Tuesday, 21 November 2017

 

সফলভাবে শেষ হলো ১০ম আন্তর্জাতিক পোলট্রি শো

নিজস্ব প্রতিবেদক,এগ্রিলাইফ২৪ ডটকম: একই ছাদের নীচে পোলট্রি দুনিয়ার সর্বাধুনিক প্রযুক্তি, পণ্য ও জ্ঞান সবকিছুর সমাহার। উদ্যোক্তারা ব্যবসার শুরু থেকে পণ্য উৎপাদন সেটি বাজারজাতকরণ, সমস্যা সমাধান সবকিছুই পেয়েছেন ১০ম আন্তর্জাতিক পোলট্রি শোতে। রাজধানীর বসুন্ধরার আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটিতে ২-৪ মার্চ ওয়ার্ল্ডস পোলট্রি সায়েন্স অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ শাখা (ওয়াপসা-বিবি) আয়োজিত দশম আন্তর্জাতিক পোলট্রি প্রদর্শনীর সমাপ্তি শেষে মেলায় আগত দেশী-বিদেশী সকলের মুখেই এমন অনুভূতি ফুটে উঠেছে।

মেলার তিন দিনই পোলট্রি উদ্যোক্তাদের ভিড় ছিল লক্ষনীয়। পোলট্রি শিল্পের হ্যাচারি, ফিড মিল, পরিবেশবান্ধব অত্যাধুনিক কন্ট্রোলড্ শেড, রোগবালাই প্রতিরোধে ঔষধ, বিভিন্ন ইক্যুইপমেন্ট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের স্টলে ভিড় ছিল বেশি। পোলট্রি খামারে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত করতে ছিল সৌর প্যানেল প্রযুক্তি যা বর্তমান সময়ে একটি অত্যাবশ্যকীয় প্রযুক্তি।

খাবার স্টলে ছিল উপচে ভরা ভিড়। নিত্য নতুন পোলট্রি রেসিপির স্বাদ পেয়ে সকলেই খুব অনন্দ উপভোগ করছিলেন ফুড কোর্টে। অংশ নিয়েছিল বিভিন্ন আর্থিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান। প্রতিটি স্টলেই তথ্য নিতে সকলের ভিড় লক্ষ করা গেছে। মেলাকে ঘীরে অনেক কোম্পানী পণ্য বাজারজাতকরণের শুভ উদ্বোধনের ঘোষনা দিয়েছে। এছাড়া বেশ কয়েকটি কোম্পানী তাদের কিছু প্রমোশনাল কার্যক্রম করেছে যা ছিল লক্ষনীয়।

বিভিন্ন প্রান্ত থেকে খামারি এবং উদ্যোক্তাসহ প্রায় ৫০ হাজার দর্শনার্থী এবারের মেলা পরিদর্শন করেছেন বলে জানান ওয়াপসা বাংলাদেশ শাখার সাধারন সম্পাদক মো. সিরাজুল হক।

তিন দিনব্যাপি ১০ম আন্তর্জাতিক পোল্ট্রি শো ও সেমিনারের সমাপনী অনুষ্ঠানে ওয়ার্ল্ড'স পোল্ট্রি সায়েন্স অ্যাসোসিয়েশন-বাংলাদেশ শাখা (ওয়াপসা-বিবি) এর সভাপতি শামসুল আরেফিন খালেদ বলেন হালাল মার্কেটে বাংলাদেশের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে এবং সে সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে ইতোমধ্যেই প্রস্তুতি শুরু করেছে বাংলাদেশের পোল্ট্রি শিল্প।

পোল্ট্রি মেলার আহ্বায়ক মসিউর রহমান বলেন-বলেন- বৈশ্বিক উষ্ণতা ও জলবায়ুর পরিবর্তনের প্রভাব পোল্ট্রি শিল্পেও পড়তে শুরু করেছে। কাজেই আগামীতে এ নিয়েও আমাদের কাজ করতে হবে।

তিন দিনব্যাপী মেলায় সেরা স্টল হিসেবে প্রথম পুরস্কার পায় এভোন এনিম্যাল হেলথ। যুগ্মভাবে দ্বিতীয় পুরস্কার পায় চিকস্ এন্ড ফিডস্ ও রেনাটা লিমিটেড এবং তৃতীয় পুরস্কার পায় প্যারাগন গ্রুপ ও বেঙ্গল ওভারসীজ লিমিটেড।

আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন পোলট্রি বিশেষজ্ঞ ও বিজ্ঞানীরা মোট ১০৪টি টেকনিক্যাল পেপার উপস্থাপন করেছেন। সায়েন্টিফিক সেশনগুলোতে পোল্ট্রি রোগ-বালাই এবং চিকিৎসার নতুন নতুন দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে যা পোল্ট্রি স্বাস্থ্যের উন্নয়নে খুবই সহায়ক হবে বলে মনে করেন গবেষকরা।