Monday, 20 November 2017

 

কলা গাছের বান্চি টপ রোগের লক্ষণ এবং করণীয়

এগ্রিলাইফ২৪ ডটকম:শরীরের পুষ্টির জন্য ফল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর এ পুষ্টি সরবরাহে কলার অবদান ব্যাপক। দেশের ধনী-গরীব সকলেরই কাছে প্রিয় একটি ফল কলা। তাছাড়া দেশের কৃষি অর্থনীতিতেও এর একটি প্রভাব রয়েছে। তবে কলা চাষীদের যে রোগটি নিয়ে সব সময়ই ভাবতে হয় সেটি হলো বান্চি টপ রোগ। ভাইরাস জনিত রোগটি সম্পর্কে কিছু টিপস্ রয়েছে এগ্রিলাইফের পাঠকদের জন্য।

চাষী ভাইরা অনেক সময় লক্ষ করবেন কলা গাছ সময়মতো বড় হচ্ছে না। মাথা ফুলে পাতা হলুদ হয়ে আস্তে আস্তে  গাছ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে ।এ ধরনের লক্ষনগুলির জন্য দায়ী কলা গাছের বান্চি টপ রোগ।

কিভাবে এ রোগ চিনবেন ?

  • প্রাথমিক অবস্থায় পাতার বোটাতে সুস্পষ্ট গাঢ় সবুজ রংয়ের দাগ পড়ে
  • পাতার রং ফ্যাকাশে হয়ে যায়
  • পাতার কিনারা কিছুটা ঢেউ খেলানো হয় এবং ভিতরের দিকে কুঁকড়ে যায়।
  • কান্ডের অগ্রভাগের পাতাগুলো গুচ্ছাকারে ঝাটার মত আকার ধারন করে।
  • পরবর্তীতে পাতা হলুদ হয়ে যায় এবং গাছের বাড়বাড়তি একেবারেই বন্ধ হয়ে যায়।

এ রোগের আক্রমন কিভাবে ছড়ায়?

  • জাবপোকার মাধ্যমে এ রোগ ছড়ায়। জাবপোকা আক্রান্ত গাছ থেকে রস খেয়ে ভাল গাছে থেকে রস খেতে গেলে তখন ভাল গাছও আক্রান্ত হয়।
  • আক্রান্ত চারা লাগালেও জমিতে অন্যান্য গাছ এ রোগ দ্বারা আক্রান্ত হতে পারে
  • আক্রান্ত গাছে ব্যবহৃত দা বা কাঁচি ভাল গাছের পাতা  কাটতে ব্যবহার করলে এ রোগের বিস্তার ঘটতে পারে।

কি ক্ষতি করে?

  • এ রোগের আক্রমণে গাছের বাড়বাড়তি একেবারে বন্ধ হয়ে যায়
  • গাছে কলা ধরে না বা ধরলেও  কলার আকার আকৃতি একেবারে ছোট হয়ে যায়।
  • এ রোগের আক্রমণে কলার বাগান একবারে ধ্বংস হয়ে যেতে পারে।

কিভাবে এ রোগ দমন করবেন?

প্রতিরোধ ব্যবস্থা :

  • জমি পরিষ্কার পরিছন্ন রাখুন
  • এ রোগ সহনশীল জাতের কলা (সবরি কলা) রোপন করুন।
  • রোগমুক্ত বাগান থেকে চারা সংগ্রহ করুন।
  • জমিতে পরিমাণমত সার ও সেচ প্রদান করুন।

প্রতিকার ব্যবস্থা:

  • জাবপোকা এ রোগের বাহক। এ পোকা দমনের জন্য ডেসিস ২.৫ ইসি প্রতি ১০ লিটার পানিতে ১০ মিলি ( দুই কর্ক) অথবা যে কোন কীটনাশক পরিমাণমত পোকা দেখার পর স্প্রে করে এ পোকা দমন করা যায়।
  • জমিতে আক্রমণ দেখা সাথে সাথে আক্রান্ত গাছ উঠিয়ে মাটিতে পুঁতে ফেলতে হবে।
  • আক্রান্ত গাছ ব্যবহৃত দা বা কাচি ভাল গাছের পাতা কাটতে ব্যবহার করা যাবে না।

সতর্কতা: যে কোন বালাইনাশক ব্যবহার করার সময় প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। প্যাকেট বা বোতলের গায়ে লেখা পরামর্শ অবশ্যই মেনে চলতে হবে। প্রয়োজনে আপনার নিকটস্থ কৃষি অফিসে কৃষি কর্মকর্তার সহায়তা নিন।