Monday, 18 December 2017

 

কৃষকের উদ্ভাবনকে গ্রহণ না করলে, তা 'কৌটা'য় আটকে থাকবে-কৃষিমন্ত্রী

কৃষি ফোকাস ডেস্ক:কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেছেন, কৃষক কোনো আবিস্কার বা উদ্ভাবন গ্রহণ করলে আমরা ওই আবিষ্কার নিয়ে পদক্ষেপ নিবো। কিন্ত সেটা যদি না হয় তাহলে আপাতত এটা হাইডে বা একটা কৌটার মধ্য আটকে থাকবে।

শনিবার (৩১ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজধানীর ধানমন্ডী এলাকায় বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ (বিসিএসআইআর) মিলনায়তনে বিজ্ঞানীদের আজীবন সম্মাননা প্রদান ও সাধারণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

কৃষি মন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেন, আমাদের অনেকগুলো কৃষি ভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান আছে। যদিও আমি জ্ঞানী বিজ্ঞানী নই তারপরও বলি, বিজ্ঞানী ও গবেষকদের মাঝে একটা প্রবণতা কাজ করে। তাহলো যদি কেউ কিছু আবিস্কার করেন তখন সেটাকে আকড়ে ধরে ওটাই একমাত্র সত্য এবং ওটাই একমাত্র ঠিক বলে মনে করেন।

তিনি বিজ্ঞানীদেরকে উদ্দেশ্যে করে বলেন, 'আমি আমাদের বিজ্ঞানীদের বলি যে আপনাদের কাস্টমার হলো কৃষক। কৃষক যদি আপনার আবিস্কার গ্রহণ না করে তাহলে এটা ইতিহাস ও ডকুমেন্টরিতে থাকবে, কিন্তু এটা মাঠে নিয়ে যেতে পারবো না। এর পেছনে ইনভেস্ট করা কঠিন।'

'সম্প্রসারণের মাধ্যমে আপনাদের আবিস্কার মাঠে নিয়ে যাই এবং কৃষক সেটা গ্রহণ করলে আমরা সেটা নিয়ে পদক্ষেপ নিবো। কিন্ত সেটা যদি না হয় তাহলে আপাতত এটা হাইডে থাকবে বা একটা কৌটার মধ্য আটকে থাকবে।'

মতিয়া চৌধুরী বলেন, 'যাই হোক আমি জানি, একজন বিজ্ঞানী তার আবিস্কার অনেক মায়া ও যত্ন দিয়ে করেন। চেষ্টা করেন ভালো কিছু করার। কিন্তু কী কৃষি, কী শিল্প বা আমাদের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে কাষ্টমার হলো সাধারণ মানুষ।'

'সাধারণ মানুষদের সন্তুষ্টির দিকে খেয়াল রাখেন তাহলে মানুষও আপনাদেরটা গ্রহণ করবে আবার সরকারও পৃষ্টপোষকতা করবে। তবে হ্যাঁ রাষ্ট্র এমনিতেই সহযোগিতা করবে কেননা সব আবিস্কারই তো সফল হয় না। কিন্তু তুবও জনবান্ধব সরকার যেমন দরকার ঠিক তেমনি জনবান্ধব বিজ্ঞানও দরকার, এটা যদি আপনারা খেয়াল রাখেন তাহলেই সবাই উপকৃত হবেন।'

কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী পাকিস্তান আমল থেকে শুরু করে গত কয়েক দশকে নানা প্রতিবন্ধকতায় দেশের বিজ্ঞানীরা কাজ করেছেন তা উল্লেখ করেন। বলেন, এখন পরিস্থিতি বদলে গেছে। সব ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে।'

দেশের গবেষণা খাতকে আরও সমৃদ্ধ করতে বর্তমান সরকার নানা ধরণের পদক্ষেপ নিচ্ছে জানিয়ে কৃষিমন্ত্রী বলেন, পাটের জীবন রহস্য উন্মোচনের জন্য আমরা আমাদের সন্তানকে বিদেশ থেকে নিয়ে এসে কাজ করার সুযোগ করে দিয়েছি। এবং এতে সফলতাও পেয়েছি। সবশেষ তিনি জনবান্ধব আবিস্কারের প্রতি মনোযোগ দেয়ার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে চারজন বিজ্ঞানীকে আজীবন সম্মাননা দেয়া হয়। তারা হলেন, সৈয়দ ফজলে রাব্বী, ড. আবদুল খালেক, ড. শামীম জাহাঙ্গীর আহমেদ ও ড. মুহাম্মদ কবিরউল্যা। বিসিএসআইআর অবসরপ্রাপ্ত বিজ্ঞানী কর্মকর্তা কল্যাণ সমিতি আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সমিতির সভাপতি কাজী আক্তারুজ্জামান। দ্বিতীয় অধিবেশনে শুরু হয় সাধারণ সভা।