Thursday, 14 December 2017

 

ভার্মি কম্পোষ্ট সার উৎপাদন করে রাণীনগরে সফলতার স্বপ্ন দেখছেন আনোয়ার

কাজী কামাল হোসেন, নওগাঁ:নওগাঁর রাণীনগরে প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষকরা রাসায়নিক সারের পাশাপাশি কেঁচো ও গোবর দিয়ে তৈরি জৈব সার উৎপাদন ও প্রয়োগে দিনদিন আগ্রহী হয়ে উঠছে। ফসলি জমিতে রাসায়নিক সার ব্যবহারে জমির উর্বরতা শক্তি বৃদ্ধি সহ শাক-সবজি, ফল-মূলের ফলনও ভাল হয়। ভার্মি কম্পোষ্ট সার উৎপাদন করে নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার কাশিমপুর ইউপি’র কুজাইল গ্রামের মৃত বদরুল আলমের ছেলে আনোয়ার হোসেন এখন সফলতার স্বপ্ন দেখছেন।

কৃষি জমিতে ব্যবহারিত ভার্মি কম্পোষ্ট সার কৃষি খাতে আরো সম্প্রসারিত ও নিজ পরিবারকে আর্থিক ভাবে সহযোগিতা করতে নিরলস চেষ্টা করে যাচ্ছে। এক দিকে কৃষি খাত অন্য দিকে নিজ পরিবারের পাশাপাশি বেকারত্ব ঘুসানোরও চেষ্টা করছেন তিনি। গরুর গোবর আর কেঁচো থেকে জৈব ভার্মি কম্পোষ্ট সার উৎপাদন করছেন আনোয়ার হোসেন। স্থানীয় কৃষি বিভাগের পরামর্শে গত ৬ মাস আগে সার উৎপাদনের কাজ শুরু করেন তিনি।

জানা গেছে, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে ও উপজেলা কৃষি অফিসের বাস্তবায়নে ন্যাশনাল এগ্রিকালচারাল টেকনোলজি প্রজেক্ট (এনএটিপি) এর আওতায় উপজেলার ৮ টি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে কমন ইন্টারেস্ট গ্রুপ (সিআইজি) প্রকল্পের মাধ্যমে ৬ টি সিআইজি কৃষক সমিতির মাধ্যমে প্রায় ২০ টির মত ভার্মি কম্পোস্ট প্রদর্শনী চলমান রয়েছে। সমিতির সদস্যরা কেঁচো সার উৎপাদনের উপর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে ভার্মি কম্পোষ্ট সার উৎপাদনে দিনদিন আগ্রহী হয়ে উঠছে। কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে কৃষকদের থাই কেঁচো দ্বারা পরিবেশ বান্ধব জৈব সার তৈরির সকল প্রকার উপকরণ বিনামূল্যে সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।

উপজেলার কাশিমপুর ইউনিয়নের কুজাইল গ্রামের কৃষক আনোয়ার হোসেন গত ৬ মাস আগে নওগাঁর যুব উন্নয়ন থেকে কেঁচো সংগ্রহ করে নিজের ফার্মের গরুর গোবর দিয়ে প্রাথমিক পর্যায়ে ভার্মি কম্পোষ্ট সার উৎপাদন শুরু করে। প্রথম দিকে অল্প পরিমাণ সার উৎপাদন হলেও তার কর্মকান্ড দেখে উপজেলার এনায়েতপুর ব্লকের উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা আহসান হাবিব রতন তাকে কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে পরামর্শ ও সহযোগিতায় আনোয়ার নিজ বাড়িতে ভার্মি কম্পোষ্টের প্রদর্শনী চালু করে। বর্তমান এখান থেকে স্বল্প পরিসরে স্থানীয় কিছু সবজি চাষি ও নার্সারী মালিকরা প্রতি কেজি ২০ টাকা দরে জৈব সার নিয়ে যাচ্ছে। আর একটু সরকারি পর্যায় থেকে সহযোগিতা পেলে ব্যবসার পরিধি আরো প্রসার ঘটানো যাবে। আনোয়ার হোসেনের জৈব সার উৎপাদন দেখে বেকার যুবকরা দিনদিন আগ্রহী হয়ে উঠছে। কৃষি অফিস থেকে থাই কেঁচো থেকে শুরু করে প্রদর্শনীর জন্য সকল প্রকার উপকরণ ও সার্বিক পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে। জৈব সার উৎপাদন এবং নিজের সবজি ক্ষেত থেকে শুরু করে ধান ক্ষেতে সার ব্যবহার সহ প্রদর্শনীতে উৎপাদনকৃত সার সমিতির কিছু সদস্যদের মাঝে বিতরণও করছে আনোয়ার হোসেন।

উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ এসএম গোলাম সারওয়ার জানান, ফসলী জমিতে রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমানো ও কৃষকদেরকে পরিবেশ বান্ধব কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহারে উদ্ধুদ্ধ করতেই সরকার এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বর্তমানে জৈব সার উৎপাদনের বিষয়টি উপজেলার কৃষকদের মাঝে ছড়িয়ে পড়াই চাষিরা ভার্মি কম্পোষ্ট সার ব্যবহারে আগ্রহী হয়ে উঠছে। আমরা কৃষকদের পরিবেশ বান্ধব জৈব সার ব্যবহারের পরামর্শ প্রদান করছি।