Saturday, 18 November 2017

 

সিলেট সদরে রিপার প্রদর্শণী ও মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত

সমকালীন কৃষি ডেস্ক: সিলেট সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে “খামার যান্ত্রিকীকরণের মাধ্যমে ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্প (২য় পর্যায়)”- এর আওতায় গত ১৪ নভেম্বর খাদিমনগর ব্লকে রিপার যন্ত্রের মাধ্যমে রোপা আমন ধান কর্তন প্রদর্শণীর মাঠ দিবস কৃষিবিদ কাজী মুজিবুর রহমান, উপজেলা কৃষি অফিসার সিলেট সদর এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়।

রাইস রিপার মেশিনের মাধ্যমে ধান কাটা ও মাঠদিবস অনুষ্ঠানে কৃষিবিদ মো. আবুল হাসেম, উপপরিচালক, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, সিলেট উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের অন্যতম বিশেষ উপস্থিতি ছিল একজন আদর্শ কৃষক এবং সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ, সিলেট ও বিশ্বনাথ-বালাগঞ্জের (সিলেট-২) সাবেক এমপি জনাব শফিকুর রহমান চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. আবুল হাসেম তাঁর বক্তব্যে বলেন, ফসলের উন্নত জাত, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ও কলাকৌশল, সুষম মাত্রায় সার প্রয়োগ, সঠিক যত্ন পরিচর্যা, আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতির ব্যবহার-এর মাধ্যমে উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে। জনবহুল দেশ হলেও প্রয়োজন মাফিক কৃষি শ্রমিক সময় মত পাওয়া যায় না। ফলে কৃষকদের উৎপাদন খরচ বেড়ে যায়। এতে কৃষকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন। শ্রমিক নির্ভর না হয়ে কৃষি যান্ত্রিকতা নির্ভর হওয়ার জন্য তিনি সকলকে আহবান করেন।

জনাব শফিকুর রহমান চৌধুরী তার বক্তব্যে বলেন, বর্তমান সরকার কৃষিবান্ধব সরকার। কৃষকদের উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে এবং কৃষিতে ভর্তূকী প্রদান করছে। দেশের আবাদি জমির পাশাপাশি অনাবাদি জমি চাষে সরকার বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করছে। কৃষিবান্ধব সরকারের বিশেষ উদ্যোগ, প্রকল্প ও কর্মসূচীগুলো কৃষক পর্যায়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়ন করছে। এ কথা বলতে দ্বিধা নেই, এক সময় বলা হতো কৃষি বিভাগের কর্মীরা কৃষকের আঙ্গিনায় বা মাঠ পর্যায়ে পাওয়া যায় না; এখন আর সেদিন নেই।

তিনি আরো বলেন, কৃষি কর্মীরা এখন কৃষক পর্যায়ে কৃষি সেবা, তথ্য ও প্রযুক্তি পৌঁছে দিচ্ছে। ফলে কৃষি উৎপাদনে বৈপ্লবিক পরিবর্তন হয়েছে। এক সময়ের তলাহীন ঝুড়ি আজ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ্য হয়ে বর্হিবিশ্বে রপ্তানিও করছে। কৃষি বিভাগকে নিয়ে আজ আমরা গর্ববোধ করি। পরে তিনি সরকারের এ সহায়তা সুযোগ গ্রহণ করে কৃষিকে যান্ত্রিকীকরণ করার মাধ্যমে উৎপাদন বৃদ্ধি করার জন্য উপস্থিত সকলের প্রতি আহ্বান জানান।

ধান কাটা যন্ত্র রিপারের পরিচিতি ও কার্যকারিতা তুলে ধরে কৃষিবিদ কাজী মুজিবুর রহমান, উপজেলা কৃষি অফিসার, সিলেট সদর বলেন, কৃষি কাজে বর্তমানে কৃষি শ্রমিকের সংকট রয়েছে। শ্রমিক দ্বারা ধান কাটতে ১ বিঘা জমিতে প্রায় ১ দিন সময় লাগে। পক্ষান্তরে রিপার দ্বারা ১ বিঘা জমির ধান কাটতে প্রায় ৪৫ থেকে ৬০ মিনিট সময় লাগে, যাতে মাত্র ১ লিটার পেট্্েরাল খরচ হয়। এবং ৩০% সরকারি ভর্তূকিতে রিপার যন্ত্র পাওয়া যাচ্ছে।

এ যন্ত্রটি ব্যক্তিগত ভাবে অথবা সমিতির মাধ্যমে ক্রয় করে ভাড়ার ভিত্তিতে পরিচালনা করার সুযোগ রয়েছে এবং সঠিক সময়ে ধান কর্তণ করে অর্থ ও সময় সাশ্রয় করা যায়। তিনি সরকারী ভর্তূকি কাজে লাগিয়ে কৃষি যন্ত্রপাতি ব্যক্তিগত ভাবে অথবা সমিতির মাধ্যমে ক্রয় করে কৃষি কাজে ব্যবহার করার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা কর্মচারী, সাংবাদিক, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, কৃষক-কৃষাণী উপন্থিত ছিলেন। ব্রি ধান৪৯ জাতের ধানের ফসল কর্তনে ফলন পাওয়া যায় চালে প্রায় ৩.৭৬ মে.টন। -বিজ্ঞপ্তি: কৃষি তথ্য সার্ভিস, সিলেট।