Friday, 17 November 2017

 

বিশ্ব দুগ্ধ দিবস-২০১৭ উদযাপিত নিয়মিত দুধ পানে পুষ্টি চাহিদার বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টির আহ্বান

কৃষি ফোকাস ডেস্ক:বিশ্বের অন্যান্য দেশের মত বাংলাদেশেও আজ বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে বিশ্ব দুগ্ধ দিবস-২০১৭ উদযাপিত হয়েছে। দুধ এবং দুগ্ধজাত পণ্যের উপকারিতা বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (FAO)-র উদ্যোগে ২০০১ সাল থেকে প্রতিবছর জুন মাসের প্রথম দিনে দিবসটি পালিত হচ্ছে। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য  হচ্ছে ‘‘দুধ পানের অভ্যাস গড়ি, পুষ্টি চাহিদা পূরণ করি”

আজ রাজধানীর ফার্মগেটে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সামনে থেকে এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মাধ্যমে দিবসটির সূচনা হয়। কৃষি খামার সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে র‌্যালিটি ফার্মগেটস্থ বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলে গিয়ে শেষ হয়। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল মিলনায়তনে “বাংলাদেশে বেশি দুধ গ্রহনের মাধ্যেমে পুষ্টি বৃদ্ধিকরণ” (Enhancing nutrition through promoting milk consumption in Bangladesh perspective) শীর্ষক সেমিনারের আয়োজন করা হয়। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ও জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (FAO)  যৌথ আয়োজনে সেমিনারে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব  মো. মাকসুদুল হাসান খান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথি বলেন, ২০১১-১২ অর্থ বছরে দেশে দুধ উৎপাদনের পরিমান ছিল ৩৪.৬০ লক্ষ মেট্রিক টন। মাত্র পাঁচ বছরে বেড়ে অর্থাৎ ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে দেশে দুধ উৎপাদনের পরিমান ছিল ৭২.৭৫ লক্ষ মেট্রিক টন। মাত্র ৫% সুদে ব্যাংক লোন দিয়ে সরকার দুধ উৎপাদন উৎসাহিত করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। সুতরাং দুধ উৎপাদন প্রবৃদ্ধির এ ধারা যেমন আমাদের ধরে রাখা দরকার তেমনি দরকার গুনগত উৎপাদন নিশ্চিত করা।

তিনি আরো বলেন, দুগ্ধনীতির খসড়া চুড়ান্ত হবার দ্বারপ্রান্তে যেখানে মানসম্মত উৎপাদনের উপর জোর দেয়া হয়েছে। উক্ত নীতি বাস্তবায়ন করা গেলে পর্যাপ্ত দুধ উৎপাদন, দুগ্ধ বহুমূখীকরণ,  মান নিয়ন্ত্রন, রপ্তানী করা সবই সম্ভব হবে। পাশাপাশি দুগ্ধ বাজারজাতকরণ এর চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করাও এখন অত্যন্ত প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন। ইতোমধ্যেই শ্বেত বিপ্ল¬বের লক্ষ্যে বিশ্ব ব্যাংক প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ করতে যাচ্ছে যার মাধ্যমে গুণগত মানসম্পন্ন অধিক পরিমান দুধ উৎপাদন করতে আমরা সক্ষম হবো।

সেমিনারে মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের এআইইটি এর প্রকল্প পরিচালক ড. মো. বেলাল হোসেন। সেমিনারে জানানো হয়, এদেশে সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও অনেক অভিভাবকের মধ্যে সন্তানদেরকে দুধপানের ব্যাপারে উদ্বুদ্ধ করার বিষয়ে সচেতনতার অভাব রয়েছে। বিভিন্ন ফাস্ট ফুড বা ড্রিংকসের পেছনে অর্থ ব্যয় করলেও দুধপানের বিষয়ে উৎসাহ দিতে দেখা যায় না। এজন্য শিশুদেরকে নিয়মিত দুধপানের ব্যাপারে সচেতন করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। বিশেষ করে সুস্থ ও মেধাবি জাতি গঠনের লক্ষ্যে অন্ততপক্ষে সপ্তাহের একটি দিনে বিদ্যালয় গুলোতে স্কুলের টিফিনে দুধ সরবরাহ করার উদ্যোগ নেয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. আইনুল হক এর সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বাংলাদেশে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার প্রতিনিধি মিসেস সু লাউজ  (MS Sue Lautze)  ও বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. জালাল উদ্দীন।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, দুধ শুধুমাত্র শিশুখাদ্য নয়। সকল বয়সের মানুষের জন্যে অত্যন্ত পুষ্টিকর স্বাস্থ্যসম্মত একটি পূর্ণাঙ্গ খাদ্য হলো দুধ। মেধা বিকাশ থেকে শুরূ করে নিরোগ জীবন যাপনের বিকল্পহীন খাদ্যের নামই দুধ। সেমিনারে দুগ্ধ শিল্প উদ্যোক্তরা প্রত্যাশা করেন -মেধাবী প্রজন্ম গঠনে নিরাপদ দুগ্ধ উৎপাদনের লক্ষ্যে সুসংগঠিত বাজার ব্যবস্থা, গো-খাদ্যের মূল্য স্থিতিশীলতা, সহজ শর্তে লোন প্রাপ্যতা, খামার উপকরণ এ ভর্তুকি, বহুমূখীকরণ শিল্পে লোন প্রদানসহ সরকারের প্রত্যক্ষ সহযোগীতা কামনা করেন।

বিশ্ব দুগ্ধ দিবস ২০১৭ উপলক্ষে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের উদ্যোগে বিভিন্ন এতিমখানায় দুধ বিতরণ করা হয় এবং দিবসটি সারাদেশে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়।
-প্রেস রিলিজ