Wednesday, 22 November 2017

 

হাওর অঞ্চলে নির্বিঘ্ন বোরো ধান চাষে করণীয় শীর্ষক কর্মশালা

কৃষি ফোকাস ডেস্ক: বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট এর হবিগঞ্জ আঞ্চলিক কার্যালয় এর আয়োজনে হাওর অঞ্চলে নির্বিঘ্ন বোরো ধান চাষে করণীয় শীর্ষক এক কর্মশালা অদ্য ২২ অক্টোবর ২০১৭ সকালে সিলেট জেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট এর মহাপরিচালক ড. মো: শাহজাহান কবীরের সভাপতিত্বে এই কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (সম্প্রসারণ) জনাব মো: মোশারফ হোসেন, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জনাব মোঃ গোলাম মারুফ, ব্রির পরিচালক (গবেষণা) ড. তমাল লতা আদিত্য, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, সিলেট এর অতিরিক্ত পরিচালক জনাব মোঃ আলতাবুর রহমান।

কর্মশালায় বক্তারা বলেন, হাওরাঞ্চলে একটিমাত্র ফসল বোরো। দুঃখ কিংবা গর্ব যাই হোক, বলা হয়ে থাকে- এক ফসলি ধান; হাওরবাসীর প্রাণ। বছরে একটিমাত্র ফসল হলেও বছরে প্রায় তিন লাখ টন ধান উৎপাদন করে দেশের খাদ্য চাহিদা মেটায় হাওরবাসীরা। হাওর ভাটি বাংলা হচ্ছে এমনই সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র, যেখানে ৩৭৩টি হাওরে রয়েছে ০.৭৩ মিলিয়ন হেক্টর চাষযোগ্য জমি যা থেকে বছরে একটি ফসল আবাদ করে উৎপাদন হয় প্রায় তিন লাখ টন ধান। কিন্তু সঠিক সময়ে সঠিক জাত চাষ না করার কারণে প্রায়শই হাওরের কৃষক ক্ষতিগ্রস্থ হন। এই বিষয়ে জন সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে এবং হাওড় অঞ্চলে আগামি বোরো মওসুমে বোরো আবাদ নির্বিঘœ করতে এই কর্মশালা আয়োজন করা হয়েছে।

দেশে ছোট-বড় ৪১৪টি হাওর, জলাশয় ও জলাভূমি রয়েছে। জলমহাল রয়েছে ২৮ হাজার। বিল রয়েছে ছয় হাজার ৩০০। এর মধ্যে হাওরের আয়তন ৮ লাখ ৫৮ হাজার ৪৬০ হেক্টর। ভাটির দেশ হিসেবে পরিচিত সুনামগঞ্জে রয়েছে ১৩৩টি, সিলেটে ৪৩টি, হবিগঞ্জে ৩৮টি, মৌলভীবাজারে ৪টি; কিশোরগঞ্জে ১২২টি, নেত্রকোনায় ৮০টি এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৩টি হাওর রয়েছে। এক ফসলি হলেও এই হাওরগুলোই এই অঞ্চলের বোরো ফসলই মানুষের জীবন ও জীবিকার একমাত্র অবলম্বন। এবছরের মাত্রাতিরিক্ত বৃষ্টি ও উজান থেকে ধেয়ে আসা অকাল বন্যায় হাওরের কৃষকের স্বপ্ন ও বেঁচে থাকার অবলম্বন বোরো ধান ঘরে তোলার কয়েকদিন আগেই পানিতে তলিয়ে যায়। এবারের বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ছিল গত কয়েক বছরের তুলনায় দশগুণ বেশি (প্রায় ৬২৫ মিমি), যেটা এর আগের বছর ছিল মাত্র ২৬৫ মিমি প্রায়।

হাওরের বোরো ফসল সাধারণত এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে কাটা শুরু হয় কিন্তু এবছর এপ্রিলের ১ম সপ্তাহে চৈতালি বন্যার পানি আগাম চলে আসায় বিপুল ক্ষয়ক্ষতির শিকার হন হাওরবাসী। হাওরের আরেকটি সমস্যা হলো ধানের ফুল আসা পর্যায়ে ঠান্ডার প্রকোপ। এর কারণে ধানে চিটা হওয়ার ঝুঁকি থাকে। চৈতালি ঢল ও ঠান্ডাজনিত চিটা এড়াতে হলে মার্চের শেষ সপ্তাহেই বোরো কাটার টার্গেট নিয়ে চাষাবাদ শুরু করতে হবে। এই জন্য আমাদের প্রয়োজন ১৩০-১৩৫ দিনের জাত, যেটি হবে ফুল আসা পর্যায়ে ঠান্ডা সহনশীল। আমাদের বিজ্ঞানীরা এমন একটি জাত তৈরির লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করছেন। সেটি উদ্ভাবনের আগে আমাদের হাতে বর্তমানে যেসব জাত রয়েছে সেগুলো আবাদে কিছু সতর্কতা অবলম্বন করলেই বীজ থেকে বীজ জীবনকাল কমিয়ে উল্লেখিত ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব। বর্তমানে আমাদের ব্রি ধান২৮, ব্রি ধান৩৫, ব্রি ধান৩৬ ও ব্রি ধান৪৫ এর গড় জীবনকাল ১৪০-১৪৫দিন। ১৫-২২ নভেম্বরের মধ্যে বীজতলা তৈরি করে ৩০ দিন বয়সী চারা রোপন করতে হবে, এর বেশি বয়স্ক চারা ব্যবহার করা যাবেনা। এই পদ্ধতি অবলম্বন করলে ১০ এপ্রিলের মধ্যে ফসল ঘরে তোলা সম্ভব।

কর্মশালায় সিলেট অঞ্চলের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ও উপজেলা কৃষি অফিসারবৃন্দ, ব্রি, বারি ও বিনার বিজ্ঞানী ও বিভিন্ন এনজিও প্রতিনিদিবৃন্দসহ প্রায় শতাধিক কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
-সংবাদ বিজ্ঞপ্তি