Friday, 24 November 2017

 

বাঁধাকপি এবং ফুলকপির সুরুই পোকা বা ডায়মন্ড ব্যাক মথ সম্পর্কে জানুন

এগ্রিলাইফ২৪ ডটকম:বাঁধাকপি এবং ফুলকপি রবি মৌসুমের অন্যতম অর্থকরী এবং জনপ্রিয় সবজি। দেশের সবজি চাষীদের জন্য এটি আর্থিক সচ্ছলতার অন্যতম একটি উৎস। খাদ্যমানের দিক দিয়েও বাঁধাকপি বা ফুলকপি অত্যন্ত পুষ্টিকর সবজি। তাছাড়া বিভিন্ন উপাদেয় রেসিপির কারণে ভোক্তাদের কাছে এ সবজিটি অত্যন্ত প্রিয়। এর ফলে যেমন এসময় সবজিটির চাহিদা বাড়ে তেমনি এর চাষের বিস্তৃতিও উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে।

তবে এটি চাষে সবজি চাষীদের যে বিষয়টি বেশ ভাবিয়ে তোলে  তা হলো কপির সুরুই পোকা বা ডায়মন্ড ব্যাক মথ। এ পোকা বাঁধাকপি ও ফুলকপি ফসল ব্যাপকভাবে নষ্ট করে ফেলে। অধিকাং সময়ই এ পোকা দমনের জন্য কৃষকেরা তাদের জমিতে অনিয়ন্ত্রিতভাবে এবং অধিকহারে বিষাক্ত রাসায়নিক কীটনাশকের অপপ্রয়োগ করছে। ফলে বিষাক্ত কীটনাশকের অপব্যবহার একদিকে যেমন ব্যবহারকারী কৃষক এবং ভোক্তার স্বাস্থের জন্য হুমকি সৃষ্টি করার পাশাপাশি পরিবেশও দষণ হচ্ছে। এ ছাড়া অধিকহারে কীটনাশক অপপ্রয়োগের ফলে এ পোকা কীটনাশক প্রতিরোধী হয়ে পড়েছে, ফলশ্রুতিতে তা দমন করা প্রায় অসাধ্য হয়ে পড়েছে।

আসুন এক নজরে জেনে নেই কপির সুরুই পোকা বা ডায়মন্ড ব্যাক মথের বিস্থারিত
এর বৈজ্ঞানিক নাম: Plutella xylostela (Linn), পরিবার: Plutellidae, বর্গ: Lepidoptera

পোকার ধরন :
পূর্ণাঙ্গ মথ ধূসর বাদামী বা ছাই রঙের এবং ৯-১৪ মিমি (প্রায় আধা ইঞ্চি) পর্যন্ত লম্বা হয়। পূর্ণাঙ্গ মথের বসা অবস্থায় পিঠের দিকে পাখার উপর ডায়মন্ড বা হরতনের মত হলদেটে সাদা দাগ দেখা যায়। ডিম সাদাটে হলুদ, খুবই ছোট এবং পাতার সাথে লাগানো থাকে।  সদ্য ফোঁটা কীড়া খুবই ছোট, সবুজ এবং মাথা হালকা বাদামী বর্ণের। কোন কারনে পাতার উপর থেকে নীচে পড়ে গেলে এরা মাকড়সার মত সিল্কের সুতা ছেড়ে নিচে নামতে থাকে। পাতার উপর রেশমী কোকুনের মধ্যে পুত্তলিতে পরিণত হয়।

ক্ষতির প্রকৃতি:
পাতার উপরের ত্বক বা সবুজ অংশ কুরে কুরে খাওয়ার ফলে সেসব অংশ ঝাঁঝরা হয়ে যায়। আক্রান্ত পাতা সবুজ রং বিহীন ও জালের মত দেখায়। কচি গাছের বর্ধনশীল অংশে এ পোকার আক্রমন বেশি পরিলক্ষিত হয়। আক্রান্ত কপি খাওয়ার অনুপযুক্ত হয়ে পড়ে এবং ব্যাপক আক্রমণে পাতা শুকিয়ে মরে যায়।

পোকার আক্রমণের পূর্বে করণীয়ঃ
আগাম বীজ বপন করা;
২. সুষম সার ব্যবহার করা;
৩. সঠিক দুরত্বে চারা রোপন করা;
৪. কপি ক্ষেতের আশে পাশের কপি জাতীয় আগাছা ধ্বংস করা যাতে প্রথম বংশ জন্মলাভ না করতে পারে।

পোকার আক্রমণের পরে করণীয়ঃ
১. যেহেতু পোকার কীড়া প্রথম দিকে দলবদ্ধ অবস্থায় থাকে সেজন্য প্রতিটি গাছ যত্ন নিয়ে দেখলেই পাতায় কীড়াসহ গাছ থেকে ছিড়ে নিয়ে পা দিয়ে পিষে মেরে ফেলতে হবে এবং ছড়িযে পড়া বড় কীড়াগুলোকে ধরে ধরে মেরে ফেলতে হবে । এভাবে অতি সহজেই এ পোকা দমন করা যায়;
২. চারা লাগানোর এক সপ্তাহের মধ্যেই জমিতে ফেরোমন ফাঁদ পাততে হবে।
৩. ফেরোমন ফাঁদ পাতার পরও যদি আক্রমণের চিহ্ন পরিলক্ষিত হয় তবে জৈব বালাইনাশক এসএনপিভি প্রতি লিটার পানিতে ০.২ গ্রাম হারে মিশিয়ে ১০-১২ দিন পর পর ২-৩ বার স্প্রে করতে হবে।
৪. প্রতি সপ্তাহে একবার করে কীড়া নষ্টকারী পরজীবী পোকা, ব্রাকন হেবিটর পর্যায়ক্রমিকভাবে মুক্তায়িত করলে এ পোকার আক্রমণের হার অনেকাংশে কমে যায় এবং প্রতি লিটার পানিতে ৪ মিলি লিটার হিসাবে উদ্ভিদজাত কীটনাশক যেমন নিমবিসিডিন ছিটানো।
৫. আক্রমণ বেশি হলে স্পর্শ বিষ যেমন সাইপারমেথ্রিন জাতীয় কীটনাশক প্রতি লিটার পানির সাথে ১ মিলি হারে মিশিযে ১৫ দিন অন্তর ২-৩ বার গাছে স্প্রে করতে হবে; অথবা
৬. সাইপারমেথ্রিন+ক্লোরোপাইরিফস গ্রুপের কীটনাশক প্রতি লিটার পানিতে ১ মিলি হারে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে।
বিঃ দ্রঃ প্রয়োজনে আপনার নিকটস্থ কৃষি কর্মকর্তা অথবা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করুন। স্প্রে করার পর ১৫ দিনের মধ্যে সেই সবজি খাবেন না বা বিক্রি করবেন না।