Saturday, 18 November 2017

 

জাপানের কাগাওয়ায় নবান্ন উৎসব

তাজুল ইসলাম চৌধুরী জাপান থেকে: ধান কাটা শেষে নবান্ন উৎসব আমাদের আবহমান গ্রাম বাংলার প্রতিচ্ছবি। কবে কোথায় এই নবান্ন উৎসবের প্রচলন শুরু হয়েছিল এর সঠিক ইতিহাস জানা না থাকলেও দেশ থেকে দেশান্তরে এর প্রচলন যে বিদ্যমান তা আর বুঝার বাকি থাকলনা জাপানে। পিঠা-পায়েসের মৌ মৌ আয়োজন না থাকলেও ভিন্ন আমেজের বিভিন্ন আয়োজনে জাপানের কাগাওয়াসহ বিভিন্ন অঞ্চলে আয়োজন করা হয় নবান্ন উৎসব বা হারভেস্ট ফেস্টিভল।

জাপানের বিভিন্ন অঞ্চলে মূলত: ধান কাটা শেষে এ আয়োজন হয়ে থাকে কৃষকদের সম্মান জানানোর উদ্দেশ্যে। আর এই আয়োজনের সার্বিক সহযোগিতা করে থাকে স্থানীয় সরকার অথবা কোন সরকারী/বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। গত ৩রা নভেম্বর কাগাওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদে ছিল এ আয়োজন। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত বিভিন্ন সবজি ও ফলের স্টল ছাড়াও ছিল ইন্টারন্যাশনাল শিক্ষার্থীদের আয়োজনে মজাদার খাবারের স্টল। এখানে দিনটির বিশেষত্ব হল নাম মাত্র মূল্যে অথবা বিনামূল্যে বিভিন্ন খাবার ও অন্যান্য কৃষি পন্য সরবরাহ। আর তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ স্থানীয়রা যেন এ দিনটির প্রহর গুনতে থাকে।

প্রতিবারের ন্যায় এবারও কাগাওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা নিজ দেশের সংস্কৃতি আর মজাদার খাবারকে পরিচিত করে তুলার জন্য সুযোগটি লুফে নেয়। এবারের আয়োজনে ছিল চিকেন বিরিয়ানি আর ছোলা-মুড়ির সাথে গরম গরম পিয়াজু। প্রায় ৪০০ জনের জন্য রাতভর চলে রান্না-বান্না। অবশেষে সকাল ১১ টা থেকে খাবার বিতরনের পালা। বাংলাদেশি খাবার খাওয়ার জন্য জাপানীজদের দীর্ঘ লাইন। অবশেষে খাবার হাতে পেয়ে যেন চোখে মুখে তৃপ্তির ঢেকুর (আরিগাটু গোজাইমাস যার বাংলা অর্থ হল ধন্যবাদ)।

কেউ কেউ আবার শুধু বিরিয়ানি খাওয়ার জন্য ২য় বার কিংবা ৩য় বারের জন্যও লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে থাকে। আয়োজন সীমিত থাকায় শেষ দিকে অনেককে খালি হাতে ফেরত দিলেও জাপানীজরা এ বিষয়টিকে স্বাভাবিক মনে করে হাসিমুখেই মেনে নেয়। আর কাউকে কাউকে বলতে শুনা যায় অপেক্ষায় থাকলাম পরের বছরের জন্য। তাই বিরিয়ানি শুধু বাঙ্গালীর নয়, জয় করেছে জাপানীজদেরও মন। আর শুধু খাবারই নয়, বাংগালী নারীদের সাজগোজ ও ছিল জাপানীজদের অন্যতম আকর্ষন। তাই শাড়ী পড়া নারীদের সাথে কেউ কেউ আবার সেল্ফি তুলতে উম্মুখ হয়েছিল।