Sunday, 23 September 2018

 

খাবারের ব্যাপারে মানুষ এখন যথেষ্ট সচেতন-বাকৃবি উপাচার্য

আবুল বাশার মিরাজ, বাকৃবি প্রতিনিধি: এখন মানুষ খাবারের ব্যাপারে যথেষ্ট সচেতন। পোল্ট্রির বৃদ্ধির জন্যে আগে গ্রোথ হরমোন কিংবা আন্টিবায়োটিক প্রদান করা হতো। গ্রোথ হরমোন কিংবা আন্টিবায়োটিক প্রদানকৃত পোল্ট্রির মাংসে মানুষের স্বাস্থ্য ঝুঁকি থাকে। তবে বর্তমানে পোলট্রি খামারীরা নিরাপদ ব্রয়লার ও ডিম উৎপাদনে যথেষ্ট সচেতন। এজন্য প্রাকৃতিকভাবে পোল্ট্রি উৎপাদনের দিকে ঝুঁকছেন খামারীরা যাতে করে মানুষ নির্দ্বিধায় এসব প্রাণিজ প্রোটিন গ্রহনে আরো বেশী আগ্রহী হয়।

রবিবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) পোল্ট্রি বিজ্ঞান বিভাগ এবং এজি এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজের যৌথ উদ্যোগে পশুপালন অনুষদীয় গ্যালারীতে ‘পোল্ট্রির নিরাপদ মাংস উৎপাদন’ বিষয়ক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আলী আকবর এসব কথা বলেন। তিনি আরো বলেন এভাবে পোলট্রি উৎপাদন করলে মানুষের মাঝে পোল্ট্রির চাহিদা আরো বেড়ে যাবে এবং এদেশের প্রোল্ট্রি খাত ভবিষ্যতে আরো এগিয়ে যাবে।

প্রোল্ট্রি বিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মোছাব্বির আহাম্মদের সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জসিমউদ্দিন খান, ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সচ্চিদানন্দ দাস চৌধুরী এবং পশুপালন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আশরাফ আলী।

অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন প্রোল্ট্রি বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সুবাস চন্দ্র দাস। সেমিনারে “Green Chicken : Safe & Healthy Chicken” শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এজি এগ্রো ফুডস লিমিটেডের কনাসালট্যান্ট কৃষিবিদ মো. আখতারুজ্জামান। তিনি তার প্রবন্ধে বলেন, সনাতন ব্যবস্থা অবলম্বনের কারণে ব্রয়লার মুরগীর প্রতি মানুষের চাহিদা দিনকে দিন কমে যাচ্ছে। তিনি তার প্রতিষ্ঠান এজি এগ্রো ফুডস লিমিটেডের উদাহরণ টেনে বলেন, এদিক থেকে এজি এগ্রো ফুডস্ বাংলাদেশে অনন্য উদাহারণ সৃষ্টি করেছে। এ কারণে গ্রীন চিকেন উৎপাদনে ক্ষতিকর রোগবালাই থেকে মুক্ত রাখা সম্ভব হচ্ছে জানান।

তিনি আরো বলেন, ‘সুস্থ, সাবলিলভাবে বেঁচে থাকা, স্বাভাবিক দৈহিক বৃদ্ধি এবং কাঙ্খিত উৎপাদন পেতে মুরগিকে সুষম খাদ্য সরবরাহ করা আবশ্যক। সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বাজারে গ্রীন চিকেন ও মুরগীজাত পণ্য বাজারজাত করছে তার প্রতিষ্ঠানটি, এ কারণে সঠিক পুষ্টিমান নিশ্চিত হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

Green Chicken সম্পর্কে কৃষিবিদ জনাব আখতারুজ্জামান বলেন, অত্যাধুনিক ইউরোপিয়ান প্রযুক্তির প্রসেসিং প্লান্টে গ্রিন চিকেন উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাত এবং বাজারজাতকরনের প্রতিটি ধাপে তারা মেনে চলেছেন ফুড সেফটির আন্তর্জাতিক প্রতিটি নিয়ম। এসময় তিনি চমৎকার পাওয়ার পয়েন্টে প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে Nutritional Value of Raw Chicken, Cooked Chicken meat সম্পর্কে উপস্থাপন করেন। এসময় তিনি Green Chicken Production & processing, packaging, marketing এসব বিষয়ের উপর একটি VDO চিত্র প্রদর্শন করেন।

সেমিনারে কেমিন ইন্ড্রাটিজ সাউথ এশিয়া প্রাইভেট লিমিটেডের প্রডাক্ট ম্যানেজার ড. নরেন্দ্র রেড্ডি বলেন, খাদ্যের ছয়টি পুষ্টি উপাদানের মধ্যে কিছু আছে যেগুলি বেশি পরিমানে লাগে, যেমন-ক্যালসিয়াম, ফসফরাস এবং কিছু আছে কম পরিমানে লাগে যাকে বলে ট্রেস মিনারেল, যেমন কপার, জিংক, ম্যাঙ্গানিজ ইত্যাদি। তিনি বলেন প্রায় সবাই মুরগির জন্য খনিজ বলতে ক্যালসিয়ামকে বোঝেন তবে মুরগির খাদ্য তৈরি বা খাওয়ানোর সময় অন্যান্য খনিজগুলির প্রয়োজনীয়তার কথা বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।

সেমিনারে কোম্পানিটির মহাব্যবস্থাপক (বিপণন) এ এম এম নুরুল আলম সেমিনারে আগতদের তাদের কোম্পানীর লক্ষ ও উদ্দেশ্য তুলে ধরে তাঁর বক্তব্যে প্রদান করেন। নিরাপদ পোলট্রি সম্পর্কে সচেতন করে তোলার পাশাপাশি
এসব বিষয়গুলি এখানের শিক্ষার্থিরা পরবর্ত্তীতে পেশাগত জীবনে সম্পৃক্ত করবেন এমনটাই আশা করেন তিনি।

উপস্থিত শিক্ষার্থিদের কয়েকজন এ ধরনের সেমিনারের মাধ্যমে তাদেরকে Green Chicken সম্পর্কে ধারনা দেওয়ায় এজি এগ্রো ফুডস লিমিটেডের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।

সেমিনারে প্রোল্ট্রি বিজ্ঞান বিভাগ ও অনুষদের অন্যান্য বিভাগের সম্মানিত শিক্ষকবৃন্দ, এজি ফুডস্ এর সহকারি মহাব্যবস্থাপক (বিপণন) মোঃ রফিকুল আলম খান (জিমি), কোম্পানী উর্ধতন কর্মকর্তবৃন্দসহ বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী অংশগ্রহন করেন।