Thursday, 16 August 2018

 

‘বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট -২০১৬’ এর খসড়ার অনুমোদন

এগ্রিলাইফ২৪ ডটকম ডেস্ক: দেশের কৃষি গবেষণা আধুনিকায়ন ও যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে ‘বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট -২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়। বৈঠক শেষে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট আইনটি ১৯৭৬ সালে অর্ডিনেন্স আকারে তৈরী করা হয় এবং ১৯৮৪ ও ১৯৯৬ সালে অ্যামেনমেন্ট হয়। যেহেতু এটা মার্শাল আমলের অর্ডিনেন্স আইন এজন্য সরকার এখন এ আইনটিকে বাংলায় আইন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া নিয়েছে। এটাতে আগে ছিল ১৮টি ধারা। এখন ৪টি নতুন ধারা যোগ করায় ২২টি ধারা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ধারা উল্লেখ করা হল।

৪ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে-ইনস্টিটিউটের কার্যালয় গাজীপুরের জয়দেবপুরে গড়ে তোলা হবে। ১৩ ধারায় ইনস্টিটিউটের তহবিল সম্পর্কে বলা হয়েছে- সরকারের উন্নয়ন, সরকারের নিকট থেকে প্রাপ্ত ঋণ, স্থানীয় কর্তৃপক্ষের অনুদান, দেশি-বিদেশি উন্নয়ন সংস্থার অনুদান এবং নিজস্ব আয় মিলে একটি ফান্ড তৈরি হবে। ২০ ধারায় বলা হয়েছে উচ্চ শিক্ষার জন্য প্রয়োজনে দেশি-বিদেশি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে। ২১ ধারায় বলা হয়েছে, এই বোর্ডের পরিচালক বা সদস্যরা যদি সরল বিশ্বাসে কোনো কাজ করেন তার জন্য দেওয়ানি কার্যক্রমের ব্যবস্থা রাখা।

বোর্ড গঠনের বিষয়ে তিনি বলেন, বোর্ড গঠনে একজন মহাপরিচালক থাকবেন তিনি হবেন বোর্ডের চেয়ারম্যান। চেয়ারম্যান ছাড়াও মনোনীত সদস্যরা থাকবেন। মহাপরিচালক এই সংস্থার প্রধান নির্বাহী। তার দায়িত্ব হবে সদস্যদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মধ্যদিয়ে ইনস্টিটিউট পরিচালনা করা। হিসাব নিরীক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা এবং স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির ব্যবস্থাপনা। আর ৪ মাস অন্তর অন্তর বোর্ডের সভা হবে। তবে বিশেষ প্রয়োজনে বেশি সভা করতে হলে করা যাবে। চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতিতে সদস্যদের মধ্য থেকে একজন মনোনীত সদস্য সভাপতিত্ব করতে পারবে। সভায় কমপক্ষে ৫০ ভাগ সদস্য উপস্থিত থাকলে কোরাম পূর্ণ হবে।কোনো সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করার জন্য সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটের প্রয়োজন।

ইনস্টিটিউটের কাজের পরিধি সম্পর্কে তিনি বলেন, যেহেতু এটা কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট তাই কৃষি সম্পর্কে বিস্তৃত রূপরেখা অনুমোদন ও প্রণয়ন করা যাবে। ফসলের নতুন জাত উদ্ভাবন, মানসম্পন্ন প্রযুক্তির মাধ্যমে বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনা স্থিতিশীল-উৎপাদনশীল গবেষণার ব্যবস্থা করা, কৃষিক্ষেত্রে বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের গবেষণা করা, ফসলের নতুন জাত পরিচর্যা এবং প্রদর্শনী করা, ফসল গবেষণা ইনস্টিটিউটের কার্যক্রম সম্পর্কে বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ করা, কৃষকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা, স্নাতকত্তোর গবেষণার সুযোগ সৃষ্টি করা।