Wednesday, 23 May 2018

 

তীব্র শীতে ফসল রক্ষায় কৃষক ভাইদের করণীয়

সমকারীন কৃষি:চলছে রবি মৌসুম। শীতকালীন এ মৌসুমে রবি শস্যসহ বিভিন্ন ফসল চাষাবাদ করতে কৃষক ভাইয়েরা কুয়াশা ও অতিরিক্ত শীতের সম্মুখীন হচ্ছেন। আর এসব থেকে রক্ষা পেতে কৃষক ভাইদের পরামর্শ দিয়েছে কৃষি তথ্য সার্ভিস।

বোরো ধান :
*সাধারণভাবে বীজতলায় ১ থেকে ২ ইঞ্চি পানি ধরে রাখতে হবে এবং স্বচ্ছ পলিথিনের ছাউনি দিয়ে বীজতলা ঢেকে রাখা দরকার।
*শৈতপ্রবাহের সময় বীজতলা স্বচ্ছ পলিথিন দিয়ে সকাল ১০-১১ টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ঢেকে রাখতে হবে। বীজতলার পানি সকালে বের করে দিয়ে আবার নতুন পানি দিতে হবে। প্রতিদিন সকালে রশি টানা দিয়ে চারা থেকে কুয়াশার পানি ফেলে দেয়া প্রয়োজন।
*ঠান্ডার কারণে চারায় ধসে পড়া রোগ দেখা দিলে বীজতলা থেকে পানি সরিয়ে দিতে হবে।
*চারা রোপণের সময় শৈতপ্রবাহ থাকলে কয়েক দিন দেরি করে চারা রোপণ করা প্রয়োজন ।
*রোপণের জন্য কমপক্ষে ৩৫-৪৫ দিনের চারা ব্যবহার করতে হবে। এ বয়সের চারা রোপণ করলে শীতে চারা কম মারা যায়, চারা সতেজ থাকে এবং ফলন বেশি হয়।
*থোড় ও ফুল ফোটার সময় অতিরিক্ত ঠান্ডা আবহাওয়া থাকলে জমিতে ২-৩ ইঞ্চি পানি ধরে রাখলে থোড় সহজে বের হয় এবং চিটার পরিমান কম হয়।
*ঠান্ডা সহনশীল জাত যেমন- ব্রি ধান৩৬, ব্রি ধান৫৫ চাষ করলে বেশি ঠান্ডায় চারা কম মারা যায়।

আলু ও টমেটো :
*ঘন কুয়াশার কারণে আলু ও টমেটো ফসলে লেইট ব্লাইট (মড়ক রোগ) রোগের আক্রমণ হতে পারে। এ ধরনের আবহাওয়ায় আলু ও টমেটো ফসলে  প্রতিরোধক হিসেবে বর্দোমিক্সচার অথবা ম্যানকোজেব জাতীয় ছত্রাকনাশক প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম হারে ৭ দিন পর পর স্প্রে করতে হবে।
*এ রোগের আক্রমণ দেখা দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে আক্রান্ত গাছ তুলে মাটি চাপা দিতে হবে বা পুড়িয়ে ফেলতে হবে এবং জমিতে সেচ দেয়া বন্ধ রাখতে হবে।  তাছাড়া উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ মোতাবেক জমিতে ছত্রাকনাশক স্প্রে করতে হবে।

সরিষা ও শিম :
*সরিষা ও শিম গাছে জাবপোকার আক্রমণ দেখা দিলে আধাভাঙ্গা নিম বীজের পানি (১ লিটার পানিতে ৫০ গ্রাম নিম বীজ ভেঙ্গে ১২ ঘন্টা ভিজিয়ে রেখে ছেঁকে নিতে হবে) আক্রান্ত গাছে ৭-১০ দিন পর পর স্প্রে করতে হবে। তবে আক্রমণের মাত্রা খুব বেশি হলে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ মোতাবেক কীটনাশক স্প্রে করতে হবে।

আমের মুকুল:
*ঘন কুয়াশার কারণে আম গাছের মুকুল নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ রকম আবহাওয়ায় প্রতিরোধক হিসেবে বর্দোমিক্সার অথবা সালফার জাতীয় ছত্রাকনাশক প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম হারে প্রয়োগ করতে হবে। এছাড়া এ সময় শোষক পোকার (হপার) আক্রমণ বেশি হতে পারে। সেজন্য উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ মোতাবেক কীটনাশক স্প্রে করতে হবে।

পানের পাতা ঝরা:
*তীব্র শীতের কারণে অনেক সময় পানের পাতা ঝরে যেতে পারে। পানের বরজের চারপাশে পলিথিন দিয়ে ঢেকে দিলে তীব্র শীতের হাত হতে রক্ষা করা যায়।

রবি মৌসুমের বিভিন্ন ফসল উৎপাদনে ডিএপিসহ অন্যান্য রাসায়নিক সার সুষম মাত্রায় ব্যবহার করলে বেশি ঠান্ডা থেকে ফসল রক্ষা পায় এবং ফলন বেশি পাওয়া যায়।