Friday, 24 November 2017

 

বেগুনের ফল ও কান্ড পঁচা রোগ প্রতিরোধে করণীয়

ড. কে, এম, খালেকুজ্জামান: সারাবছরই যে সবজিটির ভালো বাজারমূল্য থাকে তা হলো বেগুন। এটি চাষ করে প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষকরা তাদের আর্থিক অবস্থার উন্নয়ন করে থাকেন।তবে এটি চাষ করতে গেলে বেগুনের সব রকম রোগ সম্পর্কে সব সময় সচেতনতা অবলম্বনের পরামর্শ প্রয়োজন।বেগুনের অনেকগুলো রোগের মধ্যে আজ রয়েছে বেগুনের ফোমোপসিস ব্লাইট/ফল ও কান্ড পঁচা (Phomopsis blight/Fruit and stem rot);

রোগের কারণ: ফোমপসিস ভেক্সান্স (Phomopsis vexans) নামক ছত্রাকের আক্রমনে এ রোগ হয়ে থাকে।

রোগের বিস্তার:মাটি, আক্রান্ত গাছের পরিত্যক্ত অংশ ও বীজের মাধ্যমে এ রোগ সংক্রমিত হয়। অনুকুল আবহাওয়ায় গাছের পরিত্যক্ত অংশে প্রচুর পিকনিডিওস্পোর উৎপন্ন হয় এবং গাছে বিস্তৃত হয়ে রোগ সংক্রমন করে। গাছে পুষ্টির অভাব হলে এ রোগের ব্যাপকতা বেড়ে যায়। আর্দ্র আবহাওয়া ও অধিক তাপমাত্রায় (২৭-৩২ সেঃ) এ রোগ দ্রুত বৃদ্ধি পায়।

রোগের লক্ষণ: 

  • বীজ, চারা, কান্ড, ডাল, পাতা, ফুল ও ফল এই রোগ দ্বারা আক্রান্ত হয়।
  • গাছের পাতা যে কোন সময় আক্রান্ত হতে পারে
  • সাধারনত: নীচের পাতায় প্রথম দাগ দেখা যায়, পরে দাগগুলি স্পষ্ট গোলাকার ও ধূসর বাদামী রং ধারন করে
  • বয়স্ক দাগে অনেক কালো কালো পিকনিডিয়া দেখা যায়
  • বেশী আক্রান্ত পাতা হলুদ হয়ে মারা যায় ও ঝরে পড়ে
  • মাটির সংযোগস্থলে গাছের কান্ড হঠাৎ সরু হয়ে যায়
  • কান্ডের গোড়ার দিকে ক্যাংকার সৃষ্টি হয়। মাঝে মাঝে বাকল খসে পড়ে এবং ভিতরের কাঠ বেরিয়ে পড়ে
  • আক্রান্ত স্থলের ক্ষতস্থানে ছত্রাকের কালো কালো পিকনিডিয়া দেখা যায়
  • ফল গাছে থাকতেই আক্রান্ত হয়
  • ফলের উপর ফ্যাকাশে কিছুটা বসানো দাগ পড়ে, আক্রান্ত স্থলে বাদামী ক্ষতের সৃষ্টি হয় ও কালো ছত্রাক দৃষ্টিগোচর হয়
  • আক্রান্ত ফল দ্রুত পঁচে যায়।

প্রতিকার: 

  • সুস্থ ও নীরোগ বেগুন হতে বীজ সংগ্রহ করতে হবে।
  • কালো ও কুচকানো বীজ ব্যবহার করা উচিত নয়
  • কার্বেন্ডাজিম (অটোস্টিন) অথবা কার্বোক্সিন+থিরাম (প্রোভ্যাক্স ২০০ ডব্লিউপি) প্রতি কেজি বীজে ২.৫ গ্রাম হারে মিশিয়ে শোধন করতে হবে
  • বেগুন পরিবারের সব্জি বাদ দিয়ে শস্য পর্যায় অবলম্বন করতে হবে
  • এই ছত্রাকটি আক্রান্ত গাছের পরিত্যক্ত অংশসমূহে বছরের পর বছর বেঁচে থাকে, তাই আক্রান্ত গাছ, ঝড়ে পরা পাতা, ডালপালা একত্র করে পুড়িয়ে ধ্বংস করে ফেলতে হবে।
  • কার্বেন্ডাজিম (অটোস্টিন) প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম বা প্রোপিকোনাজোল (টিল্ট ২৫০ ইসি) প্রতি লিটার পানিতে ১ মিলি লিটার হারে মিশিয়ে ৭-১০ দিন পর পর ২-৩ বার জমির সব গুলো গাছে স্প্রে করতে হবে।

====================================
লেখক:-উর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা (উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব)
মসলা গবেষণা কেন্দ্র, বিএআরআই
শিবগঞ্জ, বগুড়া।
Mobile No. 01911-762978; 01558-313632; 01673-632486.
E-mail: ;