Monday, 25 June 2018

 

পাটকলগুলোকে লাভজনক করে তুলতে আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে-প্রধানমন্ত্রী

কৃষি ফোকাস ডেস্ক:প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন পাটখাতের যান্ত্রিকীকরণের ওপর গুরুত্বারোপ করার পাশাপাশি দেশের সরকারি খাতের পাটকলগুলোকে লাভজনক করে তুলতে আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে। তিনি আজ সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় পাট দিবস-২০১৮ উপলক্ষ্যে তিনদিন ব্যাপী পাটপণ্য মেলার উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটি বড় সমস্যা রয়েছে যন্ত্রপাতিগুলো অত্যন্ত পুরনো, কাজেই এই মেশিনারিজগুলো সব বদলাতে হবে। নতুন মেশিনারিজের ব্যবস্থা করতে হবে। আমরা পাটকে আরো আধুনিকিকরণের মাধ্যমে পাট উৎপাদন, পাট সংগ্রহ, পাট সংরক্ষণ-কার ব্যবস্থা করেছি।’

তাঁর সরকার বেসরকারি খাতকে সব থেকে বেশি সুবিধা দিচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কেবল সরকারি খাতে প্রতিষ্ঠান থাকলে ব্যবস্থাপনা ও উৎপাদনের সঙ্গে জড়িতদের মাঝে ঢিলেঢালা ভাব চলে আসতে পারে, পণ্য উৎপাদনে যার প্রভাব পড়তে পারে। তবে, প্রধানমন্ত্রী এ ধরনের মানসিকতা পরিত্যাগ করার জন্যও সকলের প্রতি আহবান জানিয়ে বলেন, ‘যে শিল্পটা আপনাদের জীবন-জীবিকার সবরকম উপকরণ দিচ্ছে সেই শিল্পটাকে বাঁচাতে হবে।’

বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী মো.ইমাজউদ্দিন প্রামাণিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী এবং বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মীর্জা আজম। এছাড়া সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব ফয়জুর রহমান চৌধুরী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী দেশব্যাপী স্কুল পর্যায়ে আয়োজিত পাট বিষয়ে রচনা প্রতিযোগিতার বিজয়ী এবং পাট উৎপাদন, পাট রপ্তানী, পাট প্রক্রিয়াজাতকরণসহ পাটের খাতের সমৃদ্ধির সঙ্গে জড়িত ১১টি ক্যাটাগরিতে ১২ জনকে অনুষ্ঠানে পুরস্কৃত করেন।

মন্ত্রী পরিষদ সদস্যগণ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাগণ, সংসদ সদস্যগণ, সরকারের পদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও কূটনিতিকবৃন্দ, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার সদস্যবৃন্দ, আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ এবং পাটের সংগে সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তা, পাটচাষী এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে পাট পণ্যের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যত বিষয়ে একটি প্রামাণ্য চিত্রও প্রদর্শিত হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে তাঁর সরকার বন্ধ পাটকলগুলো চালু করেছে। ৫টি পাট কল চালু করা হয়েছে। খুলনায় ৪টি এবং সিরাজগঞ্জে ১টি। তিনি বলেন, এই পাটকলগুলোর তিন হাজার কোটি টাকার ব্যাংক ঋণ ছিল যেটি সরকার মওকুফ করে সরকারই তা পরিশোধের উদ্যোগ নিয়েছে এবং অর্থ মন্ত্রণালয় অর্থ প্রদানের ক্ষেত্রে কেবল যে কৃপণতা করে তাও নয়, বরং পাটকলগুলোর দায়-দেনা মুক্ত করে তাকে নতুনভাবে চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, বলেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, এখন এগুলোকে সচল রাখার দায়িত্ব, যারা পাটকলগুলোর ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছেন তাদের, সংশ্লিষ্ট শ্রমিক এবং কর্মচারি প্রত্যেকের। প্রত্যেকেই নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযখভাবে পালন করবেন প্রত্যাশা ব্যক্ত করে শেখ হাসিনা বলেন, আর যেখানেই যেটুকু সমস্যা দেখা দেয় তা সমাধান করবে তাঁর সরকার। তিনি বলেন, যেহেতু পাটের বাজার এখন খুলে গেছে (উন্মুক্ত) আমরা রপ্তানী করতে পারছি, আমরা যতই উন্নতমানের পণ্য তেরী করতে পারবো ততই আমাদের বাজার বৃদ্ধি পাবে।

প্রধানমন্ত্রী এ সময় দেশে পাটের বাজার সৃষ্টিতে তার সরকারের করে দেওয়া ‘পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন, ২০১০-এর উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, তাঁর সরকারের এই আইন করে দেওয়ার ফলে দেশে পাটের চাহিদাও বেড়ে গেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পাটের বহুমুখীভাবে ব্যবহার করতে হবে কারণ এই পাট আমাদের জাতীয় সম্পদ। একদিক এটি কৃষি সম্পদ অন্যদিকে আমাদের শিল্পপণ্য কাজেই এর অনেক সম্ভাবনা রয়েছে এবং অনেক উন্নতমানের পাটও পাটজাত পণ্য আমরা তৈরী করতে পারি। সে সম্ভাবনাও আমাদের রয়েছে। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে আমরা পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানী করে অনেক বৈদেশিক মুদ্রা আমরা অর্জন করতে সক্ষম হচ্ছি ইনশাল্লাহ অন্যান্য ক্ষেত্রেও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সাথে সাথে পাটও আমাদের অনেক বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে সহায়ক হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, কৃষিপণ্য এবং শিল্পপণ্য হিসেবে পাটের যে বহুমুখী ব্যবহার এটাই আমাদের জন্য একটা বিরাট সম্পদ। এই সম্পদকে যথাযথভাবে কাজে লাগিয়ে আমাদের আর্থসামাজিক উন্নতি যাতে দ্রুত হয় সেই ব্যবস্থা ইনশাল্লাহ আমরা করবো।

বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে এগিয়ে যাবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা ১শ’ শিল্পাঞ্চল গড়ে তুলছি সেখানে আমাদের কাঁচামাল দরকার, ইতোমধ্যে আমি নির্দেশ দিয়েছি যে খানে যেখানে আমাদের যে ধরনের পণ্য বেশি উৎপাদন হবে সেখানে সেসব পণ্য ব্যবহার করে সে ধরনের শিল্প কারখানা যেন গড়ে ওঠে। সেদিকেও বিশেষভাবে দৃষ্টি দিতে হবে। প্রধানমন্ত্রী পাটের উপর দেশব্যাপী স্কুল পর্যায়ে অনুষ্ঠিত রচনা প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের অভিনন্দদন জানিয়ে বলেন, আমাদের শিক্ষার্থীদেরও আমাদের দেশের পণ্য সম্পর্কে জানা একান্তভাবে প্রয়োজন।

দেশকে আগে জানতে হবে উল্লেখ করে তিনি পাট উৎপাদন, পাট রপ্তানী, পাট প্রক্রিয়াজাতকরণসহ বিভিন্ন খাতে যারা পুরস্কার পেয়েছেন তাদেরকেও আন্তরিক অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, আমি বলবো এই পরিবেশবান্ধব পণ্যটাকে আমাদের আরো উন্নত করতে হবে। তিনি ‘সোনালি আঁশ’-পাট দেশের সমৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করবে বলেও দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

পরে প্রধানমন্ত্রী পাট পণ্য মেলার উদ্বোধনের পর বিভিন্ন স্টলগুলো ঘুরে দেখেন এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় আয়োজিত বর্নাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও উপভোগ করেন। তথ্য সূত্র-বাসস, ছবি-পিআইডি’র সৌজন্যে