Saturday, 23 September 2017

 

BARC NATP Phase-2 প্রকল্পের আর্থিক সহযোগীতায় বিনামূল্যে তিতির পাখি বিতরণ

এগ্রিলাইফ২৪ ডটকম:বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় পোল্ট্রি সায়েন্স বিভাগের আয়োজনে BARC NATP Phase-2 প্রকল্পের আর্থিক সহযোগীতায় এবং বাংলাদেশ লাইভস্টক সোসাইটির সার্বিক সহযোগিতায় ৫ই সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অদূরে মেহেরচন্ডি প্রাণিসম্পদ সমৃদ্ধ গ্রামে মোট ১৫ জন খামারীার প্রতি জনকে ২০টি করে এক মাস বয়সী তিতির পাখি বিতরণ করা হয়।

এ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় পোল্ট্রি সায়েন্স বিভাগের প্রফেসর ড. সুবাস চন্দ্র দাশ এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রফেসর আনন্দ কুমার সাহা, উপ-উপাচার্য, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। তিতির পাখি বিতরণ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রফেসর ড. সৈয়দ শাহ আলম, কেবানসাং বিশ্ববিদ্যালয়, মালোশিয়া; রাবি প্রফেসর ড. মোঃ জালাল উদ্দিন সরদার, সভাপতি, বাংলাদেশ লাইভস্ট্রক সোসাইটি, ডাঃ এমএম মোশারফ হোসেন, সহকারি পরিচালক, বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তর, রাজশাহী বিভাগ, রাজশাহী; মোঃ দেলোয়ার হোসেন খান, সেলস্ ম্যানেজার, এসিআই এ্যানিমেল হেলথ্, রাজশাহী; মাকসুদা মল্লিক প্রমি, সাবেক রাসিক কাউন্সিলর।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন ড. মোঃ হেমায়েতুল ইসলাম আরিফ, সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ লাইভস্টক সোসাইটি। অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ডাঃ আব্দুল মান্নান, সাবেক কো-অর্ডিনেটর, যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, রাজশাহী, মোসাঃ সেলিনা বেগম, নারী উদ্যোক্তা, রাজশাহী, মোঃ আশিফুর রহমান সজল, সম্পাদক, কেইজ বার্ডস্ এসোসিয়েশন, রাজশাহী। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন গণবিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক ডাঃ মোঃ রিয়াজুল ইসলাম।

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের ন্যাশনাল এগ্রিকালচারাল টেকনোলজী প্রজেক্ট ফেজ-২ (NATP Phase-2) প্রকল্পের আর্থিক সহযোগীতায় বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ এর পোল্ট্রি বিজ্ঞান বিভাগে “Small Scale Farming of Guineafowls and Turkeys in Bangladesh- a tool for poverty reduction” শীর্ষক একটি উপ-প্রকল্প পরিচালিত হচ্ছে। উক্ত উপ-প্রকল্পের গবেষণা কাজের অংশে হিসেবে এটি কর্মসূচীর প্রথম ধাপ। পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে পুরো গ্রামেই তিতির পাখি বিতরণ করা হবে। ইতোমধ্যেই, খামারীদের সাথে আলোচনার মাধ্যমে যাদের ২/৩টি মুরগী বা হাঁস ছিল তা বিক্রয় করে দেয়া হয়েছে।

কেন তিতির পাখি পালন?
তিতির পাখি উত্তরবঙ্গে চীনা মুরগি নামেই বেশি পরিচিত। অতীতে গ্রামীণ জনপদে দেশি মুরগির সাথে সচরাচর চোখে পড়তো এই পাখিটি। ছাই রংয়ের পালকের উপর সাদা ফোটা ফোটা রং এর পাখিটির ইংরেজী নাম গিনিফাউল (Guineafowl), যার উৎপত্তি আফ্রিকায়। পার্ল ভ্যারাটির এ পাখি পরবর্তীতে ইউরোপ হয়ে পাক ভারত উপমহাদেশে প্রবেশ করে ব্রিটিশ উপনিবিশের মাধ্যমে।

আগে তিতির পাখি সচরাচর চোখে পড়লেও বিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে এসে বাংলাদেশে হঠাৎ করেই এর সংখ্যা কমতে শুরু করে। কয়েক বছর আগে এ পাখির সংখ্যা আশংকাজনকভাবে হ্রাস পায় এবং গ্রামাঞ্চলে কৃষকের পরিবারে এটি আর চোখেই পড়তো না। বরং শহরে খাঁচায় পোষা পাখি হিসেবে প্রতিটি পাখি ১০০০-২০০০/- টাকায় বিক্রি হতো।

অথচ, দেশি মুরগির সাথে তুলনামূলক বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, তিতির পাখির রোগ-বালাই নাই বললেই চলে। প্রতিকূল পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে চলতে এ পাখির জোড়া নাই। গ্রামীন পরিবেশে ছেড়ে দিয়ে পালন করলে দেশি মুরগি যেখানে ৫০-৬০টি ডিম দেয়, সেখানে তিতির পাখি ডিম দেয় ১২০-১৪০টি। পাঁচ মাস বয়সে দেশি মুরগির ওজন যেখানে ৮০০ গ্রাম থেকে ১.০ কেজি, ঐ একই সময়ে তিতির পাখির ওজন হয় ১.৫-১.৮ কেজি। মাংস খেতেও দেশি মুরগির মাংসের মত সুস্বাদু। মাংসে চর্বির পরিমাণ খুবই কম