Friday, 17 November 2017

 

পোলট্রি শিল্পের রোডম্যাপ-২০২৫ সফল করতে গণমাধ্যমের সহযোগিতা প্রয়োজন

পোলট্রি ও কৃষি বিষয়ক পত্রিকার সাথে বিপিআইসিসির মতবিনিময় সভায় নেতৃবৃন্দ
কৃষি ফোকাস ডেস্ক:আগামী ২০২৫ সাল নাগাদ পোল্ট্রি শিল্পের রূপরেখা কেমন হবে তা তুলে ধরতে গত ১৪ জুন রাওয়া ক্লাবে অনুষ্ঠিত বিপিআইসিসি’র ইফতার মাহফিলে পোল্ট্রি শিল্পের রোডম্যাপ-২০২৫ উপস্থাপন করেন সংগঠনটির সভাপতি মসিউর রহমান। এ রোডম্যাপ বাস্তবায়নে সরকারের পাশাপাশি গণমাধ্যমের সহযোগিতা চান জনাব রহমান।

পোল্ট্রি ও কৃষি বিষয়ক পত্রিকার ব্যবস্থাপনার সাথে জড়িত সংবাদ প্রতিনিধিদের সাথে ইফতার পরবর্তী এক মতবিনিময় সভায় জনাব মসিউর বলেন, দেশীয় চাহিদা মিটিয়ে আমরা রফতানির কথা ভাবছি। আর সে কারণে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা খুবই প্রয়োজন। দরকার সরকারের সহযোগিতা এবং গণমাধ্যমের ইতিবাচক ভূমিকা।  
 
জনাব মসিউর বলেন- বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের পোল্ট্রি শিল্প বেশ কিছু সংকটের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করছে- (ক) ২০১৫-১৬ অর্থবছর থেকে কর ও শুল্ক আরোপ হয়েছে। (খ) উৎপাদন খরচ বেড়েছে (গ)একদিন বয়সী বাচ্চার দাম বেড়েছে (ঘ) কমেছে ডিমের দাম। কিছু কিছু এলাকায় মুরগির মাংসের দামও কমেছে (ঙ) একটি মধ্যস্বত্ত্বভোগী শ্রেণী বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে (চ) খামারিদের স্বার্থ-সংরক্ষণের নামে একটি মহল পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেষ্টা করছে- যা সুযোগ-সন্ধানী আমদানিকারকদের অবস্থানকে শক্তিশালী করছে। একই সাথে দেশীয় পোল্ট্রি শিল্পের ভয়াবহ ক্ষতির প্রেক্ষাপট তৈরি করছে। তাই আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। আর এ সতর্কতার সম্ভাব্য সবগুলো দিক মাথায় রেখে মিডিয়া কনটেন্ট ঠিক করতে পারলে তা পোল্ট্রি শিল্পের জন্য সহায়ক হবে।

জনাব মসিউর বলেন- পোল্ট্রি এবং কৃষিভিত্তিক ম্যাগাজিনগুলো আমাদের ইমেজের একটা বড় জায়গা। সে কারণেই আমার কাছে মনে হয় দেশীয় পোল্ট্রি শিল্পকে এবং আমাদের ইতিবাচক দিকগুলোকে আরও ভালভাবে, আরও বেশি করে তুলে ধরা প্রয়োজন। জাতীয় দৈনিকগুলো অনেক শক্তিশালী হলেও পোল্ট্রি বিষয়ে তাদের স্পেশালিষ্ট রিপোর্টার নেই। সে বিচারে পোল্ট্রি এবং কৃষি বিষয়ক ম্যাগাজিনগুলোর গুরুত্ব অনেক বেশি।  

২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট প্রসঙ্গে জনাব মসিউর বলেন- কর বা শুল্ক কী পরিমান বাড়ছে বা কমছে তার ওপর পোল্ট্রি ব্যবসার ভবিষ্যত নির্ভর করে। কারণ এগুলোর  ঝহড়ি ইধষষরহম ঊভভবপঃ আছে। অনেকটা পাহাড়ের চূড়ায় টিপ্ টিপ বৃষ্টি থেকে সৃষ্ঠ পাহাড়ি ঢলের মত। আপাত বিচারে মনে হয় ‘টিপ্ টিপ্’ বৃষ্টি। কিন্তু যখন নিচে নেমে আসে তখন প্রলয় তৈরি করে। আমাদের ক্ষেত্রেও তেমনটি হচ্ছে। তাই বাজেট বিষয়ক রিপোর্টিং এর ওপর গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন। মার্চের আগেই বাজেট নিয়ে মূল কাজগুলো শুরু হয়ে যায়। কিন্তু আমাদের ম্যাগাজিনগুলোতে তার প্রতিফলন খুব কমই দেখা যায়। আপনারা যদি এ বিষয়টি সিরিয়াসলি দেখেন তবে আমরা সকলেই উপকৃত হব।

জনাব মসিউর বলেন- মাননীয় অর্থমন্ত্রী তাঁর বাজেট বক্তৃতায় পোল্ট্রি খাতের খাদ্য সামগ্রী ও নানাবিধ উপকরণ আমদানিতে সরকারের দেয়া বিদ্যমান শুল্ক ও কর অব্যাহতি সুবিধা বহাল রেখে আরো কিছু পণ্যে শুল্ক সুবিধা তথা প্রণোদনা দেয়ার প্রস্তাব রেখেছেন। মাননীয় অর্থমন্ত্রীর বক্তৃতায় আশ্বাস থাকলেও বাস্তবেই আমরা কতটুকু সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছি তা এখনও পরিষ্কার নয়। প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে বিপিআইসিসি টীমের বিশ্লেষণ থেকে দেখা যাচ্ছে আমাদের প্রধান দু’টি দাবি ভূট্টা আমদানিতে ৫শতাংশ অগ্রিম আয়কর এবং সয়াবিন মিল আমদানিতে ১০ শতাংশ কাস্টমস শুল্ক প্রত্যাহারের দাবি উপেক্ষিত হয়েছে।

অন্যদিকে বেশকিছু পণ্যে নতুন করে শুল্ক আরোপ করা হয়েছে যেমন: লাইসিন এন্ড ইটস ইস্টার (২৯২২.৪১.০০) আমদানিতে নতুন করে ৫ শতাংশ হারে কাস্টমস শুল্ক এবং লাইমস্টোন আমদানিতে ২৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। এর ফলে পোল্ট্রি ফিডের দাম এবং পরিণামে একদিন বয়সী বাচ্চা, ডিম ও মুরগির মাংসের উৎপাদন খরচ বাড়বে। দেশের মানুষের পুষ্টি ও স্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে আরোপিত শুল্ক এবং অগ্রিম আয়কর প্রত্যাহারের দাবিটি সরকারের পুণর্বিবেচনা করা উচিত বলে মনে করেন তিনি। তবে ডিডিজিএস আমদানিতে ১৫ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহার এবং ফিনিশড পোল্ট্রি ফিড আমদানিতে শুল্ক ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করায় অর্থমন্ত্রী এবং এনবিআর’কে ধন্যবাদ জানান তিনি। তাঁর মতে সরকারের এ সিদ্ধান্ত দেশীয় ফিড মিলগুলোর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।

এনিমেল হেলথ কোম্পানীজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (আহকাব) সভাপতি এ.কে.এম আলমগীর বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে কিছু কিছু পণ্যের এইচএস কোড জটিলতার অবসান হয়েছে তবে আরও কিছু পণ্যের এইচএস কোড জটিলতা নিরসনের জন্য তাঁরা কাজ করছেন।

ব্রিডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (বিএবি) এর সভাপতি আবু লুৎফে ফজলে রহিম খান শাহরিয়ার বলেন, আগামীতে বাংলাদেশের জন্য তেলাপিয়া মাছ রফতানির সুযোগ তৈরি হতে পারে। কিছু ভুলের কারণে চিংড়ি রফতানি বাধাগ্রস্ত হয়েছে। তেলাপিয়া মাছের রফতানি বাজার ধরতে হলে বিদেশী ক্রেতাদের আস্থা অর্জন করতে হবে এবং সেক্ষেত্রে ইতিবাচক মিডিয়া রিপোর্টও একটি ফ্যাক্টর।    

ওয়ার্ল্ড’স পোল্ট্রি সায়েন্স অ্যাসোসিয়েশন-বাংলাদেশ শাখার সভাপতি শামসুল আরেফিন খালেদ বলেন, বিপিআইসিসি’র বিগত বছরগুলোর কার্য়ক্রম উপস্থাপিত হয়েছে। আপনারা লক্ষ্য করেছেন আমরা ধীরে ধীরে আমাদের অভীষ্ট লক্ষ্যের দিকে অগ্রসর হচ্ছি এবং গত দুই বছরে আমাদের কাজের গতি কয়েকগুন বাড়িয়ে দিয়েছি। এ বছর এবং আগামী বছরগুলোতে আমাদের কাজের পরিধি আরও বাড়বে ইনশাআল্লাহ্। ইন্ডাষ্ট্রি বড় হলে দেশ এবং দেশের মানুষসহ সংশ্লিষ্ট সকলেই উপকৃত হবেন। তাই আমাদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। জনাব খালেদ বলেন- আপনারা অনেক ভাল কাজ করছেন। আশাকরি আরও ভাল কাজ দেখতে পাব। গত মার্চ মাসে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক পোল্ট্রি শো ও সেমিনার উপলক্ষ্যে পোল্ট্রি ও কৃষি বিষয়ক ম্যাগাজিনগুলোর ইতিবাচক কাভারেজের জন্য সকলকে ধন্যবাদ জনান জনাব খালেদ।

নভেম্বরে মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান জনাব মসিউর। তিনি বলেন- আমরা চাই সবগুলো ম্যাগাজিন এতে অংশগ্রহণ করুক। গত বছর হাতেগোনা দু-একটি ম্যাগাজিন অংশ নিয়েছিল। আবার দেখা গেছে অনেক পত্রিকায় অনেক ভাল প্রতিবেদন ছিল কিন্তু লেখকরা তা জমা দেননি। ফলে সেগুলো বিবেচনায় নেয়া সম্ভব হয়নি। তাই পত্রিকার ব্যবস্থাপনার সাথে যাঁরা জড়িত আছেন তাঁরা যদি প্রতিবেদক এবং লেখকদের সহযোগিতা করেন তাহলে অনেক ভাল লেখা প্রতিযোগিতায় আসতে পারে।

জনাব মসিউর জানান, এ বছর বিপিআইসিসি’র বেশ কিছু কার্যক্রম আছে। সকল অনুষ্ঠানেই পোল্ট্রি ও কৃষি বিষয়ক ম্যাগাজিনগুলোর উপস্থিতি কামনা করেন তিনি। প্রতি ৩-৪ মাসে অন্তত: একবার করে এ ধরনের মতবিনিময় আয়োজনের আশ্বাস দেন জনাব মসিউর।

মতবিনিময় অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মাঝে উপস্থিত ছিলেন আহকাবের সাধারন সম্পাদক ডা. কামরুজ্জামান, ওয়াপসা-বিবি’র সাধারন সম্পাদক জনাব মাহাবুব হাসান, পোল্ট্রি খামার বিচিত্রা’র সম্পাদক ও প্রকাশক জনাব কামাল আহম্মেদ, এগ্রিলাইফ২৪ ডটকম এর সম্পাদক ও সিইও কৃষিবিদ জনাব মো. শফিউল আজম, কৃষি ও আমিষ এর সম্পাদক জনাব নুরুজ্জামান, ফার্মহাউস পত্রিকার ব্যবস্থাপনা সম্পাদক জনাব মোঃ খোরশেদ আলম (জুয়েল)  এবং পুনশ্চ পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক জনাব এবিএম আসাদুজ্জামান।

এছাড়াও কৃষি কাগজ পত্রিকার প্রতিনিধি হিসেবে এনটিভি’র স্টাফ করেসপন্ডেন্ট জনাব মাকসুদুল হাসান, ফামর্স এন্ড ফার্মার্স পত্রিকার প্রতিনিধি হিসেবে জনাব শফিক, খামার পত্রিকার প্রতিনিধি হিসেবে জনাব এনায়েত, বিপিআইসিসি’র সচিব জনাব দেবাশিষ নাগ, উপদেষ্টা জনাব শ্যামল কান্তি ঘোষ, মিডিয়া উপদেষ্টা মো. সাজ্জাদ হোসেন এবং এক্সিকিউটিভ আবু বকর মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন।-প্রেস বিজ্ঞপ্তি