Monday, 25 June 2018

 

ব্রিডিং বাজেরিগারের পরিচর্যা

ডা: মো: সাদ্দাম হোসেন, ডিভিএম (সিভাসু):পোষা পাখি পালন বর্তমানে আর শখের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এখন বিভিন্ন খামারিরা বানিজ্যকভাবে বাজেরিগার পাখির খামার করছেন যাহা তাদের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করছে এবং পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

বাজেরিগার পাখি খামার করার জন্য খুবই উপযুক্ত একটি জাত। বাংলাদেশের পরিবেশে এরা স্বাবলিল ভাবে বাঁচতে পারে এবং বংশবৃদ্ধি করতে পারে। একটি ভাল জাতের বাজেরিগার পাখি পূর্ণ বয়স্ক হতে ৬-৭ মাস সময় লাগে এবং ৮-৯ মাস বয়সে পরিপূর্ণ ডিম ও বাচ্চা উৎপাদনে সক্ষমতা অর্জন করে। পূর্ণ বয়স্ক একটি মেয়ে বাজেরিগার ৬-৭ টি ডিম দেয় যা মেয়ে-পুরুষ উভয় তাপ প্রদানের মাধ্যমে ১৮ দিনে বাচ্চা উৎপাদন করে থাকে। ডিম প্রদান থেকে শুরু করে বাচ্চা উৎপাদন এর সময়টাতে বাজেরিগার পাখিকে আলাদা যত্নের প্রয়োজন হয়। ডিম দেওয়ার ৭-১০ দিন পূর্ব থেকে বাচ্চার ১ মাস পূর্ণ হওয়ার আগ পর্যন্ত পাখিদ্বয়কে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাসের পরিমাণ বাড়াতে হয় খাদ্যের মাধ্যমে অথবা পানির সাথে Calplex ব্যবহারের মাধ্যমে। এছাড়া ভিটামিন ই ও সেলেনিয়াম প্রয়োগ করতে হবে। পাখির খাদ্যে আমিষ, শর্করা জাতীয় খাদ্যের পরিমাণ বাড়াতে হবে এবং চর্বি জাতীয় খাদ্যের পরিমাণ কমাতে হবে। ব্রিডিং সময়ে গুজি তিল ও তিশির পরিমাণ কমিয়ে শাকসবজির পরিমাণ বাড়াতে হবে।

ব্রিডিং বাজেরিগারের খাদ্য তালিকা: ১০ কেজি খাদ্য
চিনা-৪.৫ কেজি
কাউন- ৩ কেজি
পোলাও ধান- ০.৫ কেজি
গুজি তিল -২৫০ গ্রাম
তিশি-২৫০ গ্রাম
মিলেট- ১ কেজি
ক্যানারি-০.৫ কেজি
শাকসবজি- পরিমাণ মত সপ্তাহে ৩ দিন।

পাখিকে যত্ন নিলে ভাল বাচ্চা পাবেন এবং লাভজনক খামার করতে পারবেন। একবার বাচ্চা দেওয়ার পর ১৫-২০ দিন বিশ্রামে দিবেন।
============================
কনসালটেন্ট (পোষা পাখি, কবুতর, টার্কি)
০১৭০৮৫২৬৮৪৪