Saturday, 18 November 2017

 

২০২১ সালের মধ্যে ডিম ও মুরগির মাংসের উৎপাদন দ্বিগুণ করুন-কৃষি মন্ত্রী

এগ্রিলাইফ২৪ ডটকম ডেস্ক:স্বাস্থ্যবান ও উন্নত দেশ গড়তে হলে ২০২১ সালের মধ্যে ডিম ও মুরগির মাংসের উৎপাদন দ্বিগুণ করার আহ্বান জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী। এজন্য তিনি বিজ্ঞানী, গবেষক, পোল্ট্রি খামারি ও উদ্যোক্তাদের একসাথে কাজ করার আহ্বান জানান। আজ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায়, ওয়ার্ল্ড’স পোল্ট্রি সায়েন্স অ্যাসোসিয়েশন-বাংলাদেশ শাখা (ওয়াপসা-বিবি) কর্তৃক আয়োজিত ১০ম আন্তর্জাতিক পোল্ট্রি শো ও সেমিনারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন।

মতিয়া চৌধুরী বলেন-মাননীয় প্রধানমন্ত্রী পোল্ট্রি শিল্পের ব্যাপারে খুবই আন্তরিক। তাঁর সময়োচিত পদক্ষেপের কারণেই বার্ড-ফ্ল’র প্রকোপ কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়েছে। দেশীয় মুরগির জাত উন্নয়নে বিজ্ঞানীদের কাজ করার তাগিদ দেন তিনি। এ শিল্পের উন্নয়নে বর্তমান সরকার সর্বাত্মক সহযোগিতা করবেন বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী, অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি, নারায়ন চন্দ্র চন্দ, এম.পি বলেন- হতাশাগ্রস্ত গ্রামীণ যুবক ও মহিলাদের উপার্জনের পথ দেখিয়েছে পোল্ট্রি শিল্প। তিনি বলেন- ক্ষুদ্র খামারিদের সহযোগিতায় হাত বাড়াতে হবে।   

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আইনুল হক বলেন-পোল্ট্রি শিল্প বেশ কিছু চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন সময় রোগ-বালাইয়ের কারণে এ শিল্পের উপর বিপর্যয় নেমেছে, খামারিরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। আপদকালীন সময়গুলোতে খামারিদের জন্য প্রণোদনা এবং পোল্ট্রি শিল্পের অগ্রগতির স্বার্থে কর মওকুফ সুবিধা, কাঁচামাল ও অত্যাশ্যকীয় পণ্য আমদানিতে শুল্ক অব্যহতি দেয়া প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য্য এবং পরিকল্পনা কমিশনের সাবেক সদস্য প্রফেসর ড. সাত্তার মন্ডল বলেন, বাংলাদেশের মোট খাদ্য সরবরাহের ১০.৩১ শতাংশ মাংস এবং ডিম আসে পোল্ট্রি থেকে। সুতরাং এ শিল্পের উন্নতির জন্য নীতি-সহায়তা দেয়া প্রয়োজন। কর আরোপের ক্ষেত্রে যৌক্তিকতা বিবেচনা করতে হবে। ক্ষুদ্র খামারি ও ব্যবসায়ীদের প্রশিক্ষণ ও ঋণ সহায়তা দিতে হবে বলে মন্তব্য করেন ড. মন্ডল।

ওয়াপসা-বিবি সভাপতি শামসুল আরেফিন খালেদ বলেছেন- ২০২১ সাল নাগাদ ডিমের মাথাপিছু বার্ষিক কনজাম্পশন ৫১ থেকে বাড়িয়ে অন্তত: ৮৫ তে এবং মুরগির মাংসের মাথাপিছু বার্ষিক কনজাম্পশন ৪.২ কেজি থেকে বাড়িয়ে ৭.৫ কেজিতে উন্নীত করতে এবং অপুষ্টির হার কমিয়ে আনতে অবদান রাখতে চায় পোল্ট্রি শিল্প। সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোল (এসডিজি) এর ১৭টি লক্ষ্যের মধ্যে ৭টির সাথেই পোল্ট্রি শিল্পের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। তাই এ শিল্পের প্রতি আলাদাভাবেই গুরুত্ব দিতে হবে। এডভান্স ইনকাম ট্যাক্স বা এআইটি পোল্ট্রি উদ্যোক্তাদের জন্য যন্ত্রণার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অত্যাবশ্যকীয় কাঁচামাল আমদানির উপর শুল্ক এবং এআইটি ২০২১ সাল পর্যন্ত রহিত করার জন্য সরকারের প্রতি  অনুরোধ জানান জনাব খালেদ।

ওয়াপসা-বিবি সাধারন সম্পাদক মো. সিরাজুল হক বলেন, বিগত চার দশকে আমরা বাংলাদেশের অপুষ্টির চিত্র বদলে দিয়েছি। আগামী চার দশকে আমরা বাংলাদেশের চিত্র বদলে দিতে চাই।

ওয়াপসা-বিবি’র সাবেক সভাপতি মসিউর রহমান পোল্ট্রিখাতকে কৃষিভিত্তিক শিল্প হিসেবে ঘোষণার জন্য সরকারের কাছে অনুরোধ জানান। একই সাথে পোল্ট্রি’র জন্য পৃথক একটি অধিদপ্তর গঠনেরও দাবি জানান তিনি । ওয়ার্ল্ড’স পোল্ট্রি সায়েন্স অ্যাসোসিয়েশনের গ্লোবাল সেক্রেটারি জেনারেল ড. রোয়েল মুলডার বলেন- বাংলাদেশে পোল্ট্রি শিল্পের অগ্রগতি অকল্পনীয়। এদেশের উদ্যোক্তারা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আসরে যোগদানের মধ্যদিয়ে দেশীয় শিল্পের উৎকর্ষতার বার্তা প্রচার করছেন।

পোল্ট্রি গবেষণায় বিশেষ অবদান রাখার জন্য অমৃতা পন্ডিতকে প্যারাগন এওয়ার্ড এবং বিপুল চন্দ্র রায় কে এহসানুল করিম এওয়ার্ড প্রদান করা হয়। এছাড়া পোল্ট্রি শিল্পের অগ্রপথিক হিসেবে প্রয়াত হুমায়ন রশীদ চৌধুরীকে আজীবন সম্মাননা প্রদান করা হয়। প্রয়াতের নাতনী এ সম্মাননা পদকটি গ্রহণ করেন।

পরে ফ্রধান অতিথি ফিতা কেটে তিন তিনব্যাপি আন্তর্জাতিক এ মলোর উদ্বোধন করেন এবং স্টলগুলি ঘুরে ঘুরে দেখেন।