Wednesday, 15 August 2018

 

রংপুরে আউশ ধানের আবাদ বৃদ্ধিতে কর্মশালা অনুষ্ঠিত

কৃষি ফোকাস:বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) রংপুর আঞ্চলিক কার্যালয়ের উদ্যোগে ৭ এপ্রিল শনিবার কৃষি বিপণন অধিদপ্তর রংপুর এর সম্মেলন কক্ষে ‘রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলে আউশ ধানের আবাদ বৃদ্ধিতে করণীয়’ শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। ব্রি’র মহাপরিচালক ড. মো. শাহজাহান কবীরের সভাপতিত্বে কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি মন্ত্রণালয় গবেষণা অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. ফজলে ওয়াহেদ খোন্দকার।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই) সরেজমিন উইং এর পরিচালক কৃষিবিদ মো. আব্দুল হান্নান এবং ব্রি’র পরিচালক (প্রশাসন ও সাধারণ সেবা) ড. আনছার আলী। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ব্রি আঞ্চলিক কার্যালয়ের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও প্রধান ড. মো. আবু বকর সিদ্দিক সরকার।

প্রধান অতিথি মো. ফজলে ওয়াহেদ খোন্দকার বলেন এ দেশের খাদ্য নিরাপত্তার সাথে ধান উৎপাদন ওতোপ্রোতভাবে জড়িত। তাই তিনি পানি সাশ্রয়ী আউশ আবাদের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। আউশের আবাদি এলাকা বৃদ্ধির সাথে সাথে একক ফলন বৃদ্ধির জন্য গবেষক ও সম্প্রসারণবিদদের তিনি প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করেন। বিশেষ অতিথি কৃষিবিদ মো. আব্দুল হান্নান বলেন বোরো ধানের একর প্রতি ফলন বাড়িয়ে ধীরে ধীরে আবাদি জমির পরিমাণ কমাতে হবে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়িত রাজস্ব প্রকল্পের আওতায় আউশের প্রদর্শনী প্লটের ধান বীজ হিসেবে সংরক্ষণ করতে তিনি আহ্বান জানান।

পীরগঞ্জ থেকে আগত কৃষক প্রতিনিধি মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন আউশ ধান চাষ বৃষ্টি নির্ভর হওয়ায় সহজেই লাভবান হওয়া যায়। তবে তিনি বলেন ভালমানের উফশী বীজ সঠিক পরিমাণে সরবরাহ করা গেলে আউশের উৎপাদন দিন দিন বৃদ্ধি পাবে। ব্রি’র পরিচালক ড. আনছার আলী জানান বিচ্ছিন্নভাবে যেখোনে সেখানে আউশ চাষ না করে এক জায়গায় গুচ্ছ আকারে আউশ চাষ লাভজনক। এতে পোকা-মাকড়সহ পাখির উপদ্রব কমে যাবে।

ব্রি’র মহাপরিচালক ড. শাহজাহান কবীর সমাপনী বক্তব্যে বলেন আউশ মৌসুমের জন্য ব্রি উদ্ভাবিত বিআর২৪, ব্রি ধান৪২, ব্রি ধান৪৩, ব্রি ধান৬৫ ও ব্রি ধান৮৩ বোনা হিসেবে এবং বিআর২৬, ব্রি ধান২৭, ব্রি ধান৪৮, ব্রি ধান৮২ ও ব্রি ধান৮৫ রোপা হিসেবে চাষ করা। তিনি আরো বলেন আউশ ধান রোপণের সময় ভূ-উপরিস্থ পানি দ্বারা সম্পূরক সেচ নিশ্চিত করে আবাদি এলাকা বৃদ্ধি করা যায়।

ব্রি-রংপুরের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. আবু বকর সিদ্দিক সরকার মূল প্রবন্ধের উপস্থাপনায় বলেন, কৃষিকাজে পানির চাহিদা ১৪ হাজার ২০৯ মিলিয়ন ঘন মিটার। যার ৭৭.২% ভূগর্ভস্থ এবং ২২.৮% ভূ-উপরিস্থ। শুকনো মৌসুমে বোরো ধান চাষে সেচ কাজে পানির চাহিদা মেটানোর জন্য অধিক পরিমাণে ভূ-গর্ভস্থ পানি উত্তোলন করা হয়। ফলে ভূ-গর্ভস্থ পানির উপর ব্যাপক চাপ পড়ে ও ভৌগোলিক পরিবেশ বিঘিœত হয়। সেচ নির্ভর বোরো ধান আমাদের খাদ্য নিরাপত্তায় সর্বাধিক অবদান রাখা সত্ত্বেও ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমাতে ও ভৌগলিক পরিবেশ অক্ষুন্ন রাখার স্বার্থে বোরো আবাদি এলাকা যথাসম্ভব কমিয়ে পানি সাশ্রয়ী আউশের আবাদ বৃদ্ধি করা আবশ্যক। এ অঞ্চলের উপযোগী আউশ জাত উদ্ভাবনে বিজ্ঞানীরা নিরলস চেষ্টা করে যাচ্ছেন। ইতোমধ্যে ব্রি উদ্ভাবিত আউশ জাতসমূহ কৃষক পর্যায়ে দ্রুত সম্প্রসারণে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তবে এসব প্রযু্িক্ত সরকারি-বেসরকারিভাবে সমন্বিতভাবে কৃষক পর্যায়ে দ্রুত সম্প্রসারণে আরো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া দরকার।

অন্যান্যদের মাঝে বক্তব্য রাখেন ডিএই রংপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ মো. শাহ আলম, দিনাজপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ মো. আব্দুল ওয়াজেদ, দিনাজপুর জেলা উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. তৌহিদুল ইকবাল, পঞ্চগড় জেলা উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. সামছুল আলম, রংপুর জেলা উপপরিচালক কৃষিবিদ ড. মো. সারওয়ারুল হক প্রমুখ।

কর্মশালায় ডিএই রংপুর এবং দিনাজপুর অঞ্চলের সকল উপ-পরিচালক, সকল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা, কৃষি তথ্য সার্ভিসের আঞ্চলিক কর্মকর্তা, ব্রি’র বিভিন্ন পর্যায়ের বিজ্ঞানী, নার্সভুক্ত গবেষণা প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন পর্যায়ের বিজ্ঞানী, এনজিও এবং কৃষক প্রতিনিধিগণসহ প্রায় ১শ ৫০ জন অংশগ্রহণ করেন। কর্মশালার শেষে পাঁচ জন কৃষক প্রতিনিধির মাঝে ব্রি ধান৪৮ ও ব্রি ধান৮২ এর বীজ বিতরণ করা হয়।