Monday, 25 June 2018

 

লিচুর আগা মরা, পাতা ঝলসানো ও ফল পঁচা রোগের বিস্তারিত

ড. কে, এম, খালেকুজ্জামান: কৃষি অর্থনীতিতে লিচু একটি উল্লখযোগ্য স্থান দখল করে আছে। দেশের কৃষকরা অন্যান্য ফসলের তুলনায় লিচু চাষ করে করে একটি ভালো মুনাফা রে তুলতে পারেন। আর এ জন্য তাদেরকে নানা পরিচর্যার পাশাপাশি রোগ-বালাই সম্পর্কে বাড়তি সচেতনতা নেওয়া প্রয়োজন। এগ্রিলাইফ২৪ ডটকমের সম্মানিত পাঠকদের জন্য আজ থাকছে লিচুর আগা মরা, পাতা ঝলসানো ও ফল পঁচা (Die back/Anthracnose) রোগের বিস্তারিত।

কোলেটোট্রিকাম গ্লোওস্পোরোয়ডিস (Colletotrichum gloeosporioides)  নামক ছত্রাকের আক্রমণে এ রোগ হয়ে থাকে। আর্দ্র ও বৃষ্টিপাতযুক্ত আবহাওয়ায় রোগের প্রকোপ বেড়ে যায় ও দ্রুত পঁচন ঘটায়। রোগাক্রান্ত ডালপালা ও পাতা থেকে পানি ও বাতাসের মাধ্যমে এ রোগ ছড়ায়।

রোগের লক্ষণ:

  • গাছের আগার কঁচি পাতার মাঝখানে ফ্যাকাশে বাদামী দাগ পড়ে।
  • পাতা দ্রুত মারা যায়, শুকিয়ে যায় ও হলুদ হয়ে ঝরে পড়ে
  • চারার আগার অংশ মরে নীচের দিকে শুকিয়ে আসতে থাকে
  • অধিক আক্রান্ত চারা বা কলম পরিশেষে আগা শুকিয়ে মারা যায়
  • বয়স্ক পাতা প্রান্ত বা আগা থেকে মাঝখানের দিকে ক্রমশ শুকিয়ে আসতে থাকে
  • রোগের আক্রমণে প্রথমে ফল-এর উপর বৃত্তাকার ছোট কালো ধরণের পানিভেজা দাগের সৃষ্টি হয়
  • পাকা ফল-এর দাগ থেকে রস ঝরে এবং গন্ধ বের হয়
  • আক্রান্ত ফলের বাজার দর কমে যায়
  • বেশী আক্রান্ত ফল নষ্ট হয়ে খাওয়ার অনুপযুক্ত হয়ে যায়।

রোগের প্রতিকার:

  • আগা মরা অংশ কেটে পুড়ে ফেলতে হবে
  • গাছের নীচে পরিত্যক্ত মরা পাতা, ফল ও আগাছা সংগ্রহ করেও পুড়ে ফেলতে হবে
  • লিচু বাগান পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে
  • ১০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রায় ফল গুদামজাত করতে হবে
  • ফল সংগ্রহ, প্যাকেজিং, পরিবহন ও বাজার জাত করার সময় আক্রান্ত ফল বেছে বাদ দিতে হবে
  • ফল গাছে থাকা অবস্থায় প্রোপিকোনাজোল (যেমন-টিল্ট ২৫০ ইসি) প্রতি লিটার পানিতে ০.৫ মিলি হারে মিশিয়ে ৭-১০ দিন পর পর স্প্রে করতে হবে।

========================================
লেখক:-উর্ধতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা (উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব)
মসলা গবেষণা কেন্দ্র, বিএআরআই
শিবগঞ্জ, বগুড়া।
Mobile No. 01911-762978; 01558-313632; 01673-632486.
E-mail: ;