Friday, 15 December 2017

 

পরবর্তী ফসল উৎপাদনের জন্য হাওড় এলাকায় বিনামূল্যে সার ও বীজ বিতরণ করা হবে: প্রধানমন্ত্রী

কৃষি ফোকাস ডেস্ক:প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তাঁর সরকার পরবর্তী ফসল উৎপাদনের জন্য হাওড় এলাকায় বিনামূল্যে সার, বীজ ও অন্যান্য কৃষি উপকরণ বিতরণ করবে। ৩০ এপ্রিল সকালে শাল্লা উপজেলা সদরে উপজেলার বন্যাদুর্গত মানুষের মধ্যে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ উপলক্ষে শহীদ আলী মডেল উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এক সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, হাওড় এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের আর্থিক ক্ষতি লাঘবে ব্যাংক ঋণের সুদ অর্ধেকে কমিয়ে আনা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকগুলো ইতোমধ্যে সুদের পরিমাণ অর্ধেকে কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী ঋণের কিস্তি পরিশোধে কৃষকদের উপর চাপ প্রয়োগ না করতে এনজিওগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, সরকার এ ব্যাপারে এনজিও ব্যুরোর মাধ্যমে তাদেরকে উপদেশ দেবে। তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে কৃষিখাতে বিদ্যুতের ভর্তুকি অব্যাহত থাকবে। শেখ হাসিনা বলেন, এতদঞ্চলের জনগণের ভোগান্তি দূরীকরণে মুক্ত বাজারে বিক্রি (ওএমএস) পরিচালনায় সরকার হাওড় এলাকার ইউনিয়ন পর্যায়ে ডিলার নিয়োগ করবে। এ ব্যাপারে অবিলম্বে পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য তিনি খাদ্যমন্ত্রীকে নির্দেশ দেন।

বন্যাদুর্গত এলাকার জনগণের জন্য প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ গ্রহণে আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, কেউ খাদ্য ও আশ্রয় সংকটে পড়বে না। সরকার হাওড় এলাকায় ওএমএস কর্মসূচির পাশাপাশি ভিজিএফ কর্মকান্ড সম্প্রসারণ করবে। তিনি বলেন, আমরা সরকারি খরচে ইউনিয়ন পর্যায়ে ভিজিএফ-এর চাল পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থা করেছি। প্রধানমন্ত্রী ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে হাওড় এলাকার নদী ও খালগুলোর নাব্যতা বৃদ্ধিতে পদক্ষেপ নেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, হাওড়কে জীবন্ত রাখতে হবে। কারণ এর সঙ্গে এতদঞ্চলের জনগণের জীবন ও জীবিকা জড়িত।

শেখ হাসিনা বোরো ধানের পাশাপাশি হাওড় অঞ্চলে মাছ ও গৃহপালিত পশুর উৎপাদন বাড়ানোর ওপর জোর দেন এবং হাওড়ের লোকদের একটি ফসলের (বোরো ধান) ওপর নির্ভরশীল না হয়ে বরং ডাল, সরিষা ও শাক-সবজি উৎপাদনের পরামর্শ দেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগে ভীত না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার সর্বদা যে কোন ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় প্রস্তুত রয়েছে। এ প্রসঙ্গে তিনি ১৯৯৮ সালের জলোচ্ছ্বাসের কথা উল্লেখ করেন, যা তাঁর সরকার অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে মোকাবেলা করেছে।

হাওড় এলাকার বিভিন্ন সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার এ অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে নানা পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।তিনি বলেন, ‘হাওড় এলাকায় টেকসই বাড়ি নির্মাণ এবং সোলার সিস্টেমের মাধ্যমে বিদ্যুত সরবরাহের জন্য পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।’

শেখ হাসিনা বলেন, হাওড় ও পাহাড়ী অঞ্চলে রেসিডেন্সিয়াল স্কুলের জন্যও প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। যাতে শিশুরা প্রতিদিন অবাধে স্কুলে যেতে পারে। তিনি বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত স্কুল-শিশুদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেয়া হবে। তিনি আরো বলেন, আগামীতে কমার্শিয়াল ফিশিংয়ের উন্নয়নে সরকার হাওড় এলাকায় মাছের পোনা অবমুক্ত করবে।

শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের উপর আস্থা রাখার আহবান জানিয়ে বলেন, জাতির পিতার হাতে প্রতিষ্ঠিত দলটি সবসময়ই জনগণের স্বার্থ রক্ষার ব্যাপারে নিবেদিত। তিনি বলেন, ‘আমাদের দল যতদিন ক্ষমতায় থাকবে ততদিন কোন অবিচার, দুর্নীতি এবং অপব্যবহার সহ্য করা হবে না।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধুমাত্র ধান চাষের উপর নির্ভরশীল হওয়া সত্ত্বেও হাওড়াঞ্চলের জনগণের জীবিকায়নে বৈচিত্র আনার লক্ষ্যে তাঁর সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘প্রত্যেক পরিবারের জন্য আমরা আশ্রয় ও খাদ্য নিশ্চিত করব।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত ২৫ এপ্রিল ৩ হাজার ৫২৫ মেট্রিক টন খাদ্য শস্য এবং ২০ কোটি টাকা হাওড়ের বন্যাদুর্গত জনগণের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘পাশাপাশি এই এলাকার প্রত্যেক পরিবার প্রতিমাসে নগদ পাঁচশ’ টাকা করে পাবে এবং এই খাতে ৪৯ কোটি ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।’

সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন, কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, খাদ্যমন্ত্রী এডভোকেট কামরুল ইসলাম, পানিসম্পদ মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য জয়া সেনগুপ্ত প্রমুখ।

পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নজরুল ইসলাম, আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন প্রমুখ এসময় উপস্থিত ছিলেন।
তথ্য সূত্র-বাসস, ছবি-পিআইডি’র সৌজন্যে