Tuesday, 21 August 2018

 

সম্ভাবনার দুয়ার খুলেছে তিতির

আবুল বাশার মিরাজ, বাকৃবি প্রতিনিধি►তিতির। নতুন প্রজন্মের ছেলে-মেয়েদের কাছে পাখিটি বেশ অপিরিচিত। কারণ এটি সচরাচর দেখা যায় না। প্রায় ৭’শত বছর আগে বন-জঙ্গল থেকে গৃহপালিত পাখির কাতারে আসা আফ্রিকান এ পাখিটি ইউরোপ হয়ে ব্রিটিশ উপনিবেশ সময়ে আসে আমাদের দক্ষিণ এশিয়ায়। এদেশে চীনা মুরগি বা চায়না মুরগী হিসেবে পাখিটির সামান্য পরিচিতি ঘটলেও বাণিজ্যিক পোল্ট্রির দাপটে পড়েছিল বিলুপ্তির মুখে। আই. ইউ.সি.এন. প্রজাতিটিকে Least Concern বা আশঙ্কাহীন বলে ঘোষণা করেছে। তবে বাংলাদেশে এরা মহাবিপন্ন (Critically endangered) বলে বিবেচিত। এত কিছুর পরও বাংলাদেশে মহাবিপন্ন এই পাখিটির বাণিজ্যিক লালন-পালনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। ময়মনসিংহে অবস্থিত বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের অর্থায়নে পরিচালিত  বাকৃবির পোল্ট্রি বিজ্ঞান বিভাগের উদ্যোগে চলছে পাখিটির সংরক্ষণ এবং সম্প্রসারণ।

২০১০ সাল থেকে বাকৃবির পোল্ট্রি খামারে তিতির পালন শুরু হয়। দীর্ঘ ৬বছর ধরে গবেষণার পর পাখিটির সম্ভাবনার কথা জানাচ্ছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পশুপালন অনুষদীয় পোল্ট্রি বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সুবাস চন্দ্র দাস

গবেষক জানান, তিতিরের তিনটি প্রজাতি রয়েছে। এর মধ্যে একটি প্রজাতির তিতির নিয়ে গবেষণা করে সম্প্রসারণে সফলতা পেয়েছেন। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের আশে পাশের এলাকায় পাখিটি বিনামূল্যে বিতরণও করেছেন। তিনি যে প্রজাতিরও তিতির নিয়ে গবেষণা করেছেন সেটির  বৈজ্ঞানিক নাম Numida meleagris। এ প্রজাতির তিতিরের দৈর্ঘ্য কমবেশি ৩৪ সেন্টিমিটার, ডানা ১৫ সেন্টিমিটার, ঠোঁট ২.৪ সেন্টিমিটার, পা ৪.৮ সেন্টিমিটার ও লেজ ১০ সেন্টিমিটার। পুরুষ ও স্ত্রী তিতিরের চেহারা ভিন্ন। সচরাচর একাকী কিংবা জোড়ায় জোড়ায় ঘুরে বেড়ায় এই পাখিটি। খাদ্যতালিকায় রয়েছে বীজ, শস্যদানা, কচি কান্ড, ফল ও পোকামাকড়। ঊষা ও গোধূলিতে এরা বেশি কর্মচঞ্চল হয়। এসময় স্বভাবসিদ্ধ তীক্ষ্ণ স্বরে ডাকে- চিক..চিক..চিক.. ক্রেকেক।

গবেষক আরও জানান, সংক্রমণ বা পরজীবী তিতিরকে সহজে আক্রমণ করতে পারে না। ফলে খামারে তিতির পালন করতে আলাদা কোন ভ্যাকসিন কিংবা ঔষুধের প্রয়োজন হয় না।  প্রতিকূলতার সঙ্গে বাণিজ্যিক মুরগি চলতে না পারলেও তিতির চলতে পারে। বছরে একটি তিতির ১০০ থেকে ১২০টি ডিম দেয়। ডিমগুলো হলদে জলপাই থেকে হালকা জলপাই বাদামী বর্ণের হয়। ডিম থেকে বাচ্চা উৎপাদন ও পালনের সবগুলি ধাপ বাকৃবি গবেষণা খামারে শেষ হওয়ার পর এখন তিতির ছড়িয়ে পড়ছে উদ্যোক্তাদের খামারে।

খামারে তিতির পালন করে দারিদ্র বিমোচন করা সম্ভব। তিনি জানান, দেশী মুরগি খামারে ৬ মাসে সাত’শ আট’শ গ্রাম বা সর্বোচ্চ এক কেজি ওজনের হয়। কিন্তু তিতির পাখি পনের’শ থেকে ষোল’শ গ্রামের হয় বা তার বেশিও হয়ে থাকে। তিতিরের মাংস বেশ সুস্বাদু ও পুষ্টিকর। এ কারণে বাজারে তিতিরের চাহিদা ও মূল্যও দেশী মুরগির চেয়ে প্রায় কয়েকগুণ বেশি। বাজারে প্রতিটি তিতির ১২০০থেকে ১৫০০টাকায় বিক্রি হচ্ছে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন তিতিরের খাদ্য খরচ পোল্ট্রি বা দেশী মুরগীর তুলনায়ও অনেক কম হওয়ায় খামারীরাও পাখিটির বাণিজ্যিক পালনে বেশ আগ্রহ দেখাচ্ছেন।