Saturday, 23 September 2017

 

"প্রাণিরও আছে প্রাণ তার জন্য চাই ত্রান"

এগ্রিলাইফ২৪ ডটকম:বৃহত্তম রাজশাহী সমিতি, ময়মনসিংহ, শাহ কৃষি তথ্য পাঠাগার এবং বাংলাাদেশ লাইভষ্টক সোসাইটির আয়োজনে “প্রাণিরও আছে প্রাণ তার জন্য চাই ত্রান"- স্লোগান নিয়ে মান্দা উপজেলার, বুড়িদহ হাই স্কুর মাঠে প্রাণির ত্রান বিতরণ কর্মসূচী ২০১৭ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাাদেশ লাইভষ্টক সোসাইটির সভাপতি প্রফেসর ড. মোঃ জলাল উদ্দিন সরদার (রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়)।

গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক ড. মোঃ রিয়াজুল ইসলাম এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রফেসর ড. সুভাস চন্দ্র দাশ–সভাপতি রাজশাহী সমিতি, ময়মনসিংহ ও অধ্যাপক, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ।বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড. মোঃ হেমায়েতুল ইসলাম, সাধারন সম্পাদক–বাংলাাদেশ লাইভষ্টক সোসাইটি; জাহাঙ্গীর আলম শাহ–প্রতিষ্ঠাতা শাহ কৃষি তথ্য পাঠাগার; ড. মোঃ আনিসুর রহমান–উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকতা, মান্দা; মোঃ দেলোয়ার খান–ACI Animal Health; মেহেদি মোমিনুর হক–RSM, Renata Animal Health; শ্রী আনন্দ কুমার প্রামানিক–চেয়ারম্যান, এল,টি, ফার্মাসিউটিক্যাল, রাজশাহী; ত্রিপতিশ চন্দ্র মন্ডল–প্রধান শিক্ষক বুড়িদহ উচ্চ বিদ্যালয় মান্দা, নওগাঁ।

এ বছর ভয়াবহ বন্যায় অপূরনীয় ক্ষতি সাধিত হয়েছে বাংলার গ্রামীন জনপদে। প্রথমে আগাম বন্যায় হাওড়ে মানুষের হাহাকার; পরবর্তীতে মৌসুমি বন্যায় উত্তর, মধ্য ও দক্ষিণাঞ্চলে বন্যা পীড়িত মানুষের আকুতি। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর, বেসরকারী সংস্থা, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তি ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনসহ নানা পেশার মানুষ মানবতার হাত বাড়িয়েছে বন্যাদুর্গতদের পাশে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট সকলেই ধন্যবাদ পাবেন-নিঃসন্দেহে। এ যেন বাঙালির চিরাচরিত সংস্কৃতিরই অংশ- একের বিপদে, আর এক প্রতিবেশী সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়া। কিন্তুু গবাদিপশু, হাঁস-মুরগী, কোয়েল-কবুতর? এ প্রাণীগুলোও তো বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত! তাদের বোবাকান্না সমাজ কি কখনও কান পেতে শুনে? তাদের নি:শ্বব্দ আর্তনাদে কি আমাদের অনুভূতিকে স্পর্শ করে? বৃহত্তর রাজশাহী সমিতি, ময়মনসিংহ এর বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়স্থ সদস্যবৃন্দ বন্যার্ত প্রাণীকূলের পাশে দাঁড়িয়েছে।

সেপ্টেম্বর ৬-৮, ২০১৭ সময়ে নওগাঁর মান্দা উপজেলায় বিভিন্ন স্থানে প্রায় ২০০০ ডোজ ক্ষুরারোগের টিকা প্রদান করছে তারা। টিকাদান কর্মসূচী সফল করার জন্য বৃহত্তর রাজশাহী সিমিতি, ময়মসসিংহ-এর পাশে দাঁড়িয়ে সার্বিক সহযোগীতা করছে বাংলাদেশ লাইভস্টক সোসাইটি, রাজশাহী এবং শাহ কৃষি তথ্য পাঠাগার, মান্দা, নওগাঁ।

সাধারণতঃ বর্ষা চলে যাবার পর পরই গবাদিপশুর ক্ষুরা রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। অধিকন্ত, বন্যায় দূর্গত সময়কালে গবাদিপশুর অর্পযাপ্ত খাদ্য ও সার্বিক অব্যস্থাপনার কারণে তাদের শরীর দুর্বল হয়ে রোগ প্রতিরোধ শক্তি কমে যায়। যেহেতু ক্ষুরারোগ ভাইরাস জনিত, বিধায় বন্যার সময় একই এলাকার অনেক গবাদিপশু এক সাথে রাখার কারণে রোগ সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায় বহুগুনে। সর্বোপরি, পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে কোরবানীর পশু আমদানী এবং কোরবানীর কয়েক দিন আগে পশুর ব্যাপক চলাচলের কারণেও রোগ সংক্রমণের সম্ভাবনা বেড়ে যায়। এমতাবস্থায়, ক্ষুরারোগের টিকা প্রদান অত্যন্ত সময়োপযোগী পদক্ষেপ। সর্বোপরি, গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ত্রাণ ও দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ে মানুষের পাশাপাশি বন্যাসহ যে কোন প্রাকৃতিক দূর্যোগে প্রাণীকূলের ত্রান ও অপরাপর আনুসঙ্গিক ব্যবস্থাপনা, যদি না থাকে তাহলে তা, নীতিগত ভাবে অর্ন্তভূক্ত করা প্রয়োজন। প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তর এ সময় আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে পারে।

টিকাদান কর্মসূচীর পয়েন্ট ; রামনগর, বুড়িদহ, জোত বাজার, নীড়ডাঙ্গা, শামুকখোলা, এর প্রায় ৩/৪ পয়েন্টে সেচ্ছাসেবী ভেক্সিন প্রদানকারী সেলিনা বেগম, জাহিদ হাসান,ড. শাহিন, ড. সারোয়ার ২০০০ ডোজ ৬০০ পরিবার ৩টি গ্রাম ও ২টি ইউনিয়ন সেবা প্রদান করা হয়।