Thursday, 14 December 2017

 

গাজীপুর সদ‌রে ক্ষ‌তিকর পোকা দম‌নে আ‌লোক ফাঁদ পদ্ধ‌তির ব্যবহার বাড়ছে

এগ্রিলাইফ২৪ ডটকম:আর্থিক ক্ষতি কমানো, পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ ও বিষমুক্ত ফসল উৎপাদন-এখন সময়ের দাবি। তাছাড়া আধুনিক কৃষির জন্য চ্যালেঞ্জ ও বটে। এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলার লক্ষে নিরলস পরিশ্রমে নতুন নতুন কৃষি প্রযুক্তি আবিষ্কৃত হচ্ছে। কৃষি কর্মীরা এ সব প্রযুক্তি মাঠ পর্যায়ে দ্রুতই ছড়িয়ে দিচ্ছে। ফলে সুফল ভোগ করছেন কৃষকরা। রক্ষা পাচ্ছে নির্মল পরিবেশ ও জীব বৈচিত্র্য। সাম্প্রতিক সময়ে আলোচিত গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সবুজ প্রযুক্তির মধ্যে আলোক ফাঁদ প্রযুক্তিটি অনেক আগে থেকেই একটা জায়গা দখল করে আছে।

ফলাফল ভালো হওয়ায় এবং ব্যয় সাশ্রয়ী ফসলের পোকা দমনে রাসায়নিক সার ও কীটনাকের বদলে পরিবেশবান্ধব পদ্ধতির দিকে ঝুঁকছেন গাজীপুরের কৃষকরা। জেলার সদর উপজেলায় আলোক ফাঁদ ব্যবহার করে পোকা দমন করা হচ্ছে। এতে লাভ হচ্ছে দুই দিকে। পরিবেশ রক্ষা হচ্ছে, পাশাপাশি চাষের খরচ কমছে কৃষকের।গাজীপুর সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গেলেই এই আলোক ফাঁদের দেখা মেলে। রাতে অন্ধকারের মধ্যে এই ফাঁদগুলো দৃষ্টিনন্দন হয়ে উঠে। স্থানীয় কৃষি বিভাগের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের উৎসাহেই এই পদ্ধতি চলছে এই উপজেলায়।আমন ধানের ক্ষেতের আইলে কোথাও পানিভর্তি পাত্রে, কোথাও কাগজের উপর আলো জ্বেলে ধানে আক্রমণাত্মক বিভিন্ন পোকা ধরেন কৃষক।

এই পদ্ধতিতে পোকা দমন শুরু হওয়ার পর থেকে কৃষকদের খরচ যেমন কমে আসছে, তেমনি ধানের উৎপাদনও বৃদ্ধি পাচ্ছে। কারণ, এই পদ্ধতিতে ধানের জন্য ক্ষতিকারক পোকা দমন হলেও উপকারী পোকাগুলো রয়ে যাচ্ছে। উপজেলার ভাড়ারুল গ্রামের কৃষকরা অনেকেই বলেছেন-এই পদ্ধতিতে তারা উপকৃত হয়েছেন। পোকার উপস্থিতি চিহ্নিত করে সঙ্গে সঙ্গে প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারছেন। ভাড়ারুলে আলোক ফাঁদ পরিদর্শনে এসে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোছাঃশারমিন আখতার বলেন, এটি একটি সহজলভ্য পদ্ধতি। কৃষকরা এই পদ্ধতি ব্যবহার করে খুব সহজেই ধানের ক্ষেতে পোকা মাকড়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারেন।

আলোক ফাঁদ পরিদর্শনের সময় উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষন কর্মকর্তা মোঃ মোজাম্মেল হক সহ উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ও কৃষকবৃন্দ  উপস্থিত ছিলেন।