Wednesday, 26 September 2018

 

কাঁঠালের পিংক (Pink) রোগ দমনে করণীয়

ড. কে, এম, খালেকুজ্জামান: কাঁঠাল গাছে পরিচর্যার পাশাপাশি বাগানের রোগ-বালাই ব্যবস্থাপনা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সময়মতো সঠিক ব্যবস্থা না নিলে কাঁঠালের ফলনে ঘটতে পারে বিপর্যয়। কাজেই কাঁঠালের উৎপাদন বৃদ্ধিতে রোগ সম্পর্কেও জানা থাকা বিশেষ প্রয়োজন। এগ্রিলাইফ২৪ ডটকমের সম্মানিত পাঠকদের জন্য আজ থাকছে কাঁঠালের পিংক (Pink) রোগের বিস্তারিত।

বোট্রাইওব্যাসিডিয়াম সালমনিকালার (Botryobasidium salmonicolor) নামক ছত্রাকের আক্রমণে এ রোগ হয়ে থাকে। রোগ জীবাণুর কনিডিয়া বাতাসের মাধ্যমে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে বিস্তৃতি লাভ করে এবং গাছে সংক্রমণ করে।

রোগের লক্ষন:

  • কচি শাখা প্রশাখার গোড়ায় প্রথমে পীত বর্ণের হালকা আবরণের সৃষ্টি হয়।
  • এই আবরণটি একটি নির্দিষ্ট জায়গার চারিদিকে বিস্তৃতি লাভ করে।
  • তবে আবরণের বিস্তৃতি শাখার যে অংশে ছায়া থাকে সে দিকে বেশী হয়ে থাকে।
  • আক্রান্ত স্থানের বাকল পঁচে যায় এবং পরবর্তীতে ঐ স্থানের পরিবহণ কলা নষ্ট হয়ে যায়।
  • ফলে পানি ও খাদ্যদ্রব্য উপরের অংশে পৌছতে পারে না।
  • পানির অভাবে শাখার পাতা নেতিয়ে পড়ে এবং ঝরে পড়ে।
  • শাখার আগার দিক থেকে মরা শুরু হয় এবং আক্রান্ত স্থান পর্যন্ত পুরো শাখাটি মরে যায়।

রোগের প্রতিকার:

  • বাগান পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।
  • আক্রান্ত স্থান চাকু দ্বারা চেঁছে উহার পঁচা কোষ বা কলা ও ছত্রাকের অংশ পরিস্কার করতে হবে। তারপর উক্ত স্থানে বর্দোপেস্ট বা আলকাতরা বা পোড়া মবিল লাগাতে হবে।
  • গাছের শাখা যদি পূরোপূরি মরে গিয়ে থাকে তবে আক্রান্ত স্থানের ৫-৬ সেমি. নীচে শাখাটি কেটে পুড়ে ফেলতে হবে এবং কাটা অংশে বর্দোপেস্ট (প্রতি লিটার পানিতে ১০০ গ্রাম তুঁতে ও ১০০ গ্রাম চুন) লাগাতে হবে।

========================
লেখক:-উর্ধতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা (উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব)
মসলা গবেষণা কেন্দ্র, বিএআরআই
শিবগঞ্জ, বগুড়া।
Mobile No. 01911-762978; 01558-313632; 01673-632486.
E-mail: ;