Thursday, 19 July 2018

 

ঝিনাইদহে “কৃষি বাজেট শুনানী ২০১৮” অনুষ্ঠিত

এগ্রিলাইফ২৪ ডটকম:আসন্ন বাজেট অধিবেশনকে সামনে রেখে উন্নয়ন ধারা, খানি বাংলাদেশ ও স্বাধীন কৃষক সংগঠনের আয়োজনে ঝিনাইদহের পুরাতন ডিসি কোর্ট চত্বরের উন্মুক্ত মঞ্চে ৯ মার্চ, বৃহস্পতিবার, অনুষ্ঠিত হলো “কৃষি বাজেট শুনানী”। জাতীয় বাজেট একটি প্রধান নীতিদলিল যাতে দেশের উন্নয়নের বাস্তব দিকনির্দেশনা থাকে।

উন্নয়ন ধারা ও খাদ্য নিরাপত্তা নেটওয়ার্ক, খানি বাংলাদেশ তাই প্রতিবছর কৃষিপ্রধান বাংলাদেশের অর্থনীতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাত হিসেবে কৃষিখাতের বাজেট বিশ্লেষণ এবং জাতীয় বাজেটের প্রক্কালে কৃষক ও কৃষির স্থায়িত্বশীল উন্নয়নের জন্য কৃষকসহ সংশ্লিষ্ট সকলের মতামত ও পরামর্শসমূহ তৃণমূল পর্যায় থেকে জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরার চেষ্টা করে আসছে।

এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটের প্রক্কালে জাতীয় বাজেটে কৃষকসহ সংশ্লিষ্ট সকলের মতামত জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরতে কৃষাণ-কৃষাণীসহ কৃষি সংশ্লিষ্ট সকল মহলের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগণের উপস্থিতিতে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন -
১.জিএম আব্দুর রউফ, উপপরিচালক, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, ঝিনাইদহ
২.ডা. হাফিজুর রহমান, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা, ঝিনাইদহ
৩.মো: ওয়াহিদুর রহমান, জেলা প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, ঝিনাইদহ
৪.ড. এম মনিরুজ্জামান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা, সদর, ঝিনাইদহ
৫.মো: নাজমুল ইসলাম, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইন্সটিটিউট, ঝিনাইদহ
৬.সুচন্দন মন্ডল, সহকারী পরিচালক, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, ঝিনাইদহ
৭.অধ্যক্ষ আমিনুর রহমান টুকুৃ, সভাপতি
৮.অধ্যক্ষ এস.এন.এম শাহজালাল

এছাড়া কৃষি বাজেট শুনানী অনুষ্ঠানে কৃষকদের পক্ষ থেকে আসন্ন বাজেটে বিভিন্ন দাবী-দাওয়া তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন স্বাধীন কৃষক সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি রুবায়েত হোসেন মোল্লা, ইউনিয়ন স্বাধীন কৃষক সংগঠনের নেতা মোস্তাফিজুর রহমান মিঠু, বাণু বেগম, আক্কাচ আলী, ইসহাক আলী, নুরুল ইসলাম, শিরীনা খাতুন সহ অন্যান্য কৃষান-কৃষাণী এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং সাংবাদিক বৃন্দ।

কৃষক নেতাসহ অন্যান্য কৃষাণ-কৃষাণীরা নারী কৃষকের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি না থাকায় তারা কৃষির অনেক সুবিধা থেকে বঞ্চিত, ভ্যাক্সিনেসন সুবিধার অপ্রতুলতা, উৎপাদিত পণ্যের লাভজনক মূল্য না পাওয়া, কৃষি প্রণোদনা সঠিকভাবে না পাওয়া, সরকারীভাবে পণ্য ক্রয়ের ক্ষেত্রে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে পণ্য ক্রয় না করা, জৈব কৃষি ও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন ও বিপণনে সরকারি সহযোগিতার অভাব, বাজারে কৃষিপণ্য ক্রয়-বিক্রয়ে ওজনে কারচুপি, কৃষকের ১০ টাকার ব্যাংক এ্যাকাউন্টের অকার্যকারীতা, কৃষি ঋণসহ বিভিন্ন সেবা প্রাপ্তিতে জটিলতা প্রভৃতি সমস্যাগুলো তুলে ধরেন।

আগামী জাতীয় বাজেটে কৃষিখাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ প্রদান, জৈব সার ও জৈব প্রযুক্তি সম্প্রসারণ ও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে কার্যকরী উদ্যোগ গ্রহণ, নারী কৃষকের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রদান, ফসলের লাভজনক মূল্য নিশ্চিত করা এবং ফসলের জন্য শস্য বীমা চালুর দাবী জানানো হয়। কৃষি বিষয়ে জেলার নীতি নির্ধারণী মহলের অতিথিবৃন্দ কৃষকদের এ দাবী এবং সুপারিশমালার প্রতি সমর্থন জানান।

অনুষ্ঠানে সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন উন্নয়ন ধারার নির্বাহী পরিচালক কৃষিবিদ শহীদুল ইসলাম।