Tuesday, 25 September 2018

 

পোল্ট্রি মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড-২০১৭

জনকন্ঠ, কালেরকন্ঠ, ইনডিপেন্ডেন্ট, যমুনা টিভি, চ্যানেল-২৪, এটিএন নিউজ, সুপ্রভাত বাংলাদেশ, বিএসএস, ও এগ্রিলাইফ২৪ ডটকম এর প্রতিবেদক পুরস্কৃত
কৃষি ফোকাস ডেস্ক: সংবাদকর্মীদের স্বতস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে আজ সিরডাপ মিলনায়নে অনুষ্ঠিত হল পোল্ট্রি মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড-২০১৭’-এর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাষ্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিল (বিপিআইসিসি), দ্বিতীয়বারের মত এ পুরস্কার প্রদান করে। ব্যবস্থাপনায় ছিল ওয়াচডগ বাংলাদেশ। ৫টি ক্যাটাগরিতে মোট ৯ জন সংবাদ-প্রতিবেদককে পুরস্কার প্রদান করা হয়।

‘দৈনিক সংবাদপত্র’ ক্যাটাগরিতে প্রথম পুরস্কার পান দৈনিক জনকন্ঠের স্টাফ রিপোর্টার রহিম শেখ। দ্বিতীয় হন- দৈনিক কালেরকন্ঠের সিনিয়র রিপোর্টার আবুল কাশেম এবং তৃতীয় হন-দি ইনডিপেন্ডেন্ট এর বিজনেস রিপোর্টার শরীফ আহমেদ। ‘ঢাকার বাইরে থেকে প্রকাশিত সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদন’ ক্যাটাগরিতে একমাত্র পুরস্কার লাভ করেন চট্টগ্রাম থেকে প্রকাশিত দৈনিক সুপ্রভাত বাংলাদেশ এর প্রধান প্রতিবেদক ভূঁইয়া নজরুল।

‘টিভি ও রেডিও’ ক্যাটাগরিতে প্রথম পুরস্কার পান-যমুনা টেলিভিশনের স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট সুশান্ত সিনহা। দ্বিতীয় হন-চ্যানেল-২৪ এর স্টাফ করেসপন্ডেন্ট মাসুম খান এবং তৃতীয় হন-এটিএন নিউজ এর সিনিয়র রিপোর্টার গোলাম কাদির রবু। বার্তা-সংস্থা/অন-লাইন ক্যাটাগরিতে একমাত্র পুরস্কার পান বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বিএসএস) এর স্টাফ রিপোর্টার মহিউদ্দিন কাদের‘পোল্ট্রি ও কৃষি বিষয়ক ম্যাগাজিন/অনলাইন’ ক্যাটাগরিতে একমাত্র পুরস্কার লাভ করেন এগ্রিলাইফ২৪.কম এর এস.এম মুকুল।      

প্রথম পুরস্কার বিজয়ীকে প্রাইজমানি হিসেবে ৫০ হাজার টাকা, দ্বিতীয় বিজয়ীকে ৪০ হাজার টাকা এবং তৃতীয় পুরস্কার বিজয়ীকে ৩০ হাজার টাকা প্রদান করা হয়। তাছাড়া ঢাকার বাইরের দৈনিকে প্রকাশিত সংবাদ, সংবাদ সংস্থা/অনলাইন এবং পোল্ট্রি ও কৃষি ম্যাগাজিন/অনলাইনের পুরস্কার বিজয়ীদের প্রত্যেককে ৩০ হাজার টাকা প্রাইজমানি এবং প্রত্যেক বিজয়ীকে ক্রেস্ট ও সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়।  

পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন-দৈনিক প্রথম আলো’র সহযোগী সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুম, যমুনা টেলিভিশনের বিজনেস এডিটর, সাজ্জাদ আলম খান তপু। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাষ্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিল (বিপিআইসিসি) -এর প্রেসিডেন্ট মসিউর রহমান।

জুরি বোর্ডের সদস্যগণ বলেন- বিগত কয়েক বছরে গণমাধ্যমে পোল্ট্রি বিষয়ক রিপোর্টের সংখ্যা বেড়েছে, একই সাথে বেড়েছে এ বিষয়ক প্রতিবেদনের মান। তবে নারী সাংবাদিকদের অংশগ্রহণ বেশ কম। এ বছর রংপুর, বগুড়া, জয়পুরহাট, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম প্রভৃতি জেলা থেকে প্রতিবেদন জমা পড়েছে। তবে অনেক গুরুত্বপূর্ণ জেলা থেকেই রিপোর্ট আসেনি। রেডিও’র প্রতিবেদনের সংখ্যাও হাতেগোনা দু’একটি।

মসিউর রহমান বলেন-বিপিআইসিসি’র মিডিয়া মনিটরিং রিপোর্ট অনুযায়ী গত এক বছরে শুধুমাত্র জাতীয় দৈনিকে ৭০০’র বেশি রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। এর পাশাপাশি সংবাদ সংস্থা, অনলাইন এবং টেলিভিশনে ৩০০’র অধিক রিপোর্ট হয়েছে। পোল্ট্রি ইস্যুতে অনেকগুলো টিভি টকশো হয়েছে। ঢাকার বাইরে থেকে প্রকাশিত সংবাদপত্রগুলোতেও পোল্ট্রি বিষয়ক রিপোর্ট এবং আর্টিকেল প্রকাশিত হয়েছে।

তিনি বলেন-সাম্প্রতিক সময়ে ডিম ও মুরগির মাংসের দাম রেকর্ড পরিমান কমেছে। খামারিরা অসহায় হয়ে পড়েছে। অনেক কষ্টে গড়া এ শিল্পকে বাঁচাতে হবে। কারণ প্রায় ৬০ লাখ মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এ শিল্পের সাথে জড়িত। তিনি বলেন-এখনও দেশের প্রচুর মানুষ অপুষ্টিতে ভুগছে। এ অবস্থার পরিবর্তনে কাজ করছে পোল্ট্রি শিল্প। তথ্য মন্ত্রণালয় আন্তরিক হলে ডিম ও মুরগির মাংস সম্পর্কে সচেতনতামূলক প্রচার-প্রচারণা অনেক সহজ হবে বলে মনে করেন জনাব মসিউর।

পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে টাঙ্গাইলের দৃষ্টি প্রতিবন্ধী খামারি মাসুদ রানা বলেন-ভিক্ষার ঝুলি হাতে না নিয়ে পোল্ট্রি ব্যবসাকে জীবন ধারনের পথ হিসেবে বেছে নিয়েছি। কিন্তু পোল্ট্রি শিল্পই যদি না বাঁচে তবে আমরা বাঁচব কিভাবে? মাসুদ বলেন-বাজারে ডিম ও মুরগির দাম না পাওয়ায় খামারিরা খুব কষ্টে আছে। নিজের খামারকে ভালভাবে দাঁড় করাতে তিনি সরকারের কাছে সহযোগিতা চান।

পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মাঝে উপস্থিত ছিলেন- দেশের খ্যাতনামা ক্রীড়াবিদ- কুস্তি, কাবাডি, উশু, রোয়িং -এ জাতীয় পর্যায়ে স্বর্ণপদক বিজয়ী শিরিন সুলতানা, যিনি ৪র্থ ইসলামিক সলিডারিটি গেমস্ আজারবাইজান বাকু-২০১৭ ব্রোঞ্জ পদক জয় করে দেশের মুখ উজ্জ্বল করেছেন। এছাড়াও ইন্দোবাংলা রেসলিং চ্যাম্পিয়নশীপ-২০১২ (কলকাতা) এ স্বর্ণ পদক, গ্রান্ডফিক্সড রেসলিং চ্যাম্পিয়নশীপ (নিউ দিল্লী, ইন্ডিয়া ২০১৩) -এ ব্রোঞ্জ পদক, ১২তম সাফ গেমস-২০১৬ এ রৌপ্য পদক ছাড়াও বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক গেমস্ েবাংলাদেশের পতাকা বহন করেছেন।

অ্যাথলেট শিরিন সুলতানার আরও একটি পরিচয় হলো তিনি একজন সফল পোল্ট্রি উদ্যোক্তা। ২০১৩ সালে মাত্র ২৪শ’ মুরগি নিয়ে খামার শুরু করেছিলেন, বর্তমানে সে সংখ্যা ৩০ হাজার। শিরিন বলেন- সঠিক পরিকল্পনায় খামার করতে পারলে চাকুরির জন্য জুতা ক্ষয় করার প্রয়োজন নেই। গ্রামের অনেক বেকার যুবক এখন পোল্ট্রি খামার করে স্বাবলম্বী। তবে একদিকে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি এবং অন্যদিকে ডিম-মুরগির দাম পড়ে যাওয়ায় লোকসানে পড়েছেন খামারিরা। ৪-১৪ এপ্রিল ২০১৮ অস্ট্রেলিয়ার গোল্ডকোস্টে অনুষ্ঠিতব্য ২১তম কমনওয়েলথ গেমস্ এ অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন শিরিন। বিজয়ী বেশে যেন দেশে ফিরতে পারেন সেজন্য তিনি সকলের কাছে দোয়া চান।-সংবাদ বিজ্ঞপ্তি