Thursday, 23 November 2017

 

টাঙ্গাইলে সবজীতে কীটনাশকের পরিবর্তে সেক্স ফেরোমন ট্র্যাপ ব্যবহার জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে

খন্দকার শফিকুর রহমান,উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা, টাঙ্গাইল সদর:শসা ও কৃষিপণ্য উৎপাদনে বর্তমানে যেমন মাত্রাতিরিক্ত রাসায়নিক সার, কীটনাশক ইত্যাদি প্রয়োগ বা ব্যবহারের কথা শোনা/জানা যায় তেমনি এসব উপকরণ ছাড়াও কৃষিপণ্য উৎপাদনের কথা মাঝে মধ্যে নানা মাধ্যমে জানা যায়। তবে অতিরিক্ত পরিমাণে সার, কীটনাশক ইত্যাদি ব্যবহারের কথাই বেশি শোনা যায়। এমন এক সময় ছিল যখন রাসায়নিক সার, কেমিক্যাল জাতীয় কীটনাশক ইত্যাদির প্রয়োজনীয়তাই আসেনি। তখন গোবর সার, কচুরিপানা, আবর্জনা পচা সার ইত্যাদি কৃষি জমিতে প্রয়োগ করা হতো উন্নত ও বেশি পরিমাণে ফলন হওয়ার জন্য। কিন্তু বিজ্ঞানের অগ্রগতির ছোঁয়া শেষ পর্যন্ত লাগে কৃষিক্ষেত্রেও। ফলে নানা ধরনের রাসায়নিক সার, কীটনাশক ইত্যাদির আবির্ভাব ঘটে।

এসবের চাপাচাপিতে শেষ পর্যন্ত প্রায় বিদায় নিতে বাধ্য হয় গোবর জাতীয় সার, নিমের পাতার রস দিয়ে তৈরি কীটনাশক ইত্যাদি। আমাদের দেশের সহজ-সরল কৃষকরা কৃত্রিম এসব কৃষি উপকরণ বৈজ্ঞানিকভাবে প্রয়োগ করতে পারে না। কারণ একদিকে বেশির ভাগ কৃষকই নিরক্ষর, অপরদিকে কৃষি বিভাগ থেকে কৃষকদের মাঝে এ সংক্রান্ত জনসচেতনতামূলক তেমন কার্যক্রম নেই। ফলে অপরিকল্পিতভাবে উল্লেখিত এসব জিনিস ফসলি জমিতে প্রয়োগ করার ফলে একদিকে যেমন কৃষি ক্ষেত্রে নানামুখী সমস্যা বাড়ছে তেমনি এর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে প্রকৃতি ও পরিবেশের ওপরও।

বর্তমানে অবস্থা এমন হয়েছে যে কৃত্রিম উপকরণ ছাড়া কৃষিপণ্য উৎপাদন করা মোটেই সম্ভব হচ্ছে না। তারপরও এসব থেকে যে পরিত্রাণের পথ আার একেবারেই খোলা নয় তা অবশ্য বলা যাবে না। খুব ধীরে ধীরে রাসায়নিক সার প্রয়োগ, কীটনাশক ইত্যাদি ব্যবহার কমিয়েও মাটিকে আবার কম বেশি আগের গুণাবলীতে ফিরিয়ে আনা সম্ভব। কৃষি বিজ্ঞানীরা এ নিয়ে ব্যাপক গবেষণাও করেছেন। এর কম-বেশি সুফলও ইতিমধ্যে পাওয়া যেতে শুরু করেছে।

কৃষকরা রাসায়নিক সারের পরিবর্তে জৈব সার এবং ফসলের পোকামাকড় নিধনে কীটনাশকের পরিবর্তে ফেরোমন ট্র্যাপ পদ্ধতি ব্যবহার করছে। এ পদ্ধতির জনপ্রিয়তা লাভের প্রধান কারণ হচ্ছে এটা যেমন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন এবং অধিকতর লাভজনক, তেমনি স্বাস্থ্যসম্মতও। অনেক স্থানে রাসায়নিক সার ও কীটনাশক বিক্রি কমে গেছে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে জনসচেতনতা জাগ্রত হওয়ার কারণে। কৃষকরা বরবটি, শিম, বেগুন, ঝিঙা, ধুন্দল, পটল ইত্যাদি চাষাবাদে সেক্স ফেরোমন ব্যবহার করে ব্যাপক সফলতা অর্জন করে। বাজারে এসব সবজির চাহিদাও প্রচুর। কারণ সচেতন ক্রেতারা জানছেন এসব রাসায়নিক সার ও কীটনাশকমুক্ত সবজির চেয়ে অধিকতর নিরাপদ ও সুস্বাদু। দামও স্বাভাবিক।

টাঙ্গাইল সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে বাঘিল ও দাইন্যা ইউনিয়নে বিষমুক্ত সবজী উৎপাদন কর্মসূচি নেয়া হয়েছে। উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে কৃষকদের বিনামূল্যে সেক্স ফেরোমন ট্র্যাপ দেযা হয়। এর সুফল কৃষকরা পেতে শুরু করেছে। অন্য ইউনিয়নেও এই কাযৃক্রম শুরুর উদ্যোগ নিযেছে কৃষি বিভাগ।