Sunday, 21 January 2018

 

পোল্ট্রি শিল্পে নিবিড়ভাবে যুক্ত মিডিয়াদের নিয়ে বিপিআইসিসির মত বিনিময়

এগ্রিলাইফ২৪ ডটকম:দেশের মানুষের পুষ্টি চাহিদা পূরণ, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং দারিদ্র দূরীকরণে পোলট্রি শিল্প অনবদ্য অবদান রেখে চলেছে। কৃষিভিত্তিক এ দেশে পোলট্রি শিল্পের কল্যানে দেশের আপামর জনসাধারণ এখন সহজেই স্বল্পমূল্যে প্রাণিজ আমিষ তথা পুষ্টির চাহিদা পূরণ করতে পারছেন। দেশে যে শিল্পের এতো বড় যে অবদান সে শিল্পে প্রতিনিয়তই নানা রকম সংকটের মুখোমুখী হতে হচ্ছে যা অন্য সেক্টরে এতোটা প্রকট নয়।

এসব বিষয় সামনে রেখে পোল্ট্রি শিল্পের সাথে নিবিড়ভাবে যুক্ত মিডিয়াদের নিয়ে; পোল্ট্রি শিল্পের সাম্প্রতিক অর্জন, সমস্যা, ২০১৭ সালের বিপিআইসিসি'র বাস্তবায়িত কার্যক্রম এবং প্রাসঙ্গিক বিষয়াবলী উপর এক মত বিনিময়ের আয়োজন করে বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিল (বিপিআইসিসি)।

৪ জানুয়ারী রোজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭.০০ টায় রাজধানীর Hotel Long Beach, ঢাকায় দেশের পোল্ট্রি শিল্পে নিরলসভাবে কাজ করা মিডিয়া ব্যক্তিত্ববর্গ অংশগ্রহন করেন। বিপিআইসিসি’র সভাপতি জনাব মসিউর রহমানের সভাপতিত্বে মত বিনিময় সভায় মিডিয়াদের পক্ষ থেকে কথা বলেন এগ্রিলাইফ২৪ ডটকমের কৃষিবিদ মো: শফিউল আজম, কৃষি ও আমিষের জনাব মো: নুরুজ্জামান, পোল্ট্রি খামার বিচিত্রার জনাব কামাল আহাম্মদ, জিটিভি'র ড. বায়েজিদ মোড়ল, পুষ্টি তথ্যের জনাব মশিউর রহমান, পুনশ্চ’র জনাব আসাদুজ্জামান প্রমুখ।

পোল্ট্রি মিডিয়া ব্যক্তিত্বগণ পোল্ট্রি সেক্টরে বিরাজমান সমসাময়িক সমস্যাগুলির কথা তলে ধরেন এবং তা থেকে উত্তোরণের উপায়গুলি সম্পর্কে আলোচনা করেন। মিডিয়া কর্মীরা বলেন বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম অত্যন্ত শক্তিশালী কাজেই এখানে কেউ নেতিবাচক কিছু পোষ্ট করলে বিপিআইসিসি’র-পক্ষ থেকে তার শক্তিশালী প্রতিবাদ করা উচিত। তারা আরো বলেন বর্তমান সময়ে পোল্ট্রি একটি চরম ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে এসময় সকল ভেদাদেভুলে সকলকে এক হয়ে কাজ করা প্রয়োজন।

তারা বলেন পোল্ট্রি শিল্প সম্পর্কে বর্তমান সময়ে সঠিক তথ্য সকলের কাছে বিশেষ করে দেশের সচেতন ভোক্তাদের মাঝে উপস্থাপিত করতে হবে এবং এ ধরনের কাজগুলি নিয়মিত এমনকি প্রতিদিনই প্রচার করতে হবে। তারা মনে করেন সকল মিডিয়া কর্মী, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, বানিজ্য মন্ত্রণালয়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, নিরাপদ খাদ্য অধিদপ্তরসহ সংশ্লিস্ট সকলের মাঝেই এর ইতিবাচক দিকগুলি তুলে ধরা এখন বড়ই প্রয়োজন। মাঝে-মাঝে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের উর্ধতন কর্মকর্তাদের মাঠ পর্যায়ে স্থাপিত আধুনিক পোল্ট্রি ফার্ম, ফিডমিগুলি পরিদর্শনে নিয়ে যাওয়ার কথা উঠে আসে আলোচনায়।

সরকারের নীতি নির্ধারকদের সাথে নিয়মিত মত বিনিময়ের মাধ্যমে পোল্ট্রির শিল্পের গুরুত্ব তুলে ধরার তাগিদ দেন পোল্ট্রি মিডিয়া ব্যক্তিত্বগণ। মানুষের মৌলিক প্রয়োজন খাদ্য ও পুষ্টি চাহিদা পূরণের পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং স্বাস্থ্যবান ও মেধাবী জাতি গঠনে পোল্ট্রি শিল্পের অবদানের কথাটি বেশ জোরেই প্রচারের প্রয়োজন অনুভব করেন পোল্ট্রি মিডিয়ার কর্ণধাররা।

বর্তমানে এ শিল্পে বিশ্বের সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহৃত হচ্ছে, প্রয়োগ হচ্ছে বৈজ্ঞানিক গবেষণালব্ধ জ্ঞান। উৎপাদিত হচ্ছে স্বাস্থ্য-সম্মত ও নিরাপদ মুরগির মাংস, ডিম, ফিড এবং অপরাপর পোল্ট্রিজাত পণ্য। মিডিয়ার কাছে এসব তথ্য সরবরাহের জন্য তারা বিপিআইসিসির সহযোগিতা কামনা করেন। পাশাপাশি তারা এধরনের মতবিনিময় নিয়মিত করা এবয় পোল্ট্রি মিডিয়ার কার্যক্র্রমকে আরো গতিশীল করার লক্ষে বিপিআইসিসিকে সহযোগিতার অনুরোধ করেন।

মত বিনিময় সভায় আরো বক্তব্য রাখেন এসিআই এগ্রিবিজনেস এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও সিইও ড. ফা হ আনসারী, রেনেটা এনিম্যাল হেলথ্-এর হেড জনাব সিরাজুল হক, বিপিআইসিসির সচিব দেবাশিস নাগসহ আরো অনেকে।

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন দি ওয়ার্ল্ডস্ পোল্ট্রি সায়েন্স এসোসিয়েশন বাংলাদেশ (WPSA-BB) শাখার সভাপতি আলহাজ্জ জনাব শামসুল আরেফিন খালেদ (অঞ্জন), সম্পাদক জনাব মাহাবুব হাসান, ফিআবের সাধারণ সম্পাদক মো. আহসানুজ্জামান এবং ব্রিডার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (বিএবি) মহাসচিব সাইদুর রহমান বাবু, Animal Health Companies Association (AHCAB)-এর সভাপতি জনাব একেএম আলমগীর, মহাসচিব ডা:মো: কামরুজ্জামানের, বাফিটার নেতৃবৃন্দ সহ বিপিআইসিসি সংশ্লিস্ট বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এতে অংশগ্রহন করেন।

পোল্ট্রি ইন্ডাষ্ট্রির প্রবীণ ব্যক্তিত্ব জনাব রফিকুল হক, জনাব শাহ হাবিবুল হক সহ, পোলট্রি সেক্টরের বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান, কোম্পানীর শীর্ষ নির্বাহি ও উর্ধতন কর্মকর্তাবৃন্দ মত বিনিময় সভায় যোগ দেন। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন বিপিআইসিসির উপদেষ্টা শ্যামল কান্তি ঘোষ এবং মিডিয়া উপদেষ্টা মো. সাজ্জাদ হোসেন।

পোলট্রি শিল্পে জড়িত প্রায় ৫০-৬০ লাখ মানুষ। এ শিল্পের ক্ষতি হলে বেকার ও পরোক্ষভাবে এক থেকে দেড় কোটি মানুষ পথে বসার উপক্রম হবে। তাই এ শিল্পকে রক্ষায় সরকার থেকে সংশ্লিষ্ট সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে এ শিল্পের সাথে জড়িত সকলেই।তাই তারা মনে করেন এ শিল্পের সাথে জড়িত নেতৃত্বস্থানীয়দের অনেক কিছুই করার আছে। এখন প্রয়োজন সকল ভেদাভেদ ভুলে এগিয়ে যাওয়া।