লাইভষ্টক রিসার্চ ইনস্টিটিউট মহাখালীর এফ.এম.ডি ভ্যাকসিন শাখার পিএসও ডা. মো: ফরহাদ হোসেন। তিনি বলেন ডেইরী খামারীদের এনিম্যাল আইডি সংরক্ষণ, তাদের বংশ পরিচয় (Pedegree) সংরক্ষণ, পরীক্ষিত (PROVEN) বুলের সীমেন দ্বারা কৃত্রিম প্রজনন করা। মূলত; এসব কলাকৌশলের সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে জাত উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা সম্ভব বলে জানান ডা. মো: ফরহাদ।

বিশিষ্ট ডেইরী কনসাল্ট্যান্ট ও সাবেক উপপরিচালক, ডিএলএস ডা. মো: নূরুল আমীন ওয়ার্কশপে  ডেইরী খামারের শেড ব্যবস্থাপনা, বাছুরের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা, দুগ্ধবতী গাভীর খাদ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি এসময় উপস্থিত খামারীদের নানা কারিগরী বিষয়ের জবাব দেন। এছাড়া তিনি নানা রোগ ব্যাধি ব্যবস্থাপনার উপর আলোচনা করেন।

সংগঠনটির অন্যতম সংগঠক এবং স্বপ্ন ডেইরীর উদ্যোক্তা মো:শাহ্ এমরান এগ্রিলাইফ২৪ ডটকমকে জানান দেশের মিল্ক এন্ড ডেইরী খামারীদের দক্ষতার অত্যন্ত অভাব। বেকার শিক্ষিত তরুনদের জন্য এখাতটি হতে পারে বেশ সম্ভাবনাময়। রাজধানী থেকে এ ধরনের কর্মশালা শুরু হলেও পর্যায়ক্রমে তারা দেশের বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিকভাবে করবেন বলে জানান।

বাংলাদেশ মিট এন্ড মিল্ক প্রডিউসার্স এসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি ও আহমেদ ফার্ম হাউজের উদ্যোক্তা জনাব আবু আহমেদ আব্দুল্লাহ্ (রাজু) জানান ২০০৬ সালে শুরু করে ২/১ টি থেকে তাঁর খামারে এখন ১০০টির উপরে গাভী রয়েছে।তবে যেভাবে এ সেক্টরটি প্রতিষ্ঠিত হবার কথা সে গতিতে এগুচ্ছেনা। তিনি সেক্টরটির উিন্নয়নের লক্ষে সরকারের নীতি নির্ধারকদের কাছে কিছু সুপারিশ তুলে ধরেন।

জনাব আবু আহমেদ বলেন দেশের প্রান্তিক খামারীদের অনেক সময়ই প্রতি লিটার দুধ ৩০-৩২ টাকা দরে বিক্রি করতে বাধ্য হন।মহাসড়কে দুধ ঢেলে প্রতিবাদ করলেও তাদের পাশে এসে কেউ দাঁড়ায়না।গ্রীষ্মকালে ফলের মৌসুমে এবং বর্ষাকালে এসমস্যাগুলিতে প্রান্তিক ডেইরী খামারীদের প্রকট সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। তিনি বলেন বাজারজাত করনের সমস্যা উত্তরনে মিল্ক প্রসেসিং জোন গড়ে তুলে এলাকা ভিত্তিক পাউডার মিল্ক/চিজ/দই/ঘী/বাটার এসব শিল্প গড়ে তোলার মাধ্যমে দেশেল ডেইরি খামারীদের উন্নয়ন সম্ভব।

বাংলাদেশ মিট এন্ড মিল্ক প্রডিউসার্স এসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি এবং চিটাগা ডেইরী ফার্ম এসোসিয়েশন সাধারন সম্পাদক ও হোমল্যান্ড এন্ড ডেইরীর উদ্যোক্তা মালিক মোহাম্মদ ওমর বলেন, E.U যেখানে তাদের ডেইরী খামারীদের জন্য বছরে ভর্তুকি বাবদ ৫ বিলিয়ন ইউরো প্রদান করে  সেখানে সরকারীভাবে কৃষির মতো এ সেক্টরে কোনো ভর্তুকি নেই।। E.U ডেইরী খামারীদের গরু প্রতি ৯১৩ ইউরো যা বাংলাদেশী টাকায় প্রায় ৭৭ হাজার টাকার মতো ভর্তুকি প্রদান করে, ফলে প্রতিযোগিতায় তারা কোনোমতেই পেরে  উঠতে পারেন না। এগ্রিলাইফ২৪ ডটকমকে মোহাম্মদ ওমর বলেন, E.U থেকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ৯০% এর উপর গুড়ো দুধ আমাদের দেশে আমদানী হয়ে আসছে। এ থেকে সরকারের বৈদেশিক মুদ্রার অপচয়ের পাশাপাশি ব্যাপক কর্মসংস্থানমুখি এ খাতটি আস্তে আস্তে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। কাজেই নীতি নির্ধারকদের এখনই ভাবতে হবে বলে জানান দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত ডেইরী খামারী মালিক মোহাম্মদ ওমর।

কর্মশালার মাঝে অপসোনিন ফার্মার, এগ্রোভেট ডিভিশনের ডেপুটি সেলস্ ম্যানেজার জনাব আতিকুল ইসলাম ডেইরী খামারীদের জন্য তাদের সেরা পুষ্টি পণ্যগুলোর পরিচয় তুলে ধরেন। এসময় তিনি এনক্স-ডি (ভিটামিন এ, ভিটামিন ই, ভিটামিন সি, ভিটামিন ডি৩), ফসক্যাল ডিবি (ফসফরাস, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি৩, ভিটামিন বি১২), স্যালটাজ প্লাস (নন-এন্টিবায়োটিক গ্রোথ প্রোমোটর), মাইকোএকটিভ প্লাস, রেসটোলিভ প্রভৃতি পণ্যের গুণাগুণ ব্যাখা এবং এর প্রয়োগ ক্ষেত্র তুলে ধরেন।

কৃষিতে ভর্তুকি থাকলেও ডেইরীতে কোনো ভর্তুকি নাই। তবে আশার কথা হলো এরই মধ্যে দেশের অনেক শিক্ষিত ও উচ্চ শিক্ষিত তরুন উদ্যোক্তাদের হাত ধরে এ খাতটি স্বল্প পরিসরে হলেও এগিয়ে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন সরকারী পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এখাতটি দেশের পোলট্রি খাতের মতো বৃহৎ একটি উৎপাদনমুখি খাতে পরিণত হবে। পাশাপাশি কর্মসংস্থানের মাধ্যমে সামাজিকভাবে ডেইরি শিল্প ব্যাপক অবদান রাখবে বলে মনে করেন সমাজ বিশ্লেষকরা।