Thursday, 14 December 2017

 

বেগুনের Bacterial wilt রোগের বিস্তারিত

ড. কে, এম, খালেকুজ্জামান: কৃষি অর্থনীতিতে বেগুনের অবদান ব্যাপক। তাই সবজি চাষীরা এটি চাষে সবসময় উৎসাহিত বোধ করেন। তবে বেগুনের নানা ধরনের রোগবালাই মাঝে-মধ্যেই তাদের কাছে চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বেগুনের রোগের ধারাবাহিক বর্ণনায় আজ রয়েছে বেগুনের ব্যাকটেরিয়া ঢলে পড়া (Bacterial wilt) রোগের বিস্তারিত।

রোগের কারণ: রাল্সটোনিয়া সোলানেসিয়ারাম (Ralstonia solanacearum) নামক ব্যাকটেরিয়া দ্বারা হয়ে থাকে।

রোগের বিস্তার:
এটি মাটিবাহিত রোগ, কৃষি যন্ত্রপাতি, আক্রান্ত চারা ও সেচের পানি দ্বারা দ্রুত রোগ ছড়ায়। ব্যাকটেরিয়া ৩৫-৩৭ ডিগ্রি সেঃ তাপমাত্রায় উপযুক্তভাবে বিকাশ লাভ করে। মাটির পিএইচ ৭.৪ এবং ৩৭ সেঃ তাপমাত্রায় ব্যাকটেরিয়া সব চেয়ে বেশী আক্রমন ঘটায়।

রোগের লক্ষন:

  • গাছের যে কোন বয়সে রোগটি দেখা যায়।
  • আক্রান্ত গাছের পাতা ও ডাটা খুর দ্রুত ঢলে পড়ে
  • আক্রান্ত গাছ বিকালের দিকে ঢলে পড়ে আবার সকালের দিকে সতেজ হয়
  • এভাবে ৩-৪ দিন পর সকালেও সতেজ হয় না এবং গাছ সবুজ অবস্থাতেই ঢলে পড়ে ও মরে যায়
  • গাছ মরার পূর্ব পর্যন্ত পাতায় কোন প্রকার দাগ পড়ে না
  • কান্ডের নিম্নাংশ চিরলে উহার মজ্জার মধ্যে কালো রং-এর দাগ দেখা যায় এবং চাপ দিলে উহা হতে ধূসর বর্নের তরল আঠাল পদার্থ বের হয়ে আসে। এই তরল পদার্থে অসংখ্য ব্যাকটেরিয়া থাকে
  • আক্রান্ত গাছের ডাল বা গোড়া কেটে গ্লাসে পরিস্কার পানিতে রাখলে দুধের মত সাদা সুতার মত ব্যাটেরিয়াল ওজ বের হয়ে আসে।

প্রতিকার:

  • সুস্থ চারা সংগ্রহ করতে হবে।
  • রোগ প্রতিরোধী জাত যেমন- বারি বেগুন ৬, বারি বেগুন ৭, বারি বেগুন ৮ চাষ করতে হবে
  • বুনো বেগুন গাছের কান্ডের সাথে কাংখিত জাতের বেগুনের জোড় কলম করতে হবে
  • শস্য পর্যায়ে বাদাম, সরিষা, ভূট্টা ইত্যাদি ফসল চাষ করতে হবে
  • জমিতে সর্বশেষ চাষের পূর্বে স্টেবল ব্লি¬চিং পাউডার (২০-২৫ কেজি/হেক্টর হারে) মাটিতে মিশানোর সাথে সাথেই হালকা সেচ এর ব্যবস্থা করতে হবে
  • ঢলে পড়া চারা বা গাছ দেখা মাত্র মাটি সহ তুলে ধ্বংস করতে হবে
  • জমিতে পরিমিত সেচ দিতে হবে। বেগুনের জমি স্যাঁতস্যাঁতে রাখা যাবে না
  • শিকড় গিট কৃমি দমন করতে হবে কারণ ইহারা ছত্রাকের অনুপ্রবেশে সাহায্য করে
  • ট্রাই ব্যাসিক কপার সালফেট (কিউপ্রোক্স্যাট ৩৪৫ এসসি) ১ লিটার পানিতে ৫ মিলি হারে মিশিয়ে ৭ দিন পর পর ২-৩ বার জমিতে গাছের গোড়ায় স্প্রে করতে হবে
  • ব্যাকটেরিয়া নাশক স্ট্রেপ্টোমাইসিন সালফেট + টেট্রাসাইক্লিন হাইড্রোক্লোরাইড (ক্রোসিন-এজি ১০ এসপি) প্রতি লিটার পানিতে ০.৮ গ্রাম হারে মিশিয়ে ৭ দিন পর পর ২-৩ বার জমিতে গাছের গোড়ায় স্প্রে করতে হবে।

বি:দ্র: ক্রোসিন-এজি ১০ এসপি ও কিউপ্রোক্স্যাট ৩৪৫ এসসি ঔষধ দুইটি পর্যায়ক্রমে একটা ব্যবহার করার পর আরেকটি ব্যবহার করতে হবে।
====================================
লেখক:-উর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা (উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব)
মসলা গবেষণা কেন্দ্র, বিএআরআই
শিবগঞ্জ, বগুড়া।
Mobile No. 01911-762978; 01558-313632; 01673-632486.
E-mail: ;