Saturday, 18 November 2017

 

১০ম আন্তর্জাতিক পোল্ট্রি শো উপলক্ষে আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক এবং ওয়াপসা-বিবি’র সভাপতি’র বক্তব্য

এগ্রিলাইফ২৪ ডটকম ডেস্ক:আগামী ২-৪ মার্চ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় তিনদিনব্যাপি ১০ম আন্তর্জাতিক পোল্ট্রি শো ও সেমিনার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। মেলাকে ঘিরে দেশ-বিদেশের পোলট্রি অঙ্গনে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। ইতিমধ্যে আয়োজকরা তাদের প্রস্তুতিও সার্বিভাবে সম্পন্ন করেছেন। পোল্ট্রি শো’র এবারের স্লোগান-"পোল্ট্রি ফর বেটার টুমরো"। আয়োজকদের মতে বাংলাদেশে এ যাবৎকালের সবচেয়ে বড় পোল্ট্রি শো ও সেমিনার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

এ সম্পর্কে ১০ম আন্তর্জাতিক পোলট্রি শো ও সেমিনার- ২০১৭ এর আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক জনাব মসিউর রহমান বলেন, পোল্ট্রি একটি শিল্প, একটি বিজ্ঞান। এ ব্যবসায় তিনিই সফল হবেন-পোল্ট্রি সম্পর্কে যাঁর আধুনিক জ্ঞান রয়েছে এবং পোল্ট্রি প্রযুক্তিকে যিনি সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারেন। শুরুর দিকে আমাদের কাছে জ্ঞান কিংবা প্রযুক্তি কোনটাই সহজলভ্য ছিলনা কিংবা বলা যায় হাতে গোনা মাত্র কয়েকজন এ সম্পর্কে জানতেন। এখন যারা বড় আকারের বিনিয়োগ করেছেন, শুরুতে অর্থ খরচ করে তাঁদের বিদেশের বিভিন্ন শো এবং সেমিনারে অংশ নিতে হয়েছে।

উদ্যোক্তারা দেখেছেন পোল্ট্রি দুনিয়া কিভাবে এগিয়ে চলেছে। তাঁরা বুঝেছেন অত্যধিক জনসংখ্যার ছোট আয়তনের বাংলাদেশের মানুষের খাদ্য ও পুষ্টি চাহিদা পূরণ করতে হলে পোল্ট্রি শিল্পের কোন বিকল্প নাই। তাঁরা নিজেরা খামার ও শিল্প কারখানা গড়েছেন। কিন্তু একই সাথে সারাদেশের খামারিদের মাঝে এই বিশেষায়িত জ্ঞান ছড়িয়ে দেয়ার তাগিদ অনুভব করেছে। উপলব্ধি করেছেন-সুলভ মূল্যে ডিম ও মুরগির মাংসের সরবরাহ নিশ্চিত করতে হলে প্রযুক্তির ব্যবহারের কোন বিকল্প নেই। মূলত: সেই তাগিদ থেকেই আন্তর্জাতিক পোল্ট্রি শো ও সেমিনারের আয়োজন।

জনাব মসিউর বলেন-পোল্ট্রি বিষয়ক জ্ঞান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সম্মিলন ঘটিয়েছে ‘পোল্ট্রি শো ও সেমিনার’। পুষ্টি ও প্রাণিজ আমিষ উৎপাদনে পোল্ট্রি শিল্প বাংলাদেশে এক নীরব বিপ্লব ঘটিয়েছে। এ বিশাল অর্জনকে সহজতর করে দিয়েছে পোল্ট্রি শো। প্রায় ১৬ কোটি মানুষের জন্য প্রতিদিন প্রায় সোয়া দুই কোটি ডিম এবং ১,৮৫১ মেট্রিক টন মুরগির মাংস যোগান দিচ্ছে পোল্ট্রি শিল্প।

বর্তমানে শুরু হয়েছে প্রসেসড এবং ফারদার প্রসেসড চিকেন প্রোডাক্ট তৈরি। এর পাশাপাশি বাইপ্রোডাক্ট হিসেবে উৎপাদিত হচ্ছে বায়োগ্যাস, বিদ্যুৎ এবং জৈবসার। শুধু তাই নয়, রপ্তানীর জন্য তৈরি হচ্ছে বাংলাদেশের পোল্ট্রি শিল্প। এজন্য দরকার বাল্ক প্রোডাকশন। ইন্টারন্যাশনাল কমপ্লায়েন্স মেনে পোল্ট্রি পণ্য উৎপাদন, প্যাকেজিং, সংরক্ষণ করতে হবে। শুধু আজকের জন্য নয় আগামী প্রজন্মের চাহিদা মেটাতে নিজেদের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। বর্তমান ও আগামীর এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলাকে সহজ করবে পোল্ট্রি শো।

ওয়াপসা-বিবি’র সভাপতি জনাব শামসুল আরেফিন খালেদ বলেন, নতুন নতুন আবিষ্কারের মধ্য দিয়ে বিজ্ঞান প্রতিদিন নতুন নতুন সম্ভাবনার বার্তা দিয়ে যাচ্ছে। শুধু প্রযুক্তি নয় বিভিন্ন ধরনের রোগ-বালাইয়ের কার্যকর চিকিৎসা এবং ঔষধ আবিষ্কার হচ্ছে। তবুও থেমে নেই নতুন রোগের প্রাদুর্ভাব। বৈষ্ণিক উষ্ণতা ও জলবায়ুর পরিবর্তন-প্রকৃতি ও পরিবেশের পাশাপাশি পোল্ট্রি’কেও নানাভাবে আক্রান্ত করেছে। কী হবে আগামীদিনের পোল্ট্রি শিল্পের রূপরেখা? এসব বিষয় নিয়ে বিশ্বব্যাপী চলছে পঠন-পাঠন ও গবেষণা। সারাবিশ্বের এসব গবেষণাকর্ম ও গবেষকদের একই সূতোয় গেঁথেছে পোল্ট্রি সেমিনার। তাত্ত্বিক ও প্রায়োগিক জ্ঞান ও বিজ্ঞানকে একই ছাদের নিচে সকলের জন্য উন্মুক্ত করার এ উদ্যোগটিই বোধকরি ওয়াপসা-বিবি আয়োজিত আন্তর্জাতিক পোল্ট্রি শো ও সেমিনারের অন্যতম একটি বৈশিষ্ট্য।

সেমিনার থেকে আগামীদিনের পোল্ট্রি শিল্পের জন্য কী ধরনের সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ হাতিছানি দিচ্ছে সে সম্পর্কে এক ধরনের গাইডলাইন পাওয়া যায়। আর শো’তে দেখা মেলে আধুনিক পোল্ট্রি শিল্পের সর্বশেষ ও চৌকষ প্রযুক্তি ও তার ব্যবহারিক প্রায়োগের নানান উপকরন- যা এদেশের খামারি ও উদ্যোক্তাদের জন্য একটি বড় পাওয়া। তাই সে বিচারে বলা যায়- দেশের পোল্ট্রি শিল্পের উন্নয়নে ওয়াপসা-বিবি আয়োজিত পোল্ট্রি শো ও সেমিনার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।

জনাব খালেদ বলেন- “আমরা যখন বাংলাদেশে পোল্ট্রি শো ও সেমিনার শুরু করি তখন আমাদের পাশ্ববর্তী দেশেও এত বড় মাপের শো ছিলনা। ক্ষুদ্র সামর্থ্য কিন্তু দৃঢ় মনোবল নিয়ে আমরা এগিয়ে গেছি। যার সুফল পাচ্ছে বাংলাদেশের পোল্ট্রি শিল্প।” তিনি বলেন-আগে একহাজার বা দুই হাজার মুরগির খামারকে বড় খামার বলে মনে করা হত। আর এখন একটি খামারে প্রায় ৪ লাখ মুরগি পালন করা হচ্ছে। ছোট ছোট খামারগুলোর আকারও এখন তুলনামূলকভাবে অনেক বড় হয়েছে। ফলে খামারের সংখ্যা কমলেও উৎপাদন বেড়েছে।

আমরা মনে করি খামারের সংখ্যা বাড়ানো নয় বরং খামারির সক্ষমতা বাড়ানোর মধ্য দিয়েই আগামীদিনের পোল্ট্রি শিল্পের ভবিষ্যত নির্মাণ সম্ভব। এখন আমাদের জন্য প্রয়োজন খামারি, উদ্যোক্তা, শিক্ষাবিদ, গবেষক, সরকার এবং বেসরকারি উদ্যোক্তাসহ সকল স্টেকহোল্ডারদের মাঝে সমন্বয় সাধন করা। ওয়াপসা-বিবি সেই সমন্বয়কের ভূমিকাই পালন করছে। “আমি মনে করি বাংলাদেশের এগ্রো ইন্ডাষ্ট্রিয়াল ডেভেলপমেন্টের জন্য একটি রোডম্যাপ অত্যন্ত জরুরী। আর সেজন্য সবার আগের প্রয়োজন পোল্ট্রি সেনসাস। প্ল্যানিং কমিশন এগিয়ে এলে একাজ সহজতর হবে বলে আমার বিশ্বাস। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কাছে পোল্ট্রি বিষয়ে তেমন কোন নির্ভরযোগ্য ডাটা নেই। অনুমানভিত্তিক তথ্য-উপাত্তের ওপর ভিত্তি করে পরিকল্পনা তৈরি হচ্ছে। তাই এখন আমাদের প্রয়োজন নির্ভরযোগ্য তথ্য-উপাত্ত। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো’র উদ্যোগই এ ঘাটতি মেটাতে পারে।”

এ আয়োজনকে সামনে রেখে স্টেকহোল্ডারদের সম্পৃক্তকরণের অংশ হিসেবে ‘পোল্ট্রি বাংলাদেশ ফেসবুক’ পেজে https://www.facebook.com/poultrybangladesh1/) চলছে ‘ডিম ও মুরগির সেলফি’ এবং ‘রেসিপি’ প্রতিযোগিতা।

কাজেই আর দেরী না করে চলে আসুন বাংলাদেশে এ যাবৎকালের সবচেয়ে বড় পোল্ট্রি শো ও সেমিনার উপভোগ করতে।

--সৌজন্যে ওয়ার্ল্ড’স পোল্ট্রি সায়েন্স অ্যাসোসিয়েশন-বাংলাদেশ শাখা