Saturday, 21 April 2018

 

পোল্ট্রি নীতিমালার জন্য সকল পর্যায়ের স্টেকহোল্ডারদের সক্রিয় সহযোগিতা কামনা

এগ্রিলাইফ২৪ ডটকম:পোল্ট্রি নীতিমালার জন্য সকল পর্যায়ের স্টেকহোল্ডারদের সক্রিয় অংশগ্রহন ও সহযোগিতা কামনা করেছেন গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মি: নারায়ন চন্দ্র চন্দ, এমপি। আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি, বসুন্ধরা হল-৪ এ, আজ ৩১ মার্চ শনিবার এজি এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড এর "এগ্রো সম্মেলন ২০১৮" এর দিনব্যাপি আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধান অতিথি বলেন দেশে প্রায় পৌনে তিন কোটি লোক মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সেক্টরে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত। কাজে এ সেক্টরকে এগিয়ে নিতে গেলে সেক্টরের পোল্ট্রিসহ সকল ক্ষেত্রেই প্রয়োজন একটি কার্যকর শক্তিশালী নীতিমালা। আর এ ধরনের নীতিমালা তৈরী করতে হলে প্রান্তিক পর্যায়ের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র খামারী, বৃহৎ বাণিজ্যিক খামারী থেকে শুরু করে ফিড মিল ও হ্যাচারী মালিকদের সাথে একটি আন্তরিক সমন্বয় থাকা প্রয়োজন।

তিনি অারো বলেন, ফিড এর মুল্য কি হবে? একদিন বয়সী মুরগীর বাচ্চার দাম কত হবে? উৎপাদিত ডিম ও ব্রয়লার মাংসের বিক্রয়মূল্য কত হলে খামারীরা টিকে থাকবে সেগুলোর দিকে খেয়াল না করে কেবল উৎপাদন বাড়ালেই চলবে না। আর এসব করা না গেলে কেউ টিকে থাকবেনা। অার্থ সামাজিক প্রেক্ষাপট, নারীর ক্ষমতার উন্নয়নে সেক্টরটির গুরুত্ব উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন সরকার এ ব্যাপারে বেশ সজাগ এবং সে লক্ষেই পোল্ট্রি নীতিমালার কাজ এগিয়ে চলেছে।

এজি এগ্রোর প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন যে কোম্পানিটি অান্তর্জাতিক মানের ভ্যালু অ্যাডেড পণ্য উৎপাদন করছে। আন্তর্জাতিক বাজারে এসব পণ্য রপ্তানির মাধ্যমে তারা দেশের কৃষি অর্থনীতিতে বেগবান করবে। খাদ্য সরবরাহ ও নিরাপত্তার পাশাপাশি এ প্রতিষ্ঠানে কর্মসংস্থান হয়েছে উচ্চ শিক্ষিত কৃষিবিদদের ।যারা গবেষণা ও পপণ্য উৎপাদন ও বিপনণে কাজ করে যাচ্ছে। ফলে এখানে কর্মসংস্থান হয়েছে উচ্চশিক্ষিত জনগোষ্ঠির। তিনি এজি এগ্রোর উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জনাব ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেন সোনার বাংলা বিনির্মানে কৃষি-মৎস্য- প্রাণিসম্পদ সেক্টরটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান সরকারও এ খাতটিকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। এতে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারী খাতের রয়েছে অন্যতম অবদান। এর অন্যতম উদাহরন হলো এজি এগ্রো। কৃষি সেক্টরে বিনিয়োগের পাশাপাশি নানা কল্যানমুখী কার্যক্রম রাখায় তিনি এজি এগ্রোর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এ সেক্টরে কোম্পানিটি উত্তোরত্তর সাফল্য অর্জন করে খামারীদের হাসি অটুট রাখুক এ প্রত্যাশা করেন তিনি।

সভাপতির বক্তব্যে আহসান গ্রুপের চেয়ারম্যান জনাব শহিদুল আহসান আগত সকল সম্মানিত অতিথি ও কোম্পানির পরিবেশকদের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ প্রকাশ করেন। সকলের সক্রিয় অংশগ্রহন সম্মেলনটিকে সফল করার পাশাপাশি এজি এগ্রোকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে অনুপ্রেরণা যোগাবে। তিনি কোম্পানির সকল পর্যায়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

সম্মেলনে আরো বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিউট এর মহাপরিচালক ড. নাথু রাম সরকার, ডা: হিরেশ চন্দ্র ভৌমিক, পরিচালক, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারী অনুষদের প্রফেসর ড. প্রিয় মোহন দাস, কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ-এর মহাসচিব কৃষিবিদ জনাব খায়রুল আলম প্রিন্স প্রমুখ।

পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি শুরুর পর স্বাগত বক্তব্য রাখেন কোম্পানিটির মহাব্যবস্থাপক (বিপণন) জনাব এ এম এম নুরুল আলম। অনুষ্ঠানের শুরুতে এজি এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড এর কর্মকান্ডের উপর ভিডিও চিত্র প্রদর্শনী করা হয়। এজি এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড এর উর্ধতন কর্মকর্তাবৃন্দ ও আহসান গ্রুপের অঙ্গ প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ও অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ ও বিশিষ্টজনদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি বেশ বর্ণিল হয়ে ওঠে।

দেশের পোল্ট্রি সেক্টরে অসামান্য অবদান রাখায় এজি এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড এর পক্ষ থেকে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারী অনুষদের প্রফেসর ড. প্রিয় মোহন দাসকে বিশেষ সম্মাননায় ভূষিত করা হয়। অন্যদিকে দেশের কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে বিশেষ অবদান রাখায় প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি হিসেবে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশকে বিশেষ সম্মাননায় ভূষিত করা হয়।

মধ্যাহ্ন ভোজের পর এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ছিল অত্যন্ত আনন্দের। সম্মেলনে সারাদেশ থেকে অাগত পরিবেশক খামাররীবৃন্দ সহ প্রায় ১৫০০ জন অতিথি যোগ দেন।