Sunday, 18 February 2018

 

নগরীতে আধুনিক কসাইখানা ও বায়োগ্যাস স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

এগ্রিলাইফ২৪ ডটকম নিউজ ডেস্ক: বিজ্ঞানীদের মতে বিশ্বে এ পর্যন্ত ১৪১৫ রোগ জীবানু মানুষকে আক্রান্ত করে তার মধ্যে ৬১-৭৫% রোগ পশু-পাখি হতে আসে। আর যেসব রোগ পশু থেকে মানুষ এবং মানুষ থেকে পশুতে সংক্রামিত হয় সেই রোগকে জুনোটিক রোগ বলে। অ্যানথ্রাক্স, র‌্যাবিস, টিবি, ব্রুসেলোসিস, ক্ষুরা, বুটুলিজম, সালমোনেলোসিস, ল্যাপটোস্পাইরোসিস, ক্লষ্ট্রিডিয়াম পারফেনজেনস, হাইডাটিডোসিস, টক্সোপাজমোসিস, লিস্টোরিয়াসিস, এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা বা বার্ড ফ্লু, সোয়াইন ফ্লু ইত্যাদি এগুলোর মধ্যে অন্যতম বলে জানালেন প্রাণি বিশরাদগণ।

এরই ধারাবাহিকতায় ১১ জুলাই সোমবার সকাল ৯টায় রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের সিটি হলের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ‘‘আধুনিক কসাইখানা ও বায়োগ্যাস স্থাপন’’ শীর্ষক কর্মশালায় বক্তারা এ কথা বলেন। জিআইজেড এর স্রেডা’র সহযোগিতা ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কারিগরী সহযোগিতায় রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন রাসিকের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কমিটির চেয়ারম্যান ও রাসিক ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোঃ হাবিবুর রহমান। সেড-জিআইজেড এর কর্মসূচী ব্যবস্থাপক আল মুদাব্বির বিন আনাম এর স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে শুরু হওয়া কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি এন্ড এনিমেল সায়েন্সেস বিভাগের প্রফেসর ড. মো: জালাল উদ্দিন সরদার।

ড. জালাল বলেন, অতিসম্প্রতি দেশে বার্ড ফ্লু এর প্রকোপের পরপরই অ্যানথ্রাক্স রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। গত কয়েক বছরে অনেক পশুর প্রাণহানি ঘটে, বেশ কিছু মানুষ অ্যানথ্রাক্স রোগে আক্রান্ত হয়। এতে করে জনস্বাস্থ্য এবং প্রাণিসম্পদ ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। এ ধরণের রোগ সাধারণত পশু জবাই ও মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণ, পশুর সংস্পর্শ ও মাংস ভক্ষণের মাধ্যমে ছড়িয়ে থাকে বলে জানান। জুনোটিক রোগ থেকে অর্থনীতি ও জনস্বাস্থ্য রক্ষা করতে হলে, রোগ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি পশু জবাই ও মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণ ব্যবস্থাটিকে স্বাস্থ্যসম্মত করতে হবে।

ইসলামিক রিলিফ বাংলাদেশের জলবায়ূ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের সমন্বয়কারী এস.এম. মুতাকাববিরুল হক ও জিআইজেড প্রতিনিধি প্রকৌশলী সাদেকুল ইসলাম আধুনিক কসাইখানা ও বায়োগ্যাস স্থাপন সংক্রান্ত ভিন্ন ভিন্ন আরো দুইটি তথ্য উপস্থাপন করেন। তারা তাদের উপস্থাপনায়,ভালমানের কসাইখানা না থাকায় পরিবেশ দূষণসহ জনস্বাস্থ্য যে হুমকীর মুখে পড়ছে তার বিশ্লেষণ সহ অংশগ্রহণকারীদের সামনে তুলে ধরেন।

কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্রেডা প্রতিনিধি (যুগ্ন সচিব) সিদ্দিকী জোবায়ের, রাসিকের প্রধান নিবার্হী কর্মকর্তা সৈয়দা জেবিননেসা সুলতানা, এলজিইডির অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আলী আহমেদ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি এন্ড এনিমেল সায়েন্সেস বিভাগের চেয়ারম্যান ড. কে এম মোজাফফর হোসেন, রাসিকের প্রধান প্রকৌশলী মোঃ আশরাফুল হক, প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মহির উদ্দিন প্রমূখ।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত আধুনিক কসাইখানা তৈরী না হওয়ার ফলে এবং বিজ্ঞানসম্মত কসাইখানা না থাকায় মাংস ব্যবসায়ীরা হাটে-বাজারে, রাস্তার ধারে, দোকানের সামনে, ঝোপ-ঝারে, জঙ্গলে এবং নোংরা আর্বজনার মধ্যে পশু জবাই করে থাকে। এতে মারাত্বকভাবে পরিবেশ দূষণসহ বিভিন্ন রোগ ছড়িয়ে পড়ার সম্ভবনা থাকে। যা জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকী হয়ে দাড়িয়েছে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন।

বক্তারা বাংলাদেশে পশু জবাই ও মাংসের মান নিয়ন্ত্রন আইন-২০১১ এর কার্যকর করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান। আধুনিক কসাইখানার মাধ্যমে স্বাস্থ্যসম্মত ও নিরাপদ প্রানিজ প্রোটিন সরবরাহ নিশ্চিত সম্ভব। সেই সাথে কসাইখানার বর্জ্য যেমন-গোবর, মল-মূত্র, নাড়ীভূড়ির ভিতরের দ্রব্যাদি, মাংসের উচ্ছিষ্ট, রক্ত যাবতীয় দ্বারা বায়োগ্যাস প্লান্ট এর মাধ্যমে পরিবেশ দূষণরোধসহ দেশের বিদ্যুতের চাহিদা পূরণ ও জ্বালনী হিসেবে ব্যবহার করা যায়। বায়োগ্যাস প্লান্টের উৎপাদিত উপজাত উৎকৃষ্ট মানের জৈব সার হিসেবে বেশ উপযোগী বলে ও কর্মশালায় তুলে ধরা হয়।  

সরকারী, বেসরকারী, এন.জি.ও, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সমাজ সেবক সবার সহযোগিতায় রাজশাহীতে একটি আধুনিক কসাইখানা ও বায়োগ্যাস প্লান্ট তৈরীর মাধ্যমে মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও পরিবেশ বান্ধব নগর হিসেবে  দেশে-বিদেশে স্বীকৃতি পাবে বলে কর্মশালায় সকলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।-প্রেস বিজ্ঞপ্তি