Monday, 23 July 2018

 

আমের আঠা ঝরা (Gummosis) রোগ

ড. কে, এম, খালেকুজ্জামান: আমের আঠা ঝরা (Gummosis) রোগটি ল্যাসিওডিপ্লোডিয়া থিওব্রোমি (Lasiodiplodia theobromae) নামক ছত্রাকের আক্রমণে হয়ে থাকে। বর্ষাকালে রোগের প্রকোপ বেড়ে যায়। বাতাস, পানি ও পোকামাকড় দ্বারা এ রোগ ছড়ায়।

রোগের লক্ষন:

  • এ রোগটি ছোট বড় সব গাছেই আক্রমণ করে।
  • ক্রান্ত গাছের কান্ড বা শাখা-প্রশাখার বাকলে ফাটল ধরে
  • গাছের কান্ড বা শাখা-প্রশাখার কিছু কিছু জায়গা থেকে ক্ষুদ্র বিন্দুর মত হালকা বাদামী থেকে গাঢ় বাদামী বা কালো রঙের আঠা বা রস বের হতে থাকে
  • আক্রমণ বাড়ার সাথে সাথে কান্ড, ছোট অথবা বড় শাখা-প্রশাখার বিভিন্ন স্থান থেকে বেশী পরিমানে আঠা জাতীয় তরল পদার্থ নিঃসৃত হয়
  • কোন কোন সময় গাছের গুড়ি থেকেও আঠা বের হতে দেখা যায়
  • আক্রান্ত ডগা ও ডাল মারা যায়
  • মারাত্মকভাবে আক্রান্ত গাছ অল্প দিনেই মারা যায়
  • বয়স্ক গাছ (৫০ বছরের উর্ধ্বে) আক্রান্ত হলে ৩-৬ মাসের মধ্যেই মারা যায়।

রোগের প্রতিকার:

  • মরা রোগাক্রান্ত ডালপালা নিয়মিত ছাটাই করতে হবে।
  • গাছের গোড়া থেকে ১ মিটার দূরত্বে একটি গোলাকার গর্ত তৈরী করে তাতে এক সপ্তাহ পর পর কার্বেন্ডাজিম (যেমন-অটোস্টিন) প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম হারে মিশিয়ে প্রয়োগ করতে হবে
  • আক্রান্ত স্থান চেঁছে ফেলে দিয়ে সেই স্থানে বর্দোপেস্ট (প্রতি লিটার পানিতে ১০০ গ্রাম তুঁতে ও ১০০ গ্রাম চুন) লাগাতে হবে
  • রোগ দেখা মাত্রই কার্বেন্ডাজিম গ্রুপের ছত্রাকনাশক (যেমন-অটোস্টিন) প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম এক সপ্তাহ পর পর আক্রান্ত অংশে স্প্রে করতে হবে।

====================================
লেখক:-উর্ধতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা (উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব)
মসলা গবেষণা কেন্দ্র, বিএআরআই
শিবগঞ্জ, বগুড়া।
Mobile No. 01911-762978; 01558-313632; 01673-632486.
E-mail: ;