Tuesday, 22 May 2018

 

পেয়ারার এ্যানথ্রাকনোজ রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার

ড. কে, এম, খালেকুজ্জামান: বাংলাদেশের প্রায় সর্বত্রই পেয়ারার চাষ হয়ে থাকে। বানিজ্যিক ভিত্তিতে এখন পেয়ারার চাষ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। আগে কেবল বর্ষা মৌসুমে পেয়ারার দেখা মিলতো বর্তমানে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির কল্যানে এখন সারাবছরই মিলছে পেয়ারার স্বাদ। বিশেষ করে শীত মৌসুমে এ পেয়ারা ফলিয়ে লাভবান হচ্ছেন পেয়ারা চাষী ও বাগান মালিকরা।

বানিজ্যিকভিত্তিতে পেয়ারা চাষ করতে হলে উদ্যোক্তাদের পেয়ারা চাষের খুটিনাটি বিষয়গুলি ছাড়াও এর রোগ সম্পর্কে জানা থাকলে চাষীরা পেয়ারা চাষে সফল হতে পারবেন। এগ্রিলাইফ২৪ ডটকমের পাঠকদের জন্য পেয়ারার ধারাবাহিক রোগ সম্পর্কে লিখেছেন বিশিষ্ট এ উদ্ভিদ বিজ্ঞানী। আজ থাকছে পেয়ারার ফোস্কা বা এ্যানথ্রাকনোজ (Anthracnose) রোগ।

রোগের কারণ: কলেটোট্রিকাম সিডি (Colletotrichum psidii) নামক ছত্রাকের আক্রমণে এ রোগ হয়ে থাকে।

রোগের বিস্তার:গাছের পরিত্যক্ত শাখা প্রশাখা, ফল এবং পাতায় এ রোগের জীবানু বেঁচে থাকে এবং বর্ষাকালে ব্যাপক আকারে বীজকণা (কনিডিয়া) উৎপন্ন করে। বাতাস এবং বৃষ্টির মাধ্যমে এ সব বীজকণা দ্রুত বিস্তার লাভ করে নতুন নতুন আক্রমণের সূচনা করে। মাটিতে পটামিয়ামের অভাব থাকলে এ রোগের প্রাদুর্ভাব বেশী হয়।

রোগের লক্ষন:

  • রোগের জীবানু পেয়ারা গাছের পাতা, কান্ড, শাখা-প্রশাখা, কুঁড়ি ও ফলে আক্রমণ করে থাকে।
  • কচি ফলের উপর বাদামী রঙের ছোট ছোট দাগ পড়ে যা ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকে
  • ফল বৃদ্ধির সাথে সাথে দাগ বাড়তে থাকে এবং ফোস্কা ধরণের বড় কালো ক্ষতের সৃষ্টি করে
  • আক্রান্ত ফল পরিপক্ক হলে শাঁস শক্ত হয়ে যায়
  • কোন কোন সময় ফলের ত্বক ফেটে যায়
  • সংগ্রহোত্তর পেয়ারা আক্রান্ত হলে তাড়াতাড়ি পঁচে যায়।

রোগের প্রতিকার: 

  • গাছের নীচে পড়ে থাকা মরাপাতাসহ যাবতীয় পরিত্যক্ত অংশ কিছুদিন পর পর সংগ্রহ করে পুড়ে ফেলতে হবে।
  • মাটিতে পটামিয়ামের অভাব থাকলে এ রোগের প্রাদুর্ভাব বেশী হয়। তাই প্রতি গাছের গোড়ায় ৫০ গ্রাম পটাসিয়াম সালফেট মাটির সাথে মিশিয়ে দেয়া যেতে পারে
  • পেয়ারা সংগ্রহের পর ফাটা, কাটা, ক্ষত পেয়ারা সরিয়ে ফেলতে হবে
  • গাছে মুকুল আসার পর কিন্তু ফুল ফোটার পূর্বে প্রোপিকোনাজোল (যেমন-টিল্ট ২৫০ ইসি) প্রতি লিটার পানিতে ০.৫ মিলিলিটার হারে মিশিয়ে গাছের পাতা, মুকুল ও ডালপালা ভালভাবে ভিজিয়ে একবার স্প্রে করতে হবে। আবার পেয়ারা গুটি বা মার্বেল আকার ধারণ করলে উপরোক্ত ঔষধ ১০-১৫ দিন পর পর আরও কমপক্ষে ২ বার স্প্রে করতে হবে।  

==================================
লেখক:-উর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা (উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব)
মসলা গবেষণা কেন্দ্র, বিএআরআই
শিবগঞ্জ, বগুড়া।
Mobile No. 01911-762978; 01558-313632; 01673-632486.
E-mail: ;