Saturday, 23 September 2017

 

পুষ্টি ও মানসম্পন্ন উদ্যানতাত্বিক ফসল উৎপাদনের দিকে অধিক মনোযোগী হতে হবে-কৃষি মন্ত্রী

এগ্রিলাইফ২৪ ডটকম:পুষ্টি ও মানসম্পন্ন উদ্যানতাত্বিক ফসল উৎপাদনের দিকে আমাদের অধিক মনোযোগী হতে হবে। পুষ্টি চাহিদা পূরণের পাশাপাশি যাতে সংশ্লিষ্ট শিল্পের এবং প্রক্রিয়াজাতকরণের প্রসার ঘটে সেদিকটার দিকেও নজর রাখতে হবে।

রবিবার সকাল ১১টায় রাজধানীর বিএআরসি মিলনায়তনে বাংলাদেশ উদ্যান বিজ্ঞান সমিতির জাতীয় কনভেনশন-২০১৭’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কৃষি মন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী এমপি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, দানাজাতীয় খাদ্যশস্য  উৎপাদনে আজ আমরা স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন পাশাপাশি স্বল্প পরিমানে হলেও বিদেশে রপ্তানি করছি। কৃষির বহুমুখীকরণেও আমাদের অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। কিন্তু পুষ্টিতে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন এখন আমাদের প্রধান চ্যালেঞ্জ। উদ্যান ফসল বিশেষত ফলমূল, শাকসবজির যথার্থ উৎকর্ষ সাধনই হবে এলক্ষ্য অর্জনের অন্যতম প্রধান সহায়ক।

তিনি আরও বলেন, আমাদের দেশে উদ্যানতাত্বিক ফসল ফল ও শাকসবজি উৎপাদনে বিগত এক যুগে বিপ্লব সাধিত হয়েছে। সবজির আবাদী জমির হার বৃদ্ধিতে বিশ্বে প্রথম এবং গত এক দশকে সবজি আবাদী জমির পরিমান ৫শতাংশ হারে বেড়েছে। উৎপাদন বৃদ্ধির হারের দিক থেকে বিশ্বে বাংলাদেশ এখন তৃতীয়। আমরা ’৯৬তে হাইব্রিডের প্রচলন করে বিভিন্ন সমালোচনার সম্মুখীন হই। কিন্তু সেই সময়ে হাইব্রিড ফসল প্রচলনের জন্যই আজ আমরা সারা বছর সবজিসহ বিভিন্ন ফসল পাচ্ছি। হাইব্রিড নিয়ে অনেক নেতিবাচক কথা বলেছেন অনেকে। কিন্তু এখন তার সুফল কৃষক ও জনগণ পাচ্ছেন।

দেশীয় ফলের উৎপাদন বৃদ্ধির বিষয় উল্লেখ করে বলেন, আম উৎপাদনে আমরা বিশ্বে ৭ম ও পেয়ারা উৎপাদনে ৮ম। বিদেশি ফলে অনেকের আগ্রহ রয়েছে তাতে আমাদের সমস্যা নেই। তবে আমাদের দেশীয় সুস্বাদু ফল বিষয়ে গবেষণা জোরদার করতে হবে। আমাদের ফলকে কিভাবে আরো উন্নত করা যায় সে বিষয়ে কৃষি বিজ্ঞানীদের আহবান জানান।

মন্ত্রী বলেন, পণ্য রফতানির ক্ষেত্রে মান বজায় রাখতে হবে। খারাপ মানের পণ্য রফতানি করে দেশের সম্মান ক্ষুণ্ন হলে ছাড়া দেওয়া হবে না। এমনকি এর সঙ্গে জড়িত থাকলে কোনো সরকারি কর্মকর্তাকেও ছাড় দেওয়া হবে না। মন্ত্রী উল্লেখ করেন, আমাদের দেশে ফল সরবরাহের জন্য পরিবহন ব্যবস্থা খুবই দুর্বল। ছোটখাট সহজ পদ্ধতি ব্যবহার করে খাদ্য সামগ্রী সংরক্ষণ বিষেয়ে তাগিদ দেন। খাদ্যের মান নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে উন্নত ও  প্রশিক্ষণের মাধ্যমে জনবলকে দক্ষ করে গড়ে তোলার জন্য আহবান জানান।

অনুষ্ঠানে "Quality and safety Assurance for Commercial Horticulture" বিষয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. কামরুল হাছান।  

কনভেনশন-২০১৭’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কৃষিবিদ ড. কাজী এম বদরুদ্দোজা , এফএও বাংলাদেশের প্রতিনিধি Sue Lautze, বাংলাদেশ উদ্যান বিজ্ঞান সমিতির সভাপতি ও বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট এর মহাপরিচালক ড. আবুল কালাম আজাদ।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ উদ্যান বিজ্ঞান সমিতির মহাসচিব ড. মদন গোপাল সাহা।