Thursday, 14 December 2017

 

কৃষির টেকসই উন্নয়নে কৃষি যান্ত্রিকীকরণের বিকল্প নাই

কৃষিবিদ দীন মোহাম্মদ দীনু, বাকৃবি থেকে:টেকসই কৃষি উন্নয়ন তথা খাদ্য শস্যের উৎপাদন বৃদ্ধিতে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ এখন সময়ের দাবী। বর্তমানে যান্ত্রিকীকরণ ছাড়া কৃষি উন্নয়ন কল্পনা করা যায় না। এজন্য দেশের জলবায়ু পরিবর্তন, অর্থনৈতিক অবস্থা, জলোচ্ছাস, বন্যা, ক্ষরা, লবনাক্ততা মাথায় রেখে গবেষণার মাধ্যমে নতুন নতুন কৃষি যন্ত্রপাতি ও কৃষি প্রযুক্তির উদ্ভাবন ঘটাতে হবে। এর ফলে সময় ও অর্থ উভয়ই সাশ্রয় হবে।

ফসলকর্তণ ও মাড়াই এ যন্ত্র ব্যবহার করে কমপক্ষে ৫ শতাংশ ধান ও গমের অপচয় রোধ করা সম্ভব। কৃষির টেকসই উন্নয়নে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ বিষয়ক এক আঞ্চলিক সম্মেলনে বক্তাগণ এসব কথা বলেন। গত ২০ নভেম্বর ২০১৭ রবিবার বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) কৃষি শক্তি ও যন্ত্র বিভাগ ও যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় বিশ্ববিদ্যালয় যৌথভাবে ঢাকাস্থ গুলশানের হোটেল লেকশোর এর কনফারেন্স হলে এ সম্মেলনের আয়োজন করে।

খুলনার ডুমুরিয়া এলাকা থেকে আসা কৃষক নুর মোহাম্মদ মোড়ল এবং বরিশাল থেকে আগত কৃষক মোঃ ফজলুল হক তাদের অনুভূতি প্রকাশকালে বলেন , “এ প্রকল্পের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা কৃষিতে যন্ত্রের ব্যবহার করে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হয়েছি। আগে আমরা শ্রমিক সংকটের কারণে ৫ বিঘা জমি চাষ করতে পারতাম না এখন ১০০ বিঘা জমি চাষেও আমরা ভয় পাইনা। আমরা ‘ধানের চারা রোপন যন্ত্র’ ব্যবহার করে ধান লাগানো শুরু করলে লোকে আমাদেরকে ‘পাগল’ বলতো, আজ তারাই আমাদেরকে অনুসরণ করছে। আমরা বর্তমানে ধান ও গম কাটার সময় ‘মিনি কম্বাইন হার্ভেস্টার’ ব্যবহার করি এতে শ্রমিক কম লাগছে ও কম খরচে এক মেশিন দিয়েই ফসল কাটা ও মাড়াই-ঝাড়াই করতে পারছি।এর ফলে প্রতিকূল আবহাওয়া থেকেও আমাদের ফসল রক্ষা পাচ্ছে।”

যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় বিশ্ববিদ্যালয় যান্ত্রিকীকরণ বিষয়ক কনসোর্টিয়াম, এএসএমসি এর পরিচালক প্রফেসর ড, এলান সি হ্যানসেন এর সভাপতিত্বে আনুষ্ঠিত সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাকৃবি এর অ্যামিরেটাস প্রফেসর ড. এম. এ. সাত্তার মন্ডল, অনুষ্ঠানে চীফ পেট্রন হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বাকৃবি এর ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ আলী আকবর, গেস্ট অভ অনার হিসেবে বক্তব্য রাখেন যুক্তরাষ্ট্রের এএসএমসি এর টেকনিক্যাল এডভাইজরি বোর্ডের সভাপতি প্রফেসর ড. গাজেন্দ্র সিং, যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় বিশ্ববিদ্যালয়ের এসোসিয়েট ডীন প্রফেসর ড. প্রশান্ত কে কালিতা এবং এসিআই এর এম.ডি. ড. এফ.এইস আনসারী। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রকল্প পরিচালক ও বাকৃবির প্রফেসর ড. মোঃ মঞ্জুরুল আলম।

প্রকল্পের সহযোগী পরিচালক প্রফেসর ড. চয়ন কুমার সাহা জানান দেশের খুলনা, বরিশাল, নোয়াখালী, পটুয়াখালী জেলার অন্তর্গত ৪টি উপজেলায় পরীক্ষামূলকভাবে এ প্রকল্পের আওতায় প্রায়ভেট সেক্টও এসিআই ও দি মেটাল প্রাইভেট লিমিটেড এর সহযোগিতায় কৃষকদের কৃষি কাজে যন্ত্রপাতির ব্যবহার করানো হচ্ছে, যার ফলাফল খুবই আশাব্যঞ্জক। কৃষকগণ ধান কাটা-মাড়ায় যন্ত্র ব্যবহার করে কমপক্ষে ৫ শতাংশ অপচয় রোধ করতে সক্ষম হয়েছে। এছাড়া বর্তমানে এক্সিয়াল ফ্লো পাম্প,সৌর পাম্প, বেড প্লান্টার, বীজ বপন যন্ত্র,ধান কাটা যন্ত্র ইত্যাদি কৃষকদের জনপ্রিয়তা ব্যবহারের জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে টেকনিক্যাল সেশন এ সভাপতিত্ব করেন কৃষি গবেষণা ফাউন্ডেশন এর এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ড. ওয়াইস কবীর। সবশেষে তৃতীয় পর্বে বেস্ট টেকনোলজি ইনোভেশন আইডিয়া বিষয়ক বিজয়ী ৫টি গ্রুপের ১৭জন কৃষি শিক্ষার্থীকে অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়। বিজয়ীদের মধ্যে বাকৃবির কৃষি প্রকৌশল ও কারিগরি অনুষদ থেকে ২টি গ্রুপ, কৃষি অর্থনীতি ও গ্রামীণ সমাজবিজ্ঞান অনুষদ থেকে ১টি গ্রুপ, হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞাণ ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এর কৃষি প্রকৌশল ও কারিগরি অনুষদ থেকে ১টি গ্রুপ এবং শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের ১টি গ্রুপ রয়েছে।
সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্র, ভারত,কম্বোডিয়া এবং বাংলাদেশের শতাধিক গবেষক, শিক্ষক ,উন্নয়নবিদ, শিক্ষার্থী, কৃষক অংশ গ্রহণ করেন।