Tuesday, 19 September 2017

 

বরকলে রাজস্ব খাতের ভূট্টা প্রদর্শনীর মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত

সমকালীন কৃষি ডেস্ত:কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, বরকল উপজেলা-এর আয়োজনে সম্প্রতি রাঙ্গামাটি জেলার বরকল উপজেলার ভূষনছড়া ইউনিয়নের এ্যারাবুনিয়া ব্লকে রাজস্ব খাতে স্থাপিত ভূট্টা প্রদর্শণীর মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, রাঙ্গামাটি জেলার উপ পরিচালক রমনী কান্তি চাকমার সভাপতিত্বে উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ২৫ বিজিবি, ছোট হরিনা জোনের অধিনায়ক লেঃ কর্নেল মোঃ আতিক চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, রাঙ্গামাটি অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালকের কার্যালয়ের উপপরিচালক তপন কুমার পাল এবং কৃষি তথ্য সার্ভিস, রাঙ্গামাটির আঞ্চলিক কৃষি তথ্য অফিসার প্রসেনজিৎ মিস্ত্রী।

অনুষ্ঠানের শুরুতে অতিথিবৃন্দ রাজস্ব খাতে স্থাপিত ভূট্টা প্রদর্শনীর  ক্ষেত পরিদর্শন করেন। এরপর আলোচনা সভায় ইউপি সদস্য আ: সবুর তালুকদার, প্রদর্শনী ভূট্টা চাষী আব্দুল হাই, স্থানীয় কৃষক কালাম শেখ, আব্দুল হামিদ, মাহফুজসহ অন্যরা ভূট্টা চাষে তাদের অভিজ্ঞতার পাশাপাশি এলাকার সামগ্রিক কৃষির বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনার বিষয়ে তাদের মতামত ব্যক্ত করেন।

কৃষকরা বলেন, উল্লেখযোগ্য কোন বিকল্প ফসল এলাকায় চাষ হয় না বলে কৃষকরা অনেকটা বাধ্য হয়ে তামাক চাষ করে আসছেন। ভূট্টাসহ অন্যান্য সম্ভাবনাময় ফসলের উপযুক্ত জাতের বীজ, সার  সরবরাহ এবং সংশ্লিষ্ট ফসল চাষের বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদানের ব্যবস্থা করা  গেলে এবং উৎপাদিত ফসল সহজে বাজারজাত করার ব্যবস্থা করলে কৃষকরা তামাক চাষের পরিবর্তে অন্য ফসল চাষে আগ্রহী হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কৃষিবিদ তপন কুমার পাল বলেন পার্বত্য এলাকার অধিকাংশএলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা খারাপ হওয়ার কারনে উৎপাদিত পণ্য বিশেষকরে পচনশীল কৃষি পণ্য যথাসময়ে বাজারজাতকরণে সীমাবদ্ধতা রয়েছে। সেজন্য ফসল নির্বাচনে আরো বেশি সতর্ক হতে হবে।  তিনি ভূট্টা আবাদের পাশাপাশি মসুর, মুগ, সরিষা, আখ, তিল, গম ইত্যাদি ফসল চাষ ও সরিষা ক্ষেতে মৌ বাক্স স্থাপনের জন্য কৃষকদের পরামর্শ প্রদান করেন।

প্রধান অতিথি লেঃ কর্নেল মোঃ আতিক চৌধুরী বলেন এ্যারাবুনিয়া এলাকার কৃষকদের ফসল চাষে অনেক প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। এইসব প্রতিবন্ধকতা উত্তরনে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরসহ অন্যান্য সংস্থা কর্তৃক কৃষকদের  এলাকার উপযোগি ফসল চাষের উপকরণ ও পরামর্শ প্রদান করা হলে তামাক চাষ অনেকাংশে হ্রাস পাবে।

সভাপতির বক্তব্যে উপ পরিচালক রমনী কান্তি চাকমা বলেন হাইব্রিড ভূট্টা চাষে রোগ  পোকার আক্রমন কম হয়, বোরো ধানের চেয়ে সেচ কম লাগে, কম খরচে লাভ অনেক  বেশি পাওয়া যায়। তাই এর আবাদ বাড়ানোর জন্য তিনি কৃষকদের পরামর্শ প্রদান করেন। তিনি বলেনবর্তমান কৃষি বান্ধব সরকার প্রনোদনা কর্মসূচীর আওতায় আধুনিক জাতের ফসল চাষের আবাদ বৃদ্ধির লক্ষে বিভিন্ন ফসলের উন্নতমানের বীজ, সার ও অন্যান্য উপকরণ বিনামূল্যে কৃষকদের মাঝে বিতরণ করছে। যার ফলশ্রুতিতে বাংলাদেশ আজ খাদ্য উৎপাদনে স্বংসম্পূর্ণতা অর্জণ করেছে।

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা অনুপ কুমার দত্ত’র সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে বরকল উপজেলার উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাসহ এলাকার সর্বস্তরের কৃষক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিসহ প্রায় শতাধিক লোক উপস্থিত ছিলেন।
-এআইএস এর সৌজন্যে