Saturday, 18 November 2017

 

কোরবানির জন্য সুস্থ পশুর কিছু বৈশিষ্ট্য

কৃষিবিদ মোহাইমিনুর রশিদ:আর এক দিন বাদেই ঈদ-উল-আযহা। ব্যস্ত জীবনে কোরবানির পশু ঈদের ২/১ দিন আগেই কিনতে হয়। তবে সুস্থ পশু চেনার জন্য আপনাকে কয়েকটি বিষয়ের দিকে অবশ্যই লক্ষ রাখা প্রয়োজন। কোরবানির জন্য বয়সের ব্যাপারটি অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে।

সুস্থ পশু চেনার সাধারণ কিছু বৈশিষ্ট্য হলো মাথা তথা শিরদাড়া উঁচু, কান খাঁড়া, শরীর টানটান থাকবে। পশুগুলোর মধ্যে প্রাণোচ্ছ্বল ও প্রাণচাঞ্চল্যপূর্ণ চটপটে ভাব থাকবে, দ্রত হাঁটাচলা ও স্বাভাবিকভাবে খাওয়া-দাওয়া করবে। ভারি আওয়াজে এদিক-ওদিক ছোটাছুটি করতে থাকবে এমনকি গুঁতো দিতেও উদ্যত হবে। পশুর মুখের সামনে কিছু খাবার বা ঘাস দিলে নিজ থেকেই জিব দিয়ে টেনে নিয়ে খাবার খেতে থাকে তাহলে পশুটি সুুস্থ।

সুস্থ সবল পশুরা লেজ নাড়িয়ে শরীরের মাছি তাড়ায়। এক স্থানে স্থির হয়ে দাড়িয়ে থাকতে চায় না, কান নাড়াচাড়া করে, পশুর কাছে গেলে অনেক সময় গুতা দেওয়ার চেষ্টা করে, সুস্থ পশুর নাকের উপরটা ভেজা ভেজা থাকে। সুস্থ পশু বিশেষ করে গরুর ক্ষেত্রে পিঠের কুঁজ/গজ মোটা ও টান টান হয়ে থাকে। তবে মোটাতাজা পশু মানেই সুস্থ এমনটা নয় বরং বেশি মোটাতাজা পশুতে চর্বির পরিমাণ বেশি থাকে যা পরবর্তীতে মানুষের স্বাস্থ্যের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

কোরবানির পশু কেনার আগে পশুর শরীরের কোথাও ক্ষত আছে কিনা ভালোভাবে পরীক্ষা করে নিন। বিশেষ করে শিং ভাঙ্গা আছে কিনা, লেজ, মুখ, দাঁত, খুর এসব কিছুই পরীক্ষা করে দেখুন, কোন ত্রুটি চোখে পড়ে কিনা। অন্যদিকে স্থির হয়ে দাড়িয়ে থাকা, ঝিমানো, চোখের পাতা সাদাটে বর্ণের, মোটাতাজা পশুর শরীরে হাতের আঙ্গুলে চাপ দিলে ডেবে যাওয়া ও পূর্বাবস্থায় ফিরে আসতে যথেষ্ট সময় লাগলে এসব পশু না কেনার পরামর্শ রইল। তবে পশু কেনার সময় ওজনে ভারি, ফোলা ও চর্বিজাতীয় পশু না কেনাই উচিত।

সুস্থ, সুন্দর, সবল, আকর্ষনীয়, চটপটে পশুটি কোরবানির জন্য নির্বাচন করুন। বেশি দামের জৌলুস ও অহমিকায় নয় বরং নৈতিক মননশীলতার মাধ্যমে মহান আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি ও নৈকট্য লাভই হউক আপনার কোরবানির মূল লক্ষ্য।

লেখক: আঞ্চলিক বেতার কৃষি অফিসার, কৃষি তথ্য সার্ভিস, সিলেট।