Friday, 15 December 2017

 

নিয়ামতপুরে ধান কাটা শুরু, শ্রমিক সংকট, মজুরি বেশী-পানির নিচে তলিয়ে গেছে ৪শ হেক্টর জমি

কাজী কামাল হোসেন, নওগাঁ:নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলায় বোরো ধান কাটার ধুম পড়ে গেছে। কিন্তু অসময়ে বৃষ্টি, ঝড় ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তাই শ্রমিক সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। যদিও বা কোন কোন কৃষক শ্রমিক পেয়েছে তাও অধিক মজুরি দিয়ে।

সম্প্রতি বৈরী আবহাওয়া ও কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে ছাতড়া বিলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে নিয়ামতপুর উপজেলার ৪টি ইউনিয়নের প্রায় সাড়ে ৫শ হেক্টর জমির বোরো ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এতে করে ক্ষতির স্বীকার হয়েছে চন্দননগর, ভাবিচা, শ্রীমন্তপুর ও বাহাদুরপুর ইউনিয়নের প্রায় সহস্রাধিক বোরো চাষী। ঠিক কেটে নেওয়ার আগ মুহুর্তে ধান হঠাৎ করেই পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছে কৃষক। কেউ কেউ আধাপাকা ধান কেটে ঘরে তুলতে চাইলেও মিলছে না শ্রমিক। যদিও বা কারো কারো শ্রমিক মিলছে তাও মজুরির পরিমান অধিক। কোন কোন কৃষক অর্ধেক দামে (অর্থাৎ প্রতি বিঘা ২০ মন হলে শ্রমিক পাবে ১০ মন) ধান কেটে নিচ্ছেন। আবার কেউ কেউ দিন চুক্তিতে (প্রতি দিন ৪শ টাকা করে) কেটে নিচ্ছেন। এমন দুর্যোগ মুহুর্তে কপাল পুড়ছে চাষীদের। আর এ জন্য উপজেলার ভাবিচা ইউনিয়নের মালঞ্চি গ্রামের পূর্ব পার্শ্বে শিব নদীর উপর প্রস্তাবিত রবার ড্যামআজও নির্মিত না হওয়ায় বার বার এমনটা ঘটছে বলে অভিযোগ ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের।

দুর্গত এলাকার কৃষকরা জানান, শিব নদীর উপর রবার ড্যাম নির্মানের পরিকল্পনা থাকলেও তা আজও বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে বিল এলাকার কৃষকরা বৃষ্টির পানি সংরক্ষনের মাধ্যমে বোরোর সেচ সংকট মোকাবেলায় খালেও উপর বাঁধ নির্মান করেন। কিন্তু এ বাঁধেই তাদের কপাল পুড়েছে। হঠাৎ করেই বেরী আবহাওয়ায় কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ তাদের কষ্টের ফসল ডুবিয়ে দেয়। তাদের অভিযোগ রবার ড্যাম থাকলে খরা মৌসুমে বৃষ্টির পানি সংরক্ষনের মাধ্যমে ও বর্ষায় বা হঠাৎ ভারী বর্ষনে অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা থাকলে তারা এমন ক্ষতির শিকার হতেন না। তাদের দাবী হাজার হাজার কৃষককে বাঁচাতে শিব নদীর উপর প্রস্তাবিত রবার ড্যাম নির্মান হোক আর এ জন্য তারা প্রধানমন্ত্রীসহ উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সু-দৃষ্টি কামনা করেন।

সরেজমিনে ভাবিচা ইউনিয়নের ছাতড়া বিলের সিদাইন গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, বোরো মাঠের বিস্তীর্ণ ক্ষেত পানি নিচে তলিয়ে আছে। একটু উপরের ক্ষেতের ধান বৃষ্টি ও ঝড়ের কারণে সম্পূর্ণ মাটিতে শুয়ে গেছে। এ গ্রামের অধিকাংশ কৃষক চলতি মৌসুমে ছাতড়া বিলে তাদের একমাত্র ফসল বোরো ধান রোপন করেছিলেন। কিন্তু উদ্ভুত পরিস্থিতিতে গ্রামের পুরুষের পাশাপাশি নারী ও শিশুরাও তলিয়ে যাওয়া ধান কেটে ঘরে তোলার চেষ্টা করছেন।  ভাবিচা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ওবাইদুল হক বলেন, গত বছর এলজিইডি সন্তোষপাড়া-ছাতড়া খাল কাটে ছাতড়া বিলে অতিরিক্ত জলাবদ্ধতার পানি শিব নদীতে নিষ্কাশনের জন্য। কিন্তু মনোহরপুরের কিছু কৃষক পানি সংরক্ষেনের মাধ্যমে বোরোর আবাদ করার লক্ষ্যে এ খালে বাঁধ দেয়। আর এ বাঁধের কারণেই কয়েক দিনের অনাকাঙ্খিত ভারী বর্ষণে পানি শিব নদীতে নিষ্কাশন হতে না পেরে বিলে বিশাল জলরাশি সৃষ্টি হয়ে কৃষকদের ধান তলিয়ে যায়।

সিদাইন গ্রামের কৃষক গিয়াস উদ্দিনের ছেলে মিজানুর রহমান বলেন, আমি ২৫ বিঘা বোরো আবাদ করেছি। এর মধ্যে ৮ বিঘা বিলের মধ্যে। বিলের কিছু জমি আধা আধিতে কাটতে হচ্ছে, কিছু জমি দৈনিক ৪শ টাকা দরে মজুরি দিয়ে কাটতে হচ্ছে আর কিছু জমি এক মনে আট কেজি ধান দরে কাটতে হচ্চে। তিনি আরো বলেন, প্রতি বিঘাতে যদি ২০মন ধান হয় তাহলে শ্রমিককে ১০ মন দিতে হবে। আর দৈনিক চুক্তির ক্ষেত্রে ৪শ টাকা হারে প্রতি বিঘা ধান কাটতে ১৫ থেকে ১৬জন লাগে সে হিসেবে প্রতি বিঘা ধান কাটতে ৬ হাজার ৪শ টাকা মজুরি দিতে হচ্চে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আমীর আব্দুল্লাহ মোঃ ওয়াহেদুজ্জামান বলেন, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা দায়িত্ব প্রাপ্ত এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের নাম ও জমির পরিমান সংগ্রহ করছেন। ইতি মধ্যে ১শ ৫০ হেক্টর ক্ষতিগ্রস্ত জমির তালিকা তৈরী করা হয়েছে। দু’একদিনের মধ্যে পুরো তালিকা তৈরী করা সম্ভব হবে বলে তিনি জানান। উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবু সালেহ মোঃ মাহফুজুল আলম জানান, আমি দুর্গত এলাকা পরিদর্শন করেছি এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরীর জন্য সংশ্লিষ্ট দফতরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।