Friday, 15 December 2017

 

ভূঞাপুরে দুই মৎস্য ব্যবসায়ীর মাথায় হাত-বন্যায় ভেসে গেছে কোটি টাকার মাছ

এ কিউ রাসেল, গোপালপুর (টাঙ্গাইল):দুই মৎস্য ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান আক্তার ও ইউসুফ আলি সরকার। মাছ চাষের উদ্দ্যেশেএ বছর বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ১৪টি পুকুর ইজারা নেন তারা। ভূঞাপুর-বঙ্গবন্ধুসেতু সড়কের কন্ট্রাক্ট-৭ বাঁধের পশ্চিম পাশ দিয়ে এ পুকুরগুলো অবস্থিত। সেতু কর্তৃপক্ষের তালিকা অনুযায়ী এক থেকে সাত নম্বর পুকুর ৯লাখ টাকায় ইজারা নেন গোবিন্দাসী ইউনিয়নের গোবিন্দাসী গ্রামের ইউসুফ আলী সরকার ও আট থেকে ১৪নম্বর পুকুর ২৫ লাখ টাকায় ইজারা নেন একই ইউনিয়নের স্থলকাশী গ্রামের মিজানুর রহমান আক্তার।

 

এরা দু’জনই ব্যাংক ও এনজিও থেকে লোন এবং ধার করে সকল অর্থই ব্যয় করেছেন পুকুরের পিছনে। কিন্তু এবারের ভয়াবহ বন্যায় পথে বসে গেছে তারা। তলিয়ে গেছে সব ক’টি পুকুর। ভেসে গেছে প্রায় কোটি টাকার মাছ। পুকুর সংস্কার ও পাড় উঁচু না করা কারনে সামান্য পানিতে ডুবে যায় পুকুর পাড়। আর এবছর যে বন্যা দেখা দিয়েছে তাতে না ডোবার কোন কারণ নেই। এর আগের বছরগুলোতেও বন্যায় ভেসে গেছে মাছ। ইজারাদ্বয়ের পক্ষ থেকে বারবার তাগিদ দেয়া হলেও সেতু কর্তৃপক্ষ পুকুর সংস্কার ও পাড় উঁচু করার কোন পদক্ষেপ গ্রহন করেনি।

মৎস্যচাষি মিজানুর রহমান আক্তার বলেন, ‘এনজিও ও ব্যাংক প্রায় অর্ধকোটি টাকা ইনভেস্ট করেছি ৭টি পুকুরের। সর্বনাশা বন্যায় চোঁখের সামনে সব ভাসিয়ে নিয়ে গেল। আমি এখন পথের ফকির। এই বলে সে হাউমাউ করে কাঁদতে থাকে।’

অপর মৎস্যচাষি ইউসুফ আলি সরকার বলেন, ‘এনজিও থেকে লোন ও ধার করে অনেক কষ্টে ৭টি পুকুর ইজারা নিয়েছি। সব মিলিয়ে খরচ হয়েছে প্রায় ৩০লাখ টাকা। সব কয়টা পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। আমি এখন কোথায় গিয়ে দাাঁড়াবো? মরা ছাড়া আমার আর কোন গতি নেই।’

গোবিন্দাসী ইউপি’র সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আমিনুল ইসলাম আমিন বলেন, ‘এবারের বন্যায় এ মৎস্য ব্যবসায়ীর যে ক্ষতি হয়েছে তা অপূরণীয়। পরবর্তীতে তাদের কমপক্ষে দুই মেয়াদ নামমাত্র মূল্যে ইজারা দেয়া হলে ক্ষতি কিছুটা লাগব হবে।’
ভূঞাপুর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাসুম বিল্লাহ বলেন, ‘আমি বন্যায় ভেসে যাওয়া পুকুরগুলো পরিদর্শণ করেছি। ক্ষতিগ্রস্থদের একটি তালিকা তৈরি করে মন্ত্রনালয়ে পাঠানো হবে।’

বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব সাইট অফিসে কর্মরত উপ-সহকারি প্রকোশলী মো.শাহিন মিঞা বলেন, ‘মিজানুর রহমান আক্তার ও ইউসুফ আলী সরকারের সবক’টি পুকুর তলিয়ে গেছে। আমি বিষয়টি ঢাকা হেড অফিসে মোবাইলের মাধ্যমে জানিয়ে দিয়েছি।’