Thursday, 14 December 2017

 

ব্রি উদ্ভাবিত আমন মৌসুমের নতুন হাইব্রিড ধান ব্রি হাইব্রিড ধান৬

ড. মোঃ জামিল হাসান, প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও প্রধান হাইব্রিড রাইস বিভাগ, ব্রি, গাজীপুর: ব্রি হাইব্রিড ধান৬ আমন মৌসুমের জন্য চাষ উপযোগী ব্রি উদ্ভাবিত একটি নতুন জাত। জাতটি জাতীয় বীজ বোর্ডের ৯২তম সভায় কারিগরী কমিটি কর্তৃক জাত হিসাবে নীতিগতভাবে অনুমোদন লাভ করে। জাতটির কৌলিক সারি বিআর১৩৬১এইচ (BR1361H)। জাতটির ক্রস কম্বিনেশন আইআর৭৯১৫৬এ/বিআরআরআই২০আর (IR79156A/BRRI20R)|

জাতটি ঢাকা, চট্টগ্রাম ও যশোর অঞ্চলে কৃষক পর্যায়ে চাষাবাদের জন্য অবমুক্ত হয়েছে। জাতটির মাতৃ সারি ইরি (IRRI) ও পিতৃ সারি ব্রি কর্তৃক উদ্ভাবিত। আমন মৌসুমে ব্রি কর্তৃক উদ্ভাবিত এটি দ্বিতীয় হাইব্রিড ধানের জাত।

জাতটির মূল বৈশিষ্ট্যসমূহঃ

  • গাছের উচ্চতা ১০৫-১১০ সে:মি:।
  • কান্ড শক্ত বিধায় ঢলে পড়ার সম্ভাবনা নেই
  • স্বাভাবিক অবস্থায় গাছ প্রতি গুচ্ছির সংখ্যা ১২-১৫টি
  • ফলন ৬.০-৬.৫ টন/হেক্টর
  • জীবনকাল ১১০-১১৫ দিন
  • দানায় অ্যামাইলোজের পরিমান শতকরা ২৪ ভাগ
  • দানার আকৃতি সরু ও লম্বা
  • দানায় প্রোটিনের পরিমান শতকরা ৯ ভাগ
  • ভাত ঝরঝরে
  • আমন মৌসুমে পিতৃ ও মাতৃ সারির জীবনকালের পার্থক্য ৩ দিন ও বোরো মৌসুমে ৬ দিন। উভয় মৌসুমে এই জাতটির বীজ উৎপাদন সম্ভব
  • আমন মৌসুমে বীজ উৎপাদনে ফলন ১.৫-২.০ টন এবং বোরো মৌসুমে বীজ উৎপাদনে ফলন ২.৩-২.৫ টন। অর্থাৎ উভয় মৌসুমে এই জাতটির বীজ উৎপাদন বানিজ্যিকভাবে লাভজনক।

চাষাবাদ পদ্ধতিঃ

  • স্বল্প জীবনকাল বিধায় বীজতলায় বীজ বপনের সময়ঃ ২১-৩০ আষাঢ় (৫ জুলাই-১৫ জুলাই)
  • চারা রোপনঃ ১৫-২৫ শ্রাবণ (৩০ জুলাই-১০ আগষ্ট)
  • বীজের হারঃ ১৫ কেজি/হেক্টর
  • চারার বয়সঃ ২৫-৩০ দিন
  • রোপন দূরত্বঃ ১৫ দ্ধ ২০ সে: মি:
  • প্রতি গোছায় চারার সংখ্যাঃ ১-২ টি।

চারা লাগানোর ৫-৭ দিনের মধ্যে মরা গুছি হালি দ্বারা পূরণ (Gap filling)করতে হবে।

সার ব্যবস্থাপনা [কেজি/বিঘা (৩৩ শতাংশ)]:

সার ও প্রয়োগের সময় ইউরিয়া টিএসপি এমপি জিপসাম জিংক
মোট সার ২০ ১১
জমি তৈরীর সময়
১ম উপরি প্রয়োগ চারা রোপনের ১০-১৫ দিন পর ৪.৫  - - - -
২য় উপরি প্রয়োগ চারা রোপনের ৩০-৩৫ দিন পর  ৪.৫ - - - -
৩য় উপরি প্রয়োগ চারা রোপনের ৫০-৫৫ দিন পর ৪.০ - - -

তবে এলসিসি কালার চার্ট ব্যবহার করে ও পূর্ববর্তী ফসলে ব্যবহৃত সারের অবশিষ্ট অবস্থা (Residual effect) বুঝে সারের মাত্রা নির্ধারণ করা উচিত। বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কাউন্সিল (BARC) কর্তৃক প্রকাশিত ফার্টিলাইজার রিকমনডেশন গাইড অনুযায়ী কৃষি অঞ্চলভেদে বোরণের ঘাটতি থাকলে গাইড অনুযায়ী অনুমোদিত মাত্রায় বোরণ সার ব্যবহার করতে হবে।

আগাছা দমনঃ আগাছা দমনে আগাছানাশক ব্যবহার করলে প্রথম কিস্তির ইউরিয়া সার উপরি প্রয়োগের সাথে অনুমোদিত আগাছানাশক সঠিক মাত্রায় প্রয়োগ করতে হবে এবং ক্ষেতে সেচ দিয়ে পানি ১০-১৫ দিন বেঁধে রাখতে হবে। এজন্য জমির সঠিক আইল ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত জরুরী।
সেচ ব্যবস্থাপনাঃ সার উপরি প্রয়োগের পূর্বে জমি ২-৩ বার শুকনা দিতে পারলে অধিক কুশি পাওয়া সম্ভব। পরিমিত সেচ ব্যবহার করতে হবে এবং ধানে দুধ আসা পর্যন্ত জমিতে প্রয়োজনীয় পানি বা রসের ব্যবস্থা করতে হবে।

রোগবালাই দমনঃ রোগ ও পোকামাকড়ের জন্য অনুমোদিত বালাই ব্যবস্থাপনা অনুসরণ করতে হবে।

ফসলের পরিপক্কতা ও কর্তনের সময়ঃ ১৫-৩০ কার্তিক (৩০ অক্টোবর-১০ ্নভেম্বর)। সাধারণত: শীষের অগ্রভাগ থেকে ৮০ ভাগ পেঁকে গেলে ধান কাঁটতে হয়।