Saturday, 23 September 2017

 

কলাগাছের সিগাটোকা রোগের বিস্তারিত

এগ্রিলাইফ২৪ ডটকম:কলা একটি অর্থকরী ফসল যা কৃষকরা নগদমূল্যে বিক্রয় করে থাকেন। তবে যে সব রোগের কারণে কলা চাষীরা অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়েন তাঁর মধ্যে অন্যতম একটি রোগ হলো কলা গাছের সিগাটোকা রোগ। কলা গাছের পাতায় হলুদ রংয়ের গোলাকার বা ডিম্বাকৃতি দাগ পড়ে ধীরে ধীরে পাতা শুকিয়ে মারা যাচ্ছে কি? যদি এমন হয় তাহলে বুঝবেন কলাগাছে সিগাটোকা রোগ হয়েছে। এ রোগ গাছের পরিত্যক্ত পাতায় বেঁচে থাকে এবং বাতাসের মাধ্যমে সুস্থ গাছে ছড়ায় তাই এ রোগ সম্পর্কে বিস্তারিত জানার প্রয়োজন রয়েছে কলা চাষীদের।।

এ রোগ চিনবেন কিভাবে?

  • পাতার শিরা বরাবর হালকা হলুদ বা সবুজাভ হলুদ লম্বাটে দাগ পড়ে।
  • দাগগুলো বড় হলে চোখের আকৃতি ধারণ করে।
  • দাগগুলো আস্তে আস্তে কালো হয়ে যায়।
  • দাগগুলো আস্তে আস্তে বড় হতে থাকে এবং কালো হয়ে পাতা আগুনে পুড়ে যাওয়ার মত মনে হয়।
  • ধীরে ধীরে পাতার বোটা আক্রান্ত হয় এবং পরে বোটা শুকিয়ে ভেঙে পড়ে গাছ বরাবর ঝুলে থাকে
  • আক্রমন বেশি হলে গাছের সমস্ত পাতাই শুকিয়ে যায় এবং গাছ মারা যায়।
  • ব্যাপকভাবে আক্রান্ত বাগান দূর থেকে দেখলে আগুনে ঝলসে যাওয়ার মত মনে হয়।

এ রোগ কি ক্ষতি করে?

  • কলার ফলন কমে যায়
  • কলার আকৃতি ছোট হয়
  • কলার গুনাগুন ও মিষ্টতা কমে যায়। ফলে বাজারমূল্য কমে যায়।
  • অধিক আক্রমনে বাগান ধ্বংস হয়ে যায়।

রোগ দমন বা ব্যবস্থাপনা:

  • জমি পরিষ্কার পরিছন্ন রাখুন
  • জমিতে পরপর ২-৩ বছরের বেশি কলার চাষ করবেন না
  • যথাযথভাবে সেচ ও পানি নিষ্কাশণ করুন
  • অতিরিক্ত ইউরিয়া সার ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন
  • মরা/পচা পাতা কেটে বাগানে রোদ ও আলো বাতাস প্রবেশের ব্যবস্থা করুন
  • আক্রান্ত পাতা সংগ্রহ করে মাটিতে পুঁতে ফেলুন অথবা পুড়িয়ে ফেলুন।
  • আক্রমণের প্রাথমিক অবস্থায় বর্দোমিক্সারের (১০০ গ্রাম তুঁতের সাথে ৫ লিটার পানি এবং ১০০ গ্রাম কলিচুনের সাথে ৫ লিটার পানি মিশিয়ে মিশ্রণগুলোকে পরে একত্রে করতে হবে) সাথে তিসির তেল (১০ লিটারে ২০০ মিলিলিটার) মিশিয়ে ১ম বার স্প্রে করার ৭ দিন পর ২ বার স্প্রে করে এ রোগ দমন করা যায়।
    তবে রোগের মাত্রা বেশি হলে ১ম বার স্প্রে করার ৩ দিন পর ২ বার, তার পর ৩য় বার এবং ২১ দিন পর ৪র্থ বার স্প্রে করতে হবে।

সতর্কতা: যে কোন বালাইনাশক ব্যবহার করার সময় প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিন। প্যাকেট বা বোতলের গায়ে লেখা পরামর্শ অবশ্যই মেনে চলতে হবে। প্রয়োজনে আপনার নিকটস্থ কৃষি অফিসে কৃষি কর্মকর্তার সহায়তা নিন।