Friday, 17 November 2017

 

রাজধানীতে ফলদ বৃক্ষ রোপণ পক্ষ ও জাতীয় ফল প্রদর্শনী ২০১৭ এর উদ্বোধন

কৃষি ফোকাস ডেস্ক:‘স্বাস্থ্য পুষ্টি অর্থ চাই, দেশি ফলের গাছ লাগাই’ এ প্রতিপাদ্য নিয়ে প্রতি বছরের মতো এবারও কৃষি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ফলদ বৃক্ষ রোপণ পক্ষ ও জাতীয় ফল প্রদর্শনী ২০১৭ এর আয়োজন করা হয়েছে। রাজধানীর  ফার্মগেটে আ. কা. মু.  গিয়াস উদ্দীন মিলকী অডিটোরিয়াম চত্বরে ১৬ হতে ১৮ জুন তিন দিনব্যাপী জাতীয় ফল প্রদর্শনী শুরু হয়েছে।

জাতীয় ফল প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এমপি বলেন,  আমাদের আগে যে খাদ্যের অভার ছিলো, তা এখন আর নেই। আধুনিক প্রযুক্তি ও গবেষণার মাধ্যমে আমরা এ সফলতা অর্জন করেছি। আমাদের জনসংখ্যা বাড়ছে, কর্ষিত জমির পরিমান কমেছে। তারপরও বাংলাদেশ কৃষি ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে। মন্ত্রী বলেন, আগে ফলসহ বিভিন্ন ফসলের স্টক বাহির থেকে আনা হতো, এখন আমরা নিজেরাই তৈরী করছি। এটা সম্ভব হয়েছে আমাদের গবেষণা ও আধুনিক প্রযুক্তি গ্রহনের কারণে। খাদ্যে পুষ্টির বিষয় বিশেষ নজর দেয়ার বিষয় উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশে এখনো যথেষ্ট পুষ্টির অভাব রয়েছে। বিশেষ করে আমাদের নতুন প্রজন্মের মধ্যে। আমাদের প্রচলিত ফলের উন্নয়নের মাধ্যমে ফলের সরবরাহ সারা বছর নিশ্চিতকরণে কৃষির অগ্রযাত্রাকে অব্যাহত রাখার আহবান জানান।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেন, আমরা আম উৎপাদনে সপ্তম ও পেয়ার উৎপাদনে বিশ্বে অষ্টম স্থানে আছি। অন্যান্য ফলের ক্ষেত্রে আমাদের বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। বিশেষ করে লিচুর ক্ষেত্রে। লিচুর দীর্ঘ জীবনকালের জাত উদ্ভাবনের বিষয়ে গবেষকদের আহবান জানান। কাঁঠালের বিষয় উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু কাঁঠালকে জাতীয় ফল হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন। কাঁঠাল এমন একটি ফল, যার কোনো অংশই ফেলানো যায় না। কাঁচা কাঁঠালকে ভেজিটেবল মিট হিসেবে ব্যবহার/গ্রহন ও বিদেশে রপ্তানির বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের পরামর্শ দেন।

এদিন অনুষ্ঠানের শুরুতে সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা থেকে আ. কা. মু. গিয়াস উদ্দীন মিলকী অডিটোরিয়াম চত্বর পর্যন্ত এক বর্ণাঢ্য র‌্যালির আয়োজন করা হয়। র‌্যালি শেষে প্রধান অতিথি ফলদ বৃক্ষ রোপণ পক্ষ  ও জাতীয় ফল প্রদর্শনী ২০১৭ এর উদ্বোধন করেন এবং স্টল পরিদর্শন করেন। ফলদ বৃক্ষ রোপণ পক্ষ ও জাতীয় ফল প্রদর্শনী ২০১৭ উপলক্ষে সকাল ১০টা ১৫মিনিটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ অডিটেরিয়াম, ফার্মগেট, ঢাকায়  সেমিনারের আয়োজন করা হয়।

কৃষি সচিব মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ এর সভাপতিত্বে ‘খাদ্য, পুষ্টি ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তায় দেশি ফলের ভূমিকা’ শীর্ষকসেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ের  অধ্যাপক ড. এম মোফাজ্জল হোসেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (সম্প্রসারণ) মো. মোশারফ হোসেন। শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কৃষিবিদ মো. গোলাম মারুফ। মূল প্রবন্ধের ওপর আলোচনায় অংশ নেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হর্টিকালচার উইংয়ের পরিচালক কৃষিবিদ মো. কুদরত-ই-গনী।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের ফল প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শন করা হয়। জনগণকে সচেতন করতে পোস্টার, লিফলেট ও বুকলেট বিতরণ করা হয়েছে এবং স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের ফলদ বৃক্ষ রোপণে উদ্বুদ্ধ করতে রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে কৃষি তথ্য সার্ভিস কর্তৃক ‘কৃষিকথা’ পত্রিকার বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ, জাতীয় দৈনিকে ক্রোড়পত্র প্রকাশসহ বেতার ও টেলিভিশনে ফলদ বৃক্ষ রোপণ সম্পর্কে ব্যাপক প্রচারের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

জাতীয় ফল প্রদর্শনী চলবে ১৮ জুন পর্যন্ত। মেলায় অঞ্চলভেদে বিভিন্ন ফলের পৃথক স্টল রয়েছে৷ উত্তরাঞ্চলের ফল, ভাওয়াল ও মধুপুর গড় অঞ্চলের ফল, উপকূলীয় অঞ্চলের ফল, পাহাড়ি অঞ্চলের ফল ইত্যাদি ভাগে ফলের পসরা সাজিয়ে মেলায় আগত স্টগুলো। মেলায় মোট স্টলের সংখ্যা ৭৫টি। সরকারি স্টলের মধ্যে রয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, কৃষি তথ্য সার্ভিস, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন, কৃষি বিপনন অধিদপ্তর ও হর্টেক্স ফাউন্ডেশন। এছাড়াও আম উৎপাদক ও বিপননকারী বেসরকারি সংস্থার ৪৯টি স্টল বসেছে প্রদর্শনীতে।

মেলায় আমের ৬০টির অধিক প্রজাতিসহ প্রায় ১৫২ প্রজাতির ফলের একাধিক জাত প্রদর্শিত হচ্ছে। মেলা প্রতিদিন প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। মেলায় আগত দর্শণার্থীরা ফল চাষের বিভিন্ন প্রযুক্তিসম্পর্কে জানাসহ রাসায়নিকমুক্ত বিভিন্ন জাতের ফল ক্রয় করতে পারবেন। ফলদ বৃক্ষ রোপণ পক্ষ ও জাতীয় ফল প্রদর্শনী ২০১৭ উপলক্ষে জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এ সবের মধ্যে রয়েছে বিনামূল্যে ফলের চারা/কলম বিতরণ, সেমিনার, কর্মশালা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান প্রভৃতি।-প্রেস বিজ্ঞপ্তি